হাজীগঞ্জে শ্রমিক নেতা জয়নাল ফ্যাসিস্টের ১৭ মামলা ও পায়ে বুলেটের ক্ষত নিয়ে বেড়াচ্ছেন

জহিরুল ইসলাম জয় :

ততকালীন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন জ্বালাও পড়াও রাজনৈতি করে প্রায় ১৭ টি মামলার আসামী এবং সর্বশেষ জুলাই আন্দোলনে গুলির খোসা পায়ে ক্ষত চিহ্ন নিয়ে আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন শ্রমীক নেতা মো. জয়নাল আবেদীন সর্দার। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড টোরাগড় গ্রামের সুলতান সরদার বাড়ির মৃত আব্দুল জব্বারের সন্তান মো. জয়নাল আবেদীন জুলাই আন্দোলনে আহত হওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত পায়ের ব্যথায় ভুগছে। পায়ের ব্যথার কারণে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার টাকার ইনজেকশন ফুস করতে হচ্ছে । তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক। পেশায় একজন পরিবহন শ্রমিক নেতা।

ছোট বেলা থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে ভালোবেসে রাজনীতি করে আসছেন। পৌর শ্রমীক দলের সাবেক সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সদ্য ঘোষিত হাজীগঞ্জ উপজেলা শ্রমীক দলের সিনিয়র যুগ্ন-আহবায়ক পদ পেয়েছেন। যদিও তার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই তুলনা আজ দল সেই ভাবে মূল্যায়ন করেনি। তার পরেও সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানান হাজীগঞ্জ শাহরাস্তি আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ইঞ্জি. মমিনুল হকসহ দলের নীতিনির্ধারকদের।

২০২৪ ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিতাড়িত করতে গিয়ে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেট, টিয়ারসেল ও লাঠিচার্জের সময় টিয়ার্সেলের একটি অংশ পায়ের আংগুলির মধ্যখানে পড়ার পর থেকে পায়ের মধ্যে পচনের মত ক্ষত সৃষ্টি হয়। ওই থেকে শুরু হয় চিকিৎসা প্রায় আজ পর্যন্ত ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও পায়ের ব্যথা সেরে ওঠেনি এই জুলাই যোদ্ধা।

জুলাই যোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন সরদার বলেন, আমি হাজীগঞ্জ পৌর শ্রমিক দলের আহ্বায়ক, ট্রাকো ও টেং লরির ২৪/২৪ এর সাগঠনিক, স্বৈরাচার আমলীগের আমলে ১৩ মামলার আসামি, জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার। জুলাই আন্দোলনে পায়েল দুই আঙ্গুলের মধ্যখানে সাউন্ড গ্রেনেট / টিয়ারসেলের একাংশ পড়ে গুরুতর আহত হই। ওই থেকে এখন পর্যন্ত আমি পায়ের ব্যথার জন্য হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯ মাসেও পায়ের ক্ষত চিহ্ন শুকায়নি, প্রতিনিয়ত নিতে হচ্ছে দুটি ইনজেকশন ১৫ শত টাকা করে ৩ হাজার টাকা দাম। অনেক কষ্টে যোগান দিতে হয় দৈনন্দিন ওষুধের টাকার। পরিবহন শ্রমিক হয়েও আমার পরিবার চলছে কোনরকম ডাল ভাত খেয়ে। দুই ছেলে এক মেয়ের ও স্ত্রী সহ পরিবারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। এরই মাঝে পায়ের অসুস্থতার জন্য চিকিৎসা ভার বহন করতে আমার হিমশিম খেতে হয়।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বলেন, চাঁদপুর জেলার প্রাণকেন্দ্র হাজীগঞ্জ হওয়ার কারণে জুলাই যুদ্ধের সময় একমাত্র হাজীগঞ্জের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। জীবন বাজী রেখে তারা যুদ্ধের ময়দানে নেমেছে স্বৈরাচার পতনের উদ্দেশ্যে। ওই সময় থেকে অনেকে আহত এবং ৪ জন নিহত হয়। কয়েকজনের মধ্যে আমাদের এই জুলাই যোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন সরদার সহ অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। নিহতের পাশাপাশি আহতদেরকে অসহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করি আমরা।

এ বিষয়ে জুলাই যোদ্ধা জয়নাল আবেদীন সর্দার বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে শ্রমীক দলের নেতা হিসাবে আন্দোলন সংগ্রামে দলবদ্ধভাবে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ১৭ টি মামলার আসামী হয়েছি। সেই হিসাবে দল আজ সুদিনে ঐ ভাবে মূল্যায়ন করেনি। তার পরেও আক্ষেপ নেই, আগামি নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।

প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন

প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy