

পঞ্চগড়ের মহারাজা দিঘীতে ভেসে ওঠা যুবকের লাশের রহস্য উদ্ঘাটন, আপন বোন গ্রেফতার
মোঃ এনামুল হক, পঞ্চগড় প্রতিনিধি :
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতরগড় এলাকার মহারাজা দিঘীতে ভেসে ওঠা যুবকের লাশ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের আপন বড় বোন মোছা. সমলা আক্তার (২৪)কে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ১৫ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ১ নম্বর অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় গ্রামের মহারাজা দিঘীতে স্থানীয়রা এক অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ পানিতে ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডির ফরেনসিক টিম এবং পিবিআই ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি সদর উপজেলার মালাদাম এলাকার বাসিন্দা মো. মানিক হোসেন (১৯), রইস উদ্দীনের ছেলে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পরে নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা ঘটনাটির রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের কোমরে পলিথিনে মোড়ানো একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। সেই চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে নিহতের বড় বোন সমলা আক্তারের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একই ধরনের লেখা সম্বলিত একটি ক্যালেন্ডার জব্দ করা হয়।
এরপর সমলা আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সমলা আক্তার জিজ্ঞাসাবাদে জানান, নিহত মানিক তার আপন ছোট ভাই। কয়েক মাস আগে মানিক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং গোপনে ভিডিও ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন তাকে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করত। বিষয়টি তিনি কারও কাছে বলতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি তার স্বামীকে বিষয়টি জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই সমলা আক্তার কৌশলে মানিককে মহারাজা দিঘী এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে খাবারের পানিতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানোর পর রাতে দিঘীর পশ্চিম পাড়ে নিয়ে যান। পরে মানিকের মোবাইল ফোন পানিতে ফেলে দেন এবং আগে থেকে লেখা একটি চিরকুট তার কোমরে গুঁজে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর অন্য একজন ব্যক্তি মানিককে হত্যা করে মরদেহ দিঘীর পানিতে ফেলে দেয় বলে সমলা আক্তার স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে নিহতের ব্যবহৃত দ্বিতীয় একটি বাটন ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সমলা আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। তবে মামলার তদন্ত এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

















