সংবাদ সম্মেলন: ঝিকরগাছায় ১০ জামায়াত কর্মীর উপর যুবদলের হামলা

মালিকুজ্জামান কাকা :
যশোর-২:ঝিকরগাছা চৌগাছা আসনে ভোটারদের আস্থা সংকট শুরু হয়েছে। কীর্তিপুর ৫নং ওয়ার্ডে নারী প্রচার কারীদের উপর স্থানীয় যুবদলের নেতা কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ রবিবার প্রেস ক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এসময় জেলা ও উপজেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ ও এমপি প্রার্থীর অনুসারীরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় ৮৬ ও যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনিত ও ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

নির্বাচনি প্রচারে মহিলা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর ২৫ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীর নেতা-কর্মী সমর্থকেরা অতর্কিত আক্রমণ করে শারীরিকভাবে আহত করেছে। রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস, জোসনাসহ ১০ জন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামের সাধারণ নারীদের কাছে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে ভোট চাইলে গেলে নারী ভোট কর্মীদের ওপর নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘণ করে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা নারীদের গায়ে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেছে। তাদের লাঞ্ছিত করেছে। হাতে থাকা মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নিয়ে ভাংচুর করেছে। ভাংচুরকৃত মোবাইল ফোন সেট আক্রমণকারীরা নিয়ে গেছে। এমনকি নারীদের সাথে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগও ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। ব্যাগে টাকা, কাগজপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। এছাড়া নারীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। এরপর আবার ভোট চাইতে আসলে জীবন নাশের হুমকি প্রদানও করা হয়েছে। আহত নারী নেতা-কর্মীরা হলেন রাফিজা, নাসিমা, কামরুন্নাহার, তুলি, বিলকিস, জোসনাসহ ১০ জন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। আমরা ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। হামলাকারীরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদল সভাপতি আরাফাত রহমান কল্লোল, সবুজ, আহনাত, সোহাগসহ ১০-১৫ জন।

হামলাকারীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করে আমার ভোট কর্মীদের ওপর হামলা করে নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার পায়তারা করছে। তারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনি কর্মীদের এবং সাধারণ ভোটারদের ভয়, ভীতি, হুমকি ধামকি প্রদান করছে। এদিন তারা প্রকাশ্যে আক্রমণ করে বসে। তদন্ত পূর্বক হামলাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ঝিকরগাছা-চৌগাছার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বি ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীর রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন বিদ্যামান। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মী ও দাঁড়িপাল্লার ভোটারদের হুমকি ধামকি প্রদান করে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। এটি নির্বাচনী আচরণ বিধি বহির্ভূত।

সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলা জামায়াত নেতৃবৃন্দ, ঝিকরগাছা উপজেলার আমীর আব্দুল আলিম, চৌগাছা উপজেলা আমীর গোলাম মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

এবিষয়ে ঝিকরগাছার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রনি খাতুন বলেন, উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে আমাকে ফোন করে জানানো হয়েছে। তবে বিকেল পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা কল্লোল সম্পর্কে যশোর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নির চাচাতো দেবর।

প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy