অন্ধকার : ক্ষুদীরাম দাস

অন্ধকার শব্দটি শুনলেই আমরা অনুভব করি যে, যেখানে আলো নাই এবং আলোর অভাবে কিছুই দেখতে পাওয়া যায় না। অন্ধকার শব্দের কিছু সমার্থক শব্দ হলো: আঁধার, তিমির, তমসা, তমিস্র। এটি দৃশ্যমান আলোর অনুপস্থিতি বা কম আলো থাকার অবস্থাকে বোঝায়। এছাড়াও, অন্ধকার শব্দটি হতাশাজনক বা মন্দ অনুভ‚তি প্রকাশ করতেও ব্যবহৃত হতে পারে। আত্মীকভাবে পাপময় জীবনকেও অন্ধকার জগত হিসেবে গণ্য করা হয়। তাছাড়া সাধারণভাবে রঙের জগতে এটাকে কালো বলে উপস্থাপন করি। অন্ধকার” শব্দটি বাংলা ভাষায় “darkness” বা “gloom” এর প্রতিশব্দ। এর অর্থ হলো আলোর অভাব বা যেখানে আলো নেই। সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অন্ধকারকে ছায়া, মন্দ এবং আসন্ন বিপদ রূপে প্রকাশ করা হয়। আর আত্মীকভাবে অন্ধকারের বিবরণ আরো ব্যাপক ও ভয়াবহরূপে প্রকাশিত; আর ঈশ্বরই অন্ধকার হতে দীপ্তি পৃথক করেছিলেন (আদি ১:৪)।

ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলো পৃথক করলেও জগতের মানুষ অন্ধকারেই বসবাস করতে বেশি আগ্রহী। সেই অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনতেই যীশু জগতে এসেছিলেন। যীশু জগতে আসায় আমরা আলো দিশা খুঁজে পেয়েছি। কিন্তু এখনো অনেক মানুষ অন্ধকার জগতে রয়ে গেছে। তাছাড়া সমাজের প্রান্তিক বা অন্ধকার জগতের সাথে জড়িত মানুষরা এখনো দূরে রয়ে গেছে। আর এটি এমন একটি জগৎ যেখানে অপরাধ, মাদকাসক্তি, দারিদ্র্য বা অন্য কোনো নেতিবাচক পরিস্থিতির শিকার মানুষরা বাস করে। আবার অপরাধমূলক কর্মকাÐে জড়িত বা মাদকাসক্ত তারাও অন্ধকারে আছে। অপরদিকে যারা সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে, যেমন বস্তিতে বসবাসকারী মানুষ, পথশিশু, বা পতিতাবৃত্তিতে নিয়োজিত নারীরা, তাদের বোঝাতেও আমরা অন্ধকারে তারা রয়েছে বলে ধরে নিতে পারি। আবার মানুষের যা’ জীবনের কঠিন দিক বা মানসিক কষ্টের প্রতীক। যারা জীবনের কঠিন পরিস্থিতির শিকার এবং হতাশায় নিমজ্জিত তারাও অন্ধকারে রয়েছে। আর তারা যীশুর শান্তি এখনো পায়নি।

আমরা কেউ কেউ অন্ধকার পছন্দ করি না বা আমাদের জীবনে অন্ধকার প্রত্যাশা করি না। আর আলোকে অন্ধকার বা পরিবতন করার ক্ষমতা ঈশ্বরের রয়েছে। সদাপ্রভুর আদেশে মিশর দেশ অন্ধকার হয়েছিলো (যাত্রাপুস্তক ১০:২১)। আমরা জানি, মানুষের জীবনে অন্ধকারে থাকতে থাকতে একসময় সেখান থেকে বাঁচতে চেষ্টা করে। আমরা জানি, নিজেকে নিঃশেষ করে, অন্যের অন্ধকার দূর করাই মোমবাতির সৌন্দর্য। ঠিক তেমনই, কিছু মানুষও নিজের কষ্টের কথা লুকিয়ে রেখে অন্যকে হাসি ও আশার আলো দেয়, তারা যেন জীবন্ত মোমবাতি। অন্ধকার কখনোই মানুষকে ডাকে না; বরং মানুষই অন্ধকারকে প্রশ্রয় দেয়। তখনি অন্ধকার মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। মানুষ তখন সম্পূর্ণ অন্ধকারকে বিশ্বাস করতে শুরু করে দেয় এবং সে জীবনে বসবাস করে। মানুষের উচিৎ অন্ধকার মন থেকে মুছে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে চলা। মানুষের উচিত অন্ধকার নিঃশেষিত করা (ইয়োব ২৮:৩)। আর অন্ধকারের বিরুদ্ধাচরণ না করলে অন্ধকার দূর হবে না কখনো (গীত ১০৫:২৮)। কেউ কেউ এ অন্ধকারকেই সাদরে গ্রহণ করে; কারণ ক্ষণিকের আনন্দ ও ভালো লাগা তাদের চেপে ধরে। মানুষের সীমাহীন অবাধ্যতা ও পাপের কারণেই মানুষের জীবনে অন্ধকার নেমে আসে। আর তারা ঈশ্বর হতে দূরে থাকে (ইয়োব ৩:৪) এবং তারা দীপ্তি হতে বহুদূরে অবস্থান করায় ঈশ্বরের সাথে তাদের সম্পক থাকে না। শয়তান সবসময় মানুষকে বিপদগামী করে অন্ধকারে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। সে চায় মানুষ যেন পাপ কাজের মাধ্যমে তার ঈশ্বরের নৈকট্য অর্জন করতে না পারে এবং চিরস্থায়ী সেই স্বগের অধিবাসী হতে না পারে। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে মানুষ যেসব পাপ করে এর ঈশ্বরই শাস্তি দেবেন। এছাড়া জাগতিক জীবনেও বিভিন্ন ধরনের সঙ্কট নেমে আসে। পাপের কুপ্রভাবে মানুষের খাদ্য, সম্পদ, সুযোগ-সুবিধা এবং ঈশ্বর প্রদত্ত অনুগ্রহসহ জীবনের জন্যে প্রয়োজনীয় সবকিছু; এমনকি শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এসবেও সঙ্কীর্ণতা নেমে আসে। শয়তানের প্ররোচনায় যারা পাপে অভ্যস্ত হয়, দরিদ্রতা তাদের গ্রাস করে নেয়। ঈশ্বরের সঙ্গে যখন কোনো ব্যক্তির সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হয় তখন সে একাকীত্বে ভোগে, শূন্যতা অনুভব করে। অন্তরে অন্ধকার অনুভ‚ত হয়। মানুষ রাতে যেমন অন্ধকার অনুভব করে, পাপী ব্যক্তিও নিজ অন্তরে অনুরূপ অন্ধকার অনুভব করে। কেননা পাপ কাজ করা অন্যায়। কারণ, পাপ মানুষকে সঙ্কীর্ণমনা করে দেয়। পাপের কারণে পরকালের শাস্তি ছাড়াও পার্থিব জীবনেও সঙ্কট নেমে আসে। তাদের জীবনে অশান্তি ও গøানির সৃষ্টি করে। আর শয়তান সবসময় মানুষকে বিপদগামী করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকে। শয়তান চায় মানুষ যেন চিরস্থায়ী নরকের অধিবাসী হয় (ইয়োব ৩:৫)। ঈশ্বরের প্রত্যেকটি দিন পবিত্র ও দীপ্তি রয়েছে। সেখানে অন্ধকার থাকতে পারে না। তাই আমাদের অন্ধকার পরিত্যাগ করে দীপ্তিতে জীবনযাপন করা উচিত (আমোষ ৫:২০)। জীবনের অন্ধকার মুহূর্তগুলো শিখিয়েছে এই সময় নিজের ছায়াও সঙ্গ ত্যাগ করে। সেখানে মানুষের প্রতি আশা রাখা বড্ড বেমানান। জীবনের বাস্তবতা গল্পের মত সুন্দর হয় না কখনো।

মথি ৬:২৩ পদে রয়েছে, ‘কিন্তু তোমার চক্ষু যদি মন্দ হয়, তবে তোমার সমস্ত শরীর অন্ধকারময় হইবে। অতএব তোমার আন্তরিক দীপ্তি যদি অন্ধকার হয়, সেই অন্ধকার কত বড়!’ এখানে অন্তরের দৃষ্টিশক্তির কথা বলা হয়েছে। কারো দৃষ্টি যদি খারাপ হয়, অথবা মনে যদি খারাপ চিন্তা থাকে-এ অর্থে বলা হয়েছে; যেখানে চোখের মাধ্যমে মনের ভেতরের অবস্থাকে বোঝা যায়। সত্যিকারে চোখের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের খারাপ বা মন্দ চিন্তা, অথবা অসৎ উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়। কেউ যদি ঈর্ষান্বিত বা বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকায়, তবে তার সেই দৃষ্টির মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি হতে হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী, কুনজর ধারণকারী ব্যক্তি কেবল তাদের দিকে তাকালেই যে কাউকে আঘাত করতে পারে বা তাদের জীবনে দুর্ভাগ্য সৃষ্টি করতে পারে। কাজেই দৃষ্টির সংযমের উপর গুরুত্ব দেয়া উচিত। অতএব, খারাপ কিছু দেখা বা খারাপ উদ্দেশ্যে তাকানো থেকে বিরত থাকা আমাদের পবিত্রতা রক্ষার প্রধান উপায়। আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যে, কারো দিকে কুনজর বা খারাপ দৃষ্টিতে তাকানো, যা সাধারণত অশুভ কিছুর পরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করে। আবার মনে মনে কারো মনে খারাপ উদ্দেশ্য থাকা, যা তার চোখের চাহনিতেও প্রকাশ পেয়ে থাকে। তাছাড়া কারো প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে মন্দ দৃষ্টিতে তাকানোতে কুনজর দৃষ্টি স্পষ্ট হয়। কারো মনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে, তার চোখের দিকে তাকালে তা’ প্রকাশিত হয়ে যায়। এসবের কারণেই আমাদের অন্তর অন্ধকার হয়ে যায়। মানুষের দৃষ্টি বা চিন্তা-ভাবনা নেতিবাচক বা খারাপ হলে জীবন অন্ধকার হয়ে যায়। অন্যভাবে যদি বলা যায়, তাহলে মাানুষের ভেতরের চিন্তা-চেতনা তার চারপাশের জগৎকে প্রভাবিত করে। যদি এ দৃষ্টি বা উপলব্ধি নেতিবাচক হয়, তবে তার জীবনও নেতিবাচক বা অন্ধকার হয়ে যায়। আর এভাবেই একজন মানুষ সমাজে মন্দ কাজে জড়িয়ে যায় এবং অন্ধকারময় জীবনে বসবাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে আমাদের জীবনের অন্ধকার যে কতো বড় সেটা ভাবতেই আমাদের গা শিউরে উঠে। গোপনে কারো জীবনের ক্ষতি করা বা হক নষ্ট করা, কাউকে কষ্ট দেয়া, কারো অধিকার আত্মসাৎ করা, গোপনে খারাপ কাজে লিপ্ত হওয়া-সবই গোপন অপরাধের অন্তর্ভুক্ত অন্ধকারের কাজ। এভাবে অন্তর কলুষিত হয় এবং ঈশ্বরের আশীবাদ থেকে দূরে সরে যায়। যে কোনো আধ্যাত্মিক পথেই সৎ কর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবসেবা এবং ভালো কাজ করার মাধ্যমে আমরা আমাদের অন্ধকার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারি। অন্যদের সাহায্য করা, দয়া প্রদর্শন করা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোÑএ সব কাজ অন্তরের উন্নতির জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও তৃপ্তি এনে দেয় এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে। মনের অন্ধকার দূর করার জন্যে নিজের আচরণ এবং মনোভাবের ওপর বিচার করা খুবই জরুরি। যখন আমরা আমাদের ভুল এবং অপ্রস্তুত মনোভাবগুলো চিহ্নিত করি, তখন আমাদের অন্তরের শুদ্ধি ও উন্নতি সহজ হয়। আত্মসমালোচনা এবং সতর্কতা আমাদের নতুনভাবে চিন্তা করতে সাহায্য করে এবং আমাদের অন্তরের অন্ধকার দূর করে (আদিপুস্তক ১:১৮)। ধর্মীয় প্রার্থনা, যা সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়, আমাদের আধ্যাত্মিক চেতনা গভীর করে এবং রআত্মাকে শুদ্ধ করতে সহায়তা করে। প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করি, যা’ আমাদের জীবনকে একটি সুন্দর দিশা দেয়। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে এবং মনে শান্তি আনে। অতএব, আমাদের আত্মার শুদ্ধির জন্যে, আমাদের বিবেককে উন্নত করা প্রয়োজন। বিবেক আমাদের মনের সেই অংশ, যা’ আমাদের ভালো-খারাপ কাজের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। এ বিবেকের উন্নতির জন্যে, সৎ চিন্তা এবং নৈতিক মনোভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যখন সত্যকে অনুসরণ করি এবং ন্যায়ের পথে চলি, তখন আমাদের আত্মা পরিশুদ্ধ হয়। তাছাড়া শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, আমাদের আত্মার উন্নতি সমাজের মধ্যে প্রতিফলিত হতে হবে। একটি ভালো সমাজে, যেখানে সবাই তার আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং শুদ্ধতার দিকে মনোযোগ দেয়, সেখানে শান্তি, সহানুভ‚তি, এবং সামগ্রিক সুখ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে, আমাদের মন থেকে অশান্তি ও ক্ষোভ দূর হয়ে শান্তি ও আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। সংযম বা আত্মসংযম রুহের শুদ্ধির জন্য অপরিহার্য। এটি মনের নিয়ন্ত্রণ, অশুদ্ধ বাসনা ও ইচ্ছাকে সংযত রাখার মাধ্যমে অর্জিত হয়। শুদ্ধতা এবং আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে আত্মসংযম সহায়ক ভ‚মিকা পালন করে, যা মানুষের আধ্যাত্মিক উন্নতির পথকে পরিষ্কার করে এবং নিজেদের অন্ধকারময় জীবন থেকে রক্ষা করে।

অন্ধকার ও দীপ্তির মধ্যবর্তী সীমা রয়েছে (ইয়োব ২৬:১০)। যেমন জীবনের বিভিন্ন পর্যায়,সুখ ও দুঃখ, আশা ও হতাশা, জ্ঞান ও অজ্ঞানের মধ্যেকার অবস্থাকেও বোঝাতে পারি। যেখানে একটির প্রভাব পুরোপুরি শেষ না হতেই অন্যটির আগমন শুরু হয়। ভালো ও মন্দের দ্ব›দ্ব, অথবা সচেতন ও অবচেতন মনের মধ্যেকার অবস্থা। সুতরাং, আলো ও অন্ধকারের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের মধ্যেকার পরিবর্তনশীল অবস্থাকে আমরা বলতে পারি। আর যারা অন্ধকারে বসবাস করে বিষ উৎপাদন করাই তাদের কাজ। তাই আলোকিত জীবন পেতে হলে, আমাদের অন্তরের অন্ধকার দূর করতে হবে। অন্তরের অন্ধকার ও কদর্যতা মানুষকে খারাপ করে দেয়। সবসময় নিজের জন্যে বিপদই ডেকে নিয়ে আসে। তারা বীজ বপন করলে তা’ থেকে কাঁটা ফোটে। তারা কাউকে ভালোবাসলেও সে মানুষটা সাপে পরিণত হয়। তাদের হাতের গোলাপও কাঁটাতে পরিণত হয়। কারণ, তাদের অন্তর কদর্য ও অন্ধকার। ২ শমূয়েল ২২:২৯ পদে রয়েছে, ‘হে সদাপ্রভু, তুমি আমার প্রদীপ; সদাপ্রভুই আমার অন্ধকার আলোকময় করেন।’ কাজেই অন্তরের অন্দকার দূর করতে হলে আমাদের সদাপ্রভুর কাছেই আসতে হবে। (গীতসংহিতা ১৮:২৮) সত্যিই ঈশ্বরই অন্ধকার সময়েও পথ দেখান এবং তাঁর অনুগ্রহে জীবন আলোকিত হয়। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে, যখন সবকিছু অন্ধকার মনে হয়, তখনও ঈশ্বর তাঁর অনুগ্রহে পথ দেখান এবং জীবনকে আলোকিত করেন। ঈশ্বরকে প্রদীপ আমাদের পথ দেখায়। অতএব, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং তাঁর অনুগ্রহের উপর গভীর আস্থা রাখা উচিত। সদাপ্রভুই হলেন আলোর উৎস, যা ছাড়া পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আমাদের জীবনের দিকনির্দেশনার জন্যে খুবই জরুরি (গীত ৪৩:৩)। আধ্যাত্মিক আলো এবং জীবনের মধ্যে যে-ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গীত ৩৬:৯ পদে রয়েছে, ‘তোমারই কাছে জীবনের উনুই আছে; তোমারই দীপ্তিতে আমরা দীপ্তি দেখিতে পাই।’ ঈশ্বর বলেছেন, ‘অন্ধকারের মধ্য হইতে দীপ্তি প্রকাশিত হইবে।’” আর আমরা খ্রীষ্টখ্রীষ্টকে আলোকিত জীবনের জন্যে পেয়েছি। অতএব, ঈশ্বরই আমাদের হৃদয়ে দীপ্তি প্রকাশ করিলেন, যেন যীশু খ্রীষ্টের মুখমÐলে ঈশ্বরের গৌরবের জ্ঞান-দীপ্তি প্রকাশ পায় (২ করিন্থীয় ৪:৬)। আমরা যদি অন্ধকারে না চলে ঈশ্বরের আলোয় চলতে চাই, তাহলে বাইবেলে লেখা যীশুর সমস্ত কথা আমাদের শুনতে হবে এবং তাঁর উদাহরণ ও শিক্ষাগুলো নিখুঁতভাবে মেনে চলতে হবে। যীশু তাঁর মৃত্যুর কয়েক দিন আগে আবারও নিজেকে জ্যোতি বলে উল্লেখ করে শিষ্যদেরকে বলেছিলেন: ‘আর অল্প কালমাত্র জ্যোতি তোমাদের মধ্যে আছে। যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, যাতায়াত কর, যেন অন্ধকার তোমাদের উপরে আসিয়া না পড়ে; আর যে ব্যক্তি অন্ধকারে যাতায়াত করে, সে কোথায় যায়, তাহা জানে না। যাবৎ তোমাদের কাছে জ্যোতি আছে, সেই জ্যোতিতে বিশ্বাস কর, যেন তোমরা জ্যোতির সন্তান হইতে পার।’
জীবন চলার পথে অনেক বাধা আসবে, অনেক অন্ধকার পথ আপনার সামনে হাজির হবে। কিন্তু মনে রাখা উচিত, প্রতিটি অন্ধকারের শেষে সূর্যের আলো অপেক্ষা করে। কখনো হাল ছেড়ে দেবেন না। ঈশ্বর আমাদের সব সময় পরীক্ষা নেন, কিন্তু তিনি কখনো আমাদের ছেড়ে যান না। বিশ্বাস রাখুন, ধৈর্য ধরুন আর ঈশ্বরের ওপর সমস্ত কিছু ছেড়ে দিন। তিনি আপনাকে ঠিক সেই পথ দেখাবেন, যেখানে আপনার সুখ ও শান্তি লুকিয়ে আছে (২ শমূয়েল ২২:১০)। প্রতিদিনের ছোট ছোট সুখকে উপভোগ করুন। প্রার্থনা করুন ঈশ্বরের কাছে, তাঁর আশীর্বাদ সবসময় আপনার সঙ্গে রয়েছে। আজ যে কষ্ট পাচ্ছেন, তা একদিন জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষায় পরিণত হবে। ভালোবাসা ছড়িয়ে দিন, শান্তি খুঁজে নিন এবং নিজেকে সবসময় ইতিবাচক রাখুন। ঈশ্বরের অনুগ্রহে সব অসম্ভব সম্ভব হয়ে যায়। আর আশা হচ্ছে জীবনের এক অনন্য আলো, যা অন্ধকারে পথ দেখায়। কঠিন সময়ে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি অন্ধকার রাতের পরে নতুন সূর্যোদয় হয়। সত্যিকারে আমাদের পাপ কাজের কারণেই আমরা অন্ধকারে থেকে আলোর সন্ধ্যান পাই না (ইয়োব ২২:১১)। ্অন্ধকার আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখে। আর অন্ধকারের জীবনযাপনের কারণে ঈশ্বর অখুশি হয়ে থাকেন এবং তিনি আমাদের হতে তার মুখ লুকিয়ে রাখেন (ইয়োব ২৩:১৭)। আর এমন পরিস্থিতিতে আমাদের কঠিন অবস্থার মধ্যদিয়ে আমাদের যেতে হয়। অতএব, আমাদের ঈশ্বরের উপরই ভরসা করতে হবে। প্রেরিত যোহন ১ যোহন ১:৫ পদে লিখেছেন: “ঈশ্বর জ্যোতি, এবং তাঁহার মধ্যে অন্ধকারের লেশমাত্র নাই।” আমরা জানি, ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে কোনো কিছুই দেখা সম্ভব নয়। একজন ব্যক্তি খুব সহজেই পথ হারিয়ে ফেলতে বা বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে, যারা আধ্যাত্মিক অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে তাদের বোঝার ক্ষমতা না থাকায় খুব শীঘ্রিই আধ্যাত্মিক অর্থে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তারা মিথ্যা থেকে সত্যকে এবং ভাল থেকে মন্দকে আলাদা করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। যারা এইধরনের অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে, তাদের সম্বন্ধে উল্লেখ করে ভাববাদী যিশাইয় লিখেছিলেন: “ধিক্ তাহাদিগকে, যাহারা মন্দকে ভাল, আর ভালকে মন্দ বলে, আলোকে আঁধার, ও আঁধারকে আলো বলিয়া ধরে, মিষ্টকে তিক্ত, আর তিক্তকে মিষ্ট মনে করে (যিশাইয় ৫:২০)। যারা আধ্যাত্মিক অন্ধকারে থাকে তারা অন্ধকারের দেব, শয়তান দিয়াবলের দ্বারা প্রভাবিত হয় আর এর ফলে শেষ পর্যন্ত তারা আলো ও জীবনের উৎস থেকে দূরে সরে যায় (ইফিষীয় ৪:১৭-১৯)। আর অন্ধকারের মানুষ সবসময় অন্ধকারেই চলতে ও পাপকাজ করতে ভালোবাসে (যিহোশূয় ২:৫)। কিন্তু ঈশ্বরই তার সন্তানকে অন্ধকার হতে পৃথক করে দীপ্তিতে নিয়ে আসেন (আদিপুস্তক ১:৪)। কেননা তা’ করতে ঈশ্বরের ক্ষমতা রয়েছে। অন্ধকারের প্রতি অন্যায়কারীদের যে আকর্ষণ রয়েছে, সে সম্বন্ধে ‘পারদারিকের চক্ষুও সন্ধ্যাকালের অপেক্ষা করে; সে বলে, কাহারও চক্ষু আমাকে দেখিতে পাইবে না; আর সে আপন মুখ অচ্ছাদন করে। (ইয়োব ২৪:১৫)।’ এ ছাড়াও, অন্যায়কারীরা আধ্যাত্মিক অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং এ অন্ধকার অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। প্রেরিত পৌল বলেছিলেন যে, যারা অন্ধকারে থাকে তাদের কাছে যৌন অনৈতিকতা, চুরি, লোভ, মাতালামি, গালিগালাজ ও পরের সম্পত্তি আত্মসাৎ করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কিন্তু যে-কেউ ঈশ্বরের বাক্যের আলোতে আসেন, তারা বদলাতে পারেন। এইধরনের পরিবর্তন যে সম্ভব, তা পৌল করিন্থীয়দের কাছে লেখা তার চিঠিতে পরিষ্কার করে দিয়েছেন। অনেক করিন্থীয় খ্রীষ্টানরা আগে অন্ধকারে কাজগুলো করতেন অথচ পৌল তাদেরকে বলেছিলেন: ‘কিন্তু তোমরা প্রভু যীশু খ্রীষ্টের নামে ও আমাদের ঈশ্বরের আত্মায় আপনাদিগকে ধৌত করিয়াছ, পবিত্রীকৃত হইয়াছ, ধার্ম্মিক গণিত হইয়াছ (১ করিন্থীয় ৬:৯-১১)। প্রকৃতপক্ষে অন্ধকারেই অনেক কিছু ঘটে যায়, যা’ ঈশ্বর সবই জানেন (আদিপুস্তক ১৫:১৭) এবং আমাদের রক্ষা করবেন।

অধিক ধন-সম্পদ অনেকসময় আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করে না। জগতের অনেকেই আছে এতো বেশি ধন-সম্পত্তির মালিক বনে গেছে যে, তারা অসৎ পথে পরিচালিত হচ্ছে। শয়তান তাদের পরিচালনা করছে। তাদের অন্তরে অন্ধকার জমে থাকে (ইয়োব ২০:২৬)। এজন্যে তারা একসময় ধ্বংস হয়ে যায়। পাপ মানুষের অন্তরকে মেরে ফেলে। মনে-কর্মে অবসাদ নিয়ে আসে। সবকিছুতে শূন্যতা ও একাকিত্ব অনুভব হয়। অন্ধকার স্থান করে নেয় অন্তরে। কোনো কিছুতেই ভালো লাগে না। কর্মে তৎপরতা ও চাঞ্চল্য থাকে না। ঈশ্বর থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যায় ও বিশ্বাসে দুর্বলতা চলে আসে। একজন ব্যক্তি যখন ঘুটঘুটে অন্ধকার থেকে আলোতে আসেন, তখন সেই আলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার কিছুটা সময় লাগে। বৈৎসৈদায় একজন অন্ধকে যীশু দয়া দেখিয়ে ধাপে ধাপে সুস্থ করেছিলেন (মার্ক ৮:২৩-২৫)। স্পষ্টতই, যীশু সেই লোকের দৃষ্টি ধীরে ধীরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, যাতে উজ্জ্বল সূর্যালোকের সঙ্গে সে মানিয়ে নিতে পারে। সেই ব্যক্তি যখন দেখতে পেয়েছিলেন, তখন তার কতটা আনন্দ হয়েছিল, তা আমরা কল্পনা করতে পারি। কিন্তু সেই ব্যক্তি যে আনন্দ পেয়েছিলেন, তার চেয়ে যাদেরকে আধ্যাত্মিক অন্ধকার থেকে ধাপে ধাপে সত্যের আলোতে নিয়ে আসতে সাহায্য করা হয়, তাদের আনন্দ আরও অনেক বেশি। (যোহন ৩:১৯, ২০) অনেকে অনৈতিকতা, অত্যাচার, মিথ্যা বলা, ঠকানো এবং চুরি করতে পছন্দ করে আর তারা যা করতে চায়, তার জন্য শয়তানের আধ্যাত্মিক অন্ধকারই হল উপযুক্ত জায়গা (যাত্রাপুস্তক ১০:১৫)। সত্যিকারে যারা পাপে নিমজ্জিত তারা আলো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্ধকারে পতিত হবে এবং তাদের জীবনের প্রদীপ নিভে যাবে ও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যাত্রাপুস্তক ১০:২২ পদে রয়েছে, ‘পরে মোশি আকাশের দিকে হস্ত বিস্তার করিলে তিন দিন পর্যন্ত সমস্ত মিসর দেশে গাঢ় অন্ধকার হইল।’ আমরা কেউই প্রত্যাশা করি না যে, আমাদের জীবন অন্ধকারময় হোক; আমাদের জীবনে যে প্রদীপ জ্বলছে তা’ যেন জ্বলন্ত অবস্থায় থাকে (ইয়োব ১৮:৬)।

ঈশ্বর অন্ধকারময় পরিস্থিতিতেও আমাদের সাহায্যে থাকেন। আমাদের বেঁচে থাকার জন্যে সমস্ত ব্যবস্থা করে দেন (যাত্রাপুস্তক ১৪:২০)। আলোকিত জীবন আমাদের সকলেরই প্রত্যাশা। আলোকিত জীবনের প্রত্যাশায় জন্ম থেকে মৃত্যু আমাদের প্রত্যেকের জন্যই নির্দিষ্ট কিছু মুহুর্তের সমষ্টি।সেই সমষ্টি আমাদের জানা নেই। জানা নেই কোথায় কখন কিভাবে ওপারের যাত্রায় আমাদের চোখ বন্ধ হয়ে যাবে। ক্ষণিকের এ জীবন যেন হেলায়-খেলায় কেটে না যায়। বরং আমাদের প্রতিটি মুহূর্তই কাটুক মহান ঈশ্বরের আনুগত্য-উপাসনায়। আজকাল দিন বদলের অনেক বুলি আমরা শুনতে পাই। ওদের চোখে-দিন বদল মানে অদ্ভুত রঙেঢঙে অবাধ্যতার মাঝে ডুবে থাকা। উন্মাদ হয়ে বিশ্বাস থেকে অবিশ্বাসে, আলো থেকে অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া। লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন খাম-খেয়ালি জীবন চলা। মনে যা আসে, তা-ই করা। কিন্তু যারা বিশ্বাসী, তারা উন্মাআদদের মন-চাহি স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয় না। ওদের নিষ্ফল জাঁকজমকতা দেখে মোহাবিষ্ট হয় না। কিন্তু কেউ কেউ অন্ধকার আশা করে ও সেখানে অবস্থান করতে ভালোবাসে (ইয়োব ১৫:৩০)। কিন্তু বাস্তবিক সাধারণভাবে অন্ধকার কখনো কখনো মানুষের উপকারেও আসে। কেননা অন্ধকার না হলে আলোর প্রয়োজন হয় না (দ্বিতীয় বিবরণ ৪:১১)। দিনশেষে অন্ধকার হলে আমরা ঘুমাতে প্রস্তুতি নিই। নিজেরা ও বাড়ির সবকিছু প্রস্তুত করি ও গুছিয়ে রাখি। কিন্তু আধ্যাত্মিকভাবে সেটার ব্যাখ্যা ভিন্ন ও গুরুত্বপূণ। যেমন অতিরিক্ত ধনসম্পত্তিতে লোভের কারণে মানুষ সঞ্চিত ধনে জীবন অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। মানুষ মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে-এমনও পরিস্থিতির কথা আমরা পবিত্রশাস্ত্রে দেখতে পাই (ইয়োব ২০:২৬)। অন্ধকারময় জীবনের কারণে আমাদের আনন্দ কান্নায় ভরে যায় (যিহোশূয় ২৪:৭)। তখন দীপ্তিও অন্ধকারের সমান হয়ে যায়। কেননা আমরা দীপ্তির অবস্থান বুঝতে পারি না। ইয়োব ১০:২২ পদে রয়েছে, ‘সেই দেশ ঘোর অন্ধকার, তিমিরময়, তাহা মৃত্যুচ্ছায়াব্যাপ্ত, পরিপাট্য-বিহীন, তথায় দীপ্তি অন্ধকারের সমান।’ কিন্তু ঈশ্বরই আমাদের রক্ষার ব্যবস্থা করেন (২ শমূয়েল ২২:১২)। আর ঈশ্বরের আশীবাদ যখন কারো জীবনে উপস্থিত হয়; তখন ‘তোমার জীবন মধ্যাহ্ন হইতেও বিমল হইবে। অন্ধকার হইলেও তাহা প্রভাতের ন্যায় হইবে (ইয়োব ১১:১৭)’। কিন্তু এজন্যে আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমরা অন্ধকার থেকে ফিরে আসতে পারি ঈশ্বরের দয়ায় (ইয়োব ১৫:২২)। ঈশ্বর আমাদের অন্ধকার হতে আলোতে নিয়ে আসেন যা জীবনের কষ্ট, দুঃখ, এবং অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মুক্তি ও জ্ঞান, শান্তি, এবং সত্যের আলোতে আসার ধারণা দেয়। ঈশ্বরকে পথ প্রদর্শক হিসেবে দেখা হয়, যিনি মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন জীবন থেকে আলোকময় জীবনে নিয়ে যান। উদাহরণস্বরূপ, ইসলাম ধর্মে “আল্লাহ্” শব্দটি “আলো” হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়, যিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে যান। “অন্ধকার” মানে অজ্ঞানতা, মোহ, এবং দুঃখ। “আলো” মানে জ্ঞান, মুক্তি, এবং আনন্দ। ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তা এই আলো দিতে পারেন, যা আত্ম-উপলব্ধি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির মাধ্যমে আসে। জীবনের বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতিতে, যখন মানুষ হতাশ বা দিকভ্রান্ত বোধ করে, তখন এই ধারণাটি সান্ত¡না ও অনুপ্রেরণা জোগায় যে, অন্ধকার কাটিয়ে আলোর পথে ফেরা সম্ভব। ইয়োব ১২:২২ পদে রয়েছে, ‘তিনি অন্ধকার হইতে নিগূঢ়তত্ত¡ প্রকাশ করেন, মৃত্যুচ্ছায়াকে আলোর মধ্যে আনয়ন করেন।’ আমেন।

সোমবার, ০৪ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ১৯ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

সোমবার, ০৪ আগস্ট ২০২৫
১৯ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

You might like

About the Author: priyoshomoy