

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটকীয় ফলাফল দেখা গেছে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আলহাজ্ব এম এ হান্নান চিংড়ি প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই বিজয় শুধু দলীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে না, বরং স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, এম এ হান্নান পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৮৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, যিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ২১৫ ভোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন মনোনীত প্রার্থী মাওলানা বিল্লাল হোসেন, যিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৫০৫ ভোট।

এই নির্বাচনী ফলাফল ফরিদগঞ্জে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এম এ হান্নান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দলীয় মনোনয়ন না পেলেও চিংড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠে নামেন। তার জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এম এ হান্নানের বিজয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। অনেকেই মনে করছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমই তার বিজয়ের মূল চাবিকাঠি।
ভোটগ্রহণ ছিল শান্তিপূর্ণ, তবে কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলাফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে বেসরকারিভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এম এ হান্নান এগিয়ে রয়েছেন।
এ বিজয় ফরিদগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় নেতৃত্ব এই ফলাফলকে কীভাবে গ্রহণ করে এবং ভবিষ্যতে এম এ হান্নানকে দলের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ নেয় কি না।
চিংড়ি প্রতীকের এই বিজয় শুধু একটি আসনের ফলাফল নয়, এটি একটি বার্তা—জনগণের সঙ্গে সংযোগ এবং মাঠের রাজনীতি এখনো প্রভাব বিস্তার করতে পারে দলীয় মনোনয়নের বাইরে থেকেও।
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.
















