ছাত্রলীগ করার অপরাধে ফরিদগঞ্জে এক ছাত্রলীগ নেতার বাবা মাকে খুন, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে  মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ছাত্রলীগ নেতা কাউছারের বসতঘরে হামলা ও খুনের ঘটনা ঘটায় একদল মুখোশদারী সন্ত্রাসী। ২০২৪ সালে ততকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ছাত্রলীগ নেতা মো. কাউছার হোসেনের পরিবারের উপর এমন নির্মম ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানাযায়।

ঘটনার তদন্তে সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৩ নং সুবিদপুর (পূর্ব) ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ড লক্ষীপুর গ্রামে গত ১লা জানুয়ারি ২০২৫ ইং রাতে মুক্তিপনের টাকা দিতে না পারায় ছাত্রলীগ নেতা কাউছারের বাবা-মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। নিহতরা হলেন, ছাত্রলীগ নেতা কাউছারের বাবা মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও মাতা হাসিনা বেগম।

জানাযায়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কাউছার হোসেন।  সে তার নিজ গ্রাম লক্ষ্মীপুর ০৭ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর রাজনৈতিকভাবে ছাত্রলীগ নেতা কাউছার অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মত পলাতক ছিলেন। এ সুযোগে একদল সন্ত্রাসী চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছেন।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের স্বাক্ষ্য মতে আরো জানা যায়, বিগত ০১ জানুয়ারী ২০২৫ ইং রোজ বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬.০০ ঘটিকার সময় এক দল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মোঃ কাউছার হোসেন (২৬) এর বাড়ীতে প্রবেশ করেন। এ সময় তার বাড়ীতে তার বয়স্ক বাবা-মা ছিলেন। গ্রামবাসীর ভাস্যমতে সন্ত্রাসীগোষ্ঠীরা মোঃ কাউছার হোসেন (২৬) এর কাছ থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ ০২ কোটি টাকা মুক্তিপন দাবী করে আসছেন। যদি টাকা না দেওয়া হয় তাহলে তাকে দেশে বসবাস করতে দিবেনা এবং তার পুরো পরিবারকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। ঘটনার দিন সন্ত্রাসীগোষ্ঠীরা বাড়ীতে প্রবেশ করার পর কাউছার হোসেন কোথায় আছে জানতে চায়। এক পর্যায়ে তাকে বাড়ীতে না পেয়ে তার বাবা-মাকে এলোপাতাড়ী মারতে থাকে এবং গালাগালি করতে থাকে।

এসময় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীরা দুই কোটি টাকা দেওয়ার জন্য বলপ্রয়োগ করেন। এতে কাউছার হোসেনের বাবা-মা টাকা দিতে অস্বীকার এবং ছেলের খবর দিবেনা বললে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী তাদের হাতের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘর বাড়ী ভাংচুর ও তার মায়ের নাক, কান এবং গলা থেকে স্বর্ণ ও ঘর থেকে নগদ ৫,০০,০০০/-( পাঁচ লক্ষ) টাকা নিয়ে নেয়। এসময় কাউছারের বাবা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বাধাঁ দিতে গেলে তাকে ও তার স্ত্রী’কে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারী কুপিয়ে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখে। এলাকাবাসীর চিৎকারে এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী তাদের বসত ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে গ্রামবাসী ও আশপাশের লোকজন এসে ছাত্রলীগ নেতা কাউছার হোসেনের বাবা-মাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের দু’জনকে কয়েকদিন আইসিউতে রাখা হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিগত ০৭/০১/২০২৫ ইং তারিখে তার পিতা এবং বিগত ১০/০১/২০২৫ ইং তারিখে তার মাতা হাছিনা বেগম হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

এলাকাবাসী ও আশে পাশের লোকদের সহযোগীতায় বিগত ১৩/০১/২০২৫ ইং তারিখে কয়েকজন আসামীদের নাম ঠিকানা শনাক্ত করে প্রায় ০৬ (ছয়) জনকে আসামী করে মোঃ কাউছার হোসেন (২৬) ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মোকাদ্দমা দায়ের করেন, যাহার মোকাদ্দমা নং- ২৭৫/২০২৫। নিজের জীবনের নিরাপত্তার উপর হুমকি পেয়ে  ছাত্রলীগ নেতা মোঃ কাউছার হোসেন থানায় আরো একটি সাধারণ ডায়েরী দায়েন করেন।

এই বিষয়ে স্থানীয় শারাফতউল্ল্যাহ, আব্দুল মমিনসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে কথা বললে তারা জানান, সরকার পতনের পর কয়েক মাস যাবৎ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ কাউছার হোসেন এর নিকট থেকে ২ কোটি টাকা দাবি করেন কিছু সন্ত্রাসীগোষ্ঠী। মোঃ কাউছার হোসেনের পরিবার টাকা দিতে অস্বাকীর করার কারনে সন্ত্রাসীগোষ্ঠী এমন ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়।

এছাড়াও তারা আরো বলেন, কাউছার মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়েছেন। এ বিষয়ে এলাকাবাসী তাদের গ্রামের মেইন সড়কে সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের দাবীতে  মানববন্ধন করেন।  এই ঘটনার পর থেকে ঐ গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে সব সময় ভয় এবং আতংক কাজ করে আসছে। স্থানীয়দের একটাই চাওয়া অতি দ্রুত আসামীদের সনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা।

উক্ত বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাও. শারাফতউল্ল্যাহ বলেন, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি। আওয়ামী লীগ সরকার যাওয়ার পর থেকে কিছু দুস্কর্ম সন্ত্রাসী চাঁদা বাজিতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। ছাত্রলীগ করার অপরাধে কাউছার হোসেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়ে বাবা মাকে হারিয়েছেন। আমরা প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক বিচার চাই।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা কাউছার হোসেন কোন ভাবে দেশে থাকা নিরাপদ নয় বলে দাবি করেন তার আত্নীয় স্বজনরা।

এমন নির্মম ঘটনার বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রি.

You might like