মানুষের আর কোনো মূল্য নেই—এই কি আমার সেই বাংলাদেশ?

সম্পাদকীয় ..

এক সময়ের বাংলাদেশ ছিল মানবিকতা, সহমর্মিতা ও মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক। প্রতিবেশীর দুঃখে চোখ ভিজতো, অপরিচিতের বিপদে এগিয়ে আসতো মানুষ। কিন্তু আজ যেন সেই চিত্র পাল্টে গেছে। এখন প্রশ্ন জাগে—মানুষের আর কোনো মূল্য আছে কি? এই কি আমার সেই বাংলাদেশ?

নগরায়ন ও মূল্যবোধের অস্থির সংকট : নগরায়নের ছোঁয়ায় আমরা পেয়েছি উঁচু ভবন, প্রযুক্তির অগ্রগতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। কিন্তু হারিয়েছি কিছু অমূল্য সম্পদ—মানবিকতা, সহানুভূতি, এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা। রাস্তায় দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে সাহায্য করার বদলে ভিডিও করা হয়। হাসপাতালের বেডে রোগী মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে, অথচ চিকিৎসা পেতে হয় ঘুষ দিয়ে।

আর আজকের দিনে (১১-৭-২৫ খ্রি.) সারাদেশে প্রায় ৫জন মানুষকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার মিরপুর গ্রামে মরদেহ উদ্ধার, চাঁদপুর শহরে ইমামকে, মতলবে বৃদ্ধকে খুন, খুলনায় যুবদল নেতাকে, পুরাণ ঢাকায়ও যুবদলের কর্মীকে খুন করা হয়েছে অত্যন্ত নির্মমতার সাথে।

 অর্থই কি একমাত্র মানদণ্ড?

আজকের সমাজে মানুষের মূল্যায়ন হয় তার আয়, পদবি, গাড়ি বা বাড়ির আকার দেখে। চরিত্র, সততা, নৈতিকতা—এসব যেন বিলুপ্তপ্রায় শব্দ। একজন রিকশাচালক, একজন কৃষক, একজন গার্মেন্টস শ্রমিক—তাদের শ্রমে দেশ চলে, কিন্তু তাদের জীবনের মূল্য কতটুকু? রাস্তায় বেরুলেই খুনীদেরকে দেখা যায়, মব উল্লাসে মেতে মানুষকে খুন করা এখন সামান্য কিছু সময়ের বিষয় মাত্র।

একটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালে ক্ষতিপূরণ হয় মাত্র কয়েক লাখ টাকা। অথচ একটি বিলাসবহুল গাড়ির ক্ষতিপূরণ হয় কোটি টাকা। এই বৈষম্যই বলে দেয়, মানুষের জীবন কতটা সস্তা হয়ে গেছে।

গাফিলতিতে মৃত্যু, দায়হীনতা

রানা প্লাজা ধস, সিদ্দিকবাজার বিস্ফোরণ, হাসপাতালের আগুন—প্রতিটি ঘটনার পর আলোচনা হয়, সুপারিশ তৈরি হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। আবার ঘটে নতুন দুর্ঘটনা, আবার হারায় প্রাণ। রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান, নাগরিক—কেউই যেন দায় নিতে চায় না। তাছাড়া মব তৈরি করে নিরীহ মানুষকে খুন করা হয় তারও কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া নেই। শুধু বড় বড় বুলি আওড়িয়েই খালাস। কাজের কাজ কিছুই হতে দেখা যায় না।

মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণ

– শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিকতা শেখানো হয় না, শেখানো হয় প্রতিযোগিতা।
– রাজনীতিতে আদর্শের জায়গায় এসেছে ক্ষমতা ও স্বার্থ। লোভী ও অহঙ্কারীদের দেখা যায় সর্বত্র।
– মিডিয়ায় প্রচার হয় বাহ্যিক সাফল্য, অন্তর্নিহিত গুণ নয়।
– পরিবারে সময়ের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে নৈতিক শিক্ষা, ইসলামী মূল্যবোধ এখন আর চর্চা হয় না তেমন একটা।

উত্তরণের পথ

এই অবক্ষয় রোধে প্রয়োজন সামগ্রিক মূল্যবোধের পুনর্জাগরণ, কোরআন বুঝা ও তদানুযায়ী আমল করা। রাষ্ট্রের নীতিতে, শিক্ষার পাঠ্যক্রমে, মিডিয়ার বার্তায়, পারিবারিক আলোচনায়—মানুষের মর্যাদা ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরতে হবে।

– শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে নৈতিকতা ও সহমর্মিতা। কোরআন পাঠে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কারণ কুরআনই সমাজের এই বিচিত্র চিত্র পাল্টে দিতে পারে।
– আইনের কঠোর প্রয়োগে নিশ্চিত করতে হবে মানুষের নিরাপত্তা।
– মিডিয়াকে দায়িত্ব নিতে হবে মানবিক বার্তা ছড়াতে।
–  পরিবারে সময় দিতে হবে সন্তানদের ইসলামী প্রকৃত মূল্যবোধ শেখাতে, যাতে তারা বুঝতে পারে মানুকে কী করতে হবে, আর কী কী করা যাবে না। অন্যায় করা যাবে না, জুলুম করা যাবে না, হত্যা করা যাবে না, নেশা করা যাবে না, চুরি-ডাকাতি করা যাবে না, অসৎ কাজ করা যাবে না, জেনা ব্যাভিচার করা যাবে ইত্যাদি।

শেষ কথায় প্রত্যাশা

বাংলাদেশের ইতিহাস মানবিকতার ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধ, দুর্যোগ, সংগ্রাম—সবসময় মানুষ মানুষের পাশে ছিল। আজও সেই চেতনা জাগ্রত করা সম্ভব, যদি আমরা চাই। মানুষের মূল্য ফিরিয়ে আনতে হলে, আমাদেরকেই শুরু করতে হবে কোরআনের সঠিক শিক্ষার বাস্তবায়ন, যাতে মানুষ আল্লাহর ভয়ে অসৎ ও অন্যায় কাজে লিপ্ত না হয়।

এই বাংলাদেশকে আবার সেই বাংলাদেশে রূপান্তর করতে হলে, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার চোখ ফিরিয়ে আনতে হবে।

শনি বার, ১২ জুলাই ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy