চাঁদপুরে ছয় মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ৭২৯টি অভিযান

সজীব খান :

মাদকের বিস্তার রোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে চাঁদপুরে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। জনবল সংকটের মধ্যেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে সংস্থাটি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৭২৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪টি নিয়মিত মামলা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৬৬টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানের সময় ৭০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ১৯ পিস ইয়াবা, ৩ কেজি ৯শত ৬১ গ্রাম গাঁজা, একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং একটি মোটরসাইকেল। এছাড়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৪৮ হাজার ২শত ৭৫ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক পাচার, সংরক্ষণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে, জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সীমান্তবর্তী এলাকা, বাস টার্মিনাল, নৌপথ ও সন্দেহভাজন বিভিন্ন স্থানে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ধরনের ছাড় না দেওয়ার জন্য ঐক্যবদ্ধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করেন তারা।

অধিদপ্তর জানায়, সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও কারবারিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মাদকমুক্ত চাঁদপুর গড়ে তুলতে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চাঁদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের মধ্য দিয়েও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। বর্তমানে একজন ইন্সপেক্টর, একজন সাব ইন্সপেক্টর, এ এস আই ৩ জন, এবং ৯ জন সিপাহিসহ সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছি। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম থাকায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে মাত্র ১৪ জন সদস্য, একটি গাড়ি ও একজন ডাইভার দিয়ে পুরো জেলার মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় মাদকসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুত পৌঁছাতে সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে জেলার প্রতিটি উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি করে অফিস স্থাপনের দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, উপজেলা পর্যায়ে অফিস স্থাপন করা হলে মাদকবিরোধী অভিযান আরও দ্রুত, কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

You might like