ফরিদগঞ্জে সংঘাতে ২০ জন আহত : দু’জন আটক

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি :

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী (চিংড়ি প্রতীক) ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় মোবাইল কোর্টে ২ জনকে আটক করে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

প্রশাসন সূত্রে জানায়, নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হঠাৎ উত্তেজনা ও তাৎক্ষনিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে উভয় পেক্ষর কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে আবুল কাশেম (৩৬) ও আল আমিন (২৬) নামে দুইজনকে আটক করে মোবাইল কোর্টে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এদের একজন ধানের শীষের কমী অপর জনের পরিচয় জানা সম্বব হয়নি।

চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

রোববার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার ৬ নং গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম.এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক ছিল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। হোগলি গ্রামে উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা পরপর দুইবার মিছিল নিয়ে মহড়া দেয়। এতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এম.এ. হান্নান বক্তব্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ।
পরে তিনি সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলদানা গ্রামে আরেকটি উঠান বৈঠকে যান। সেখানেও প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি কর্মসূচি স্থগিত করে খাজুরিয়া বাজারে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ বাধে।

সংঘাত রাত ৯ টা পর্যন্ত চলার পর রূপসা বাজার এলাকাতেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে পূর্ব রূপসা উত্তর ইউনিয়নে উভয় পক্ষের সংঘর্ষে তিনটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাজারের দক্ষিণ মাথায় অবস্থিত চিংড়ি প্রতীকের একটি কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এখানে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ফারুক হোসেন ও জিসান পাটওয়ারী রয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আহতদের মধ্যে রয়েছেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন, রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল, মো. এমরান, হোসেন স্বপন ও আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া ইত্তেফাককে বলেন, “চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। দু’পক্ষকে অভিযোগ থাকলে থানায় জানানোর জন্য বলা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।

প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy