বাঘারপাড়া দোহাকুলায় পুলিশের অত্যাচার চরমে: সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

মালিকুজ্জামান কাকা
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার একটি ভুক্তভুগি পরিবারের সদস্যরা মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গৃহকত্রী আন্না খাতুনের পক্ষে তার কিশোর ছেলে অপর ভুক্তভুগি বায়জিদ প্রেসক্লাব যশোরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় আন্নার স্বামী রবিউল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এই পরিবারের সদস্যরা বাঘার পাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের বাসিন্দা। এরা বলেন একটি মামলাকে কেন্দ্র করে তাদের পুলিশি হয়রানি ও মারপিট করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের দুটি মোবাইল নিয়ে গেছে গত শনিবার। এসময় কিশোর বায়জিদ কে ঘুম থেকে তুলে পুলিশ মারধোর করেছে। পরে তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে।

গত ৮ জানুয়ারি আন্না, তার স্বামী ও বড় ছেলে আহম্মেদ অন্তরের বিরুদ্ধে কিশোরী অপহরণের অভিযোগে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করেন একই গ্রামের আলতাপ হোসেনের ছেলে মোঃ তসলিম আলম লিতুন। তিনি অভিযোগ করেছেন তার স্কুল পড়ুয়া মেয়ে শাহরিয়া মুন পাখিকে আন্নার বড় ছেলে অপহরন করে নিয়ে গেছে।

প্রকৃত ঘটনা হলো, তসলিম আলম লিতুনের পরিবারের সাথে আন্নাদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। উভয়ের বাড়িতে আসা যাওয়ায় সুবাদে আন্নার বড় ছেলে আহম্মেদ অন্তরের সাথে লিতুনের মেয়ে মুন পাখির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে কোন পরিবার তা মেনে নেয়নি। বিয়টি মুন পাখি জানার পরও গত রোজার ঈদের দিন সে হটাৎ অন্তরদের বাড়িতে এসে তাকে বিয়ে করতে চাপ দেয়। তাৎক্ষনিক বিষয়টি মুন পাখির পরিবারকে জানানো হয়। অন্তর ও মুন পাখির বিষয়টি ভালো দেখাবেনা বলে তাদের বোঝানো হয়। একপর্যায়ে মুন পাখি কথায় রাজি হয়ে তার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যায়।

কিছুদিন ভালোই চলছিল। ফের মুন পাখি বাড়ি এসে অন্তর কে বিয়ে করতে চাপ দেয়। বিষয়টি নিয়ে বেকায়দায় পড়ে আন্নার পরিবার থানা পুলিশ ও তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়। মুন পাখিকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে হাজির হন অন্নারা। মুন পাখির পরিবারকে উপজেলা কর্মকর্তার অফিসে ডেকে এনে কথাবার্তার একপর্যায়ে মৌখিক ও সাদা কাগজে লিখিত বিভিন্ন শর্ত দিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষী করে তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয় মুন পাখিকে।

অবস্থা দৃষ্টে অনুমিত হয় আহম্মেদ অন্তর অপহরণ করেনি মুন পাখিকে। এমনকি আন্না ও তার স্বামী মুন পাখিকে অপহরণ করতে কোন সহযোগীতা করিনি। গত ৩ ডিসেম্বর মুন পাখি তার বাড়ি ছেড়ে অন্তরের বাড়ি চলে আসে। আন্নারা তাকে বাড়ি ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। সে আমাদের কোন কথা শোনেনি। মুন পাখি অন্তরকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সেই থেকে অন্তরের সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই। অন্তর ও মুন পাখি মোবাইলেও যোগাযোগ করেনি।

এরপরও মুন পাখির বাবার করা মামলায় রবিউল ইসলাম জেল খেটেছেন। মুন পাখিকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ প্রতি নিয়ত এই পরিবারের উপর চরম নির্যাতন চালাচ্ছে। পুলিশ বাড়িতে হানা দিয়ে যাকে পাচ্ছে তাকে হুমকি দিচ্ছে, মোবাইল ফোন নিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার গভীর রাতে বাঘারপাড়া থানার প্রসেনজিৎ এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ আন্নাদের বাড়িতে হানা দেয়। এ দিন বাড়িতে ছিল আন্নার ছোট ছেলে বায়জিদ। পুলিশ তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বড় ছেলে আহম্মেদ অন্তরের খোঁজখবর নেয়। বায়জিদ তার সম্পর্কে কিছু জানেনা বলে জানালে, তাকে পুলিশ সদস্য প্রসেনজিৎ ও তার লোকজন বেদম মারপিট করে। বর্তমানে পুলিশি অত্যাচারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় এই পরিবারটি।

প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy