আমতলীতে গ্যাস সংকট: ৭ কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ, রমজানে গৃহস্থালির হাহাকার

মাইনুল ইসলাম রাজু :

আমতলীতে ৯টি কোম্পানির এলপিজি গ্যাস বিক্রি হলেও সপ্তাহজুড়ে ৭টি কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এলপিজি গ্যাসের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারা এক দোকান থেকে অন্য দোকান ঘুরে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস না পেয়ে নিরুপায় হয়ে খালি সিলিন্ডার নিয়ে বাসায় ফিরছেন। দু’একটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া গেলেও সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলায় ৪ জন ডিলারের মাধ্যমে নয় কোম্পানির এলপিজি গ্যাস সরবরাহ হয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে দুবাই বাংলা, বিএম, সেনা, ওরিয়ন, আই গ্যাস, বসুন্ধরা, টোটাল, যমুনা ও ওমেরা। সপ্তাহকাল ধরে দুবাই, বিএম, সেনা, যমুনা, বসুন্ধরা ও টোটাল গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। খুচরা বিক্রেতাদের নিকট দু’একটি সিলিন্ডার থাকলেও তা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

রমজানের শুরুতেই এভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার কাজে গৃহিণীরা পড়েছেন মহা বিপাকে। রবিবার সকালে আমতলী শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ দোকানের সামনে খালি সিলিন্ডারের স্তূপ পড়ে আছে। ক্রেতারা গ্যাস না পেয়ে খালি সিলিন্ডার নিয়ে ফেরত যাচ্ছেন।

পল্লবী এলাকার গৃহবধূ আয়সা বেগম বলেন, “আমি টোটাল ১৫ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করি। রবিবার সকালে গ্যাস কেনার জন্য খালি সিলিন্ডার নিয়ে শহরের অলিগলি ঘুরেছি। রিকশা ভাড়াও গেছে ৮০-৯০ টাকা, কিন্তু কোথাও গ্যাস পাইনি। এখন কিভাবে রমজানের মধ্যে রান্না করব তাই ভাবছি।”

ডিলাররা জানিয়েছেন, দুবাই বাংলা দুই মাস এবং ওমেরা সাত দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। যমুনা গ্যাসও সাত দিন ধরে বাজারে নেই। খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, ডিলাররা তাদের কাছে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করেন এবং মেমো দিতে চান না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “কোম্পানির গ্যাস সরবরাহ তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে এই সুযোগে যদি কেউ দাম বেশি নেয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রকাশিত :  ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like