

বিশেষ প্রতিনিধি :
চাঁদপুর শহরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বাবুরহাট সংলগ্ন চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে গড়ে উঠেছে বিশাল এক ময়লার ভাগাড়। পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় সড়কের ধারেই দিনের পর দিন ফেলা হচ্ছে বাবুরহাট বাজারসহ আশেপাশের এলাকার সিংহভাগ আবর্জনা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে পচা দুর্গন্ধ ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পথচারী, যাত্রী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাবুরহাট মহাসড়কের ঢাল ঘেঁষে পলিথিন, প্লাস্টিক বর্জ্য ও পচনশীল গৃহস্থালি আবর্জনার স্তূপ জমে পাহাড়সম হয়ে আছে। ময়লার এই স্তূপ থেকে নির্গত হচ্ছে তীব্র পচা গন্ধ, যা বাতাসের সাথে মিশে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাকে বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা দুঃসহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
”এখান দিয়ে যাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে আসে। রুমাল দিয়ে নাক চেপে ধরেও গন্ধ এড়ানো যায় না। তার ওপর আবার ময়লায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়ায় চোখ-মুখ জ্বালাপোড়া করে।
অভিযোগ উঠেছে, আবর্জনার স্তূপ কমাতে মাঝেমধ্যেই সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্লাস্টিক ও পলিথিন পোড়া এই বিষাক্ত ধোঁয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। চিকিৎসকদের মতে, এই ধোঁয়া ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হাবিবুর রহমানের ক্ষোভ ও স্থানীয়দের বক্তব্য স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান খাঁন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ”এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধে এখানে এক মিনিট দাঁড়িয়ে থাকা দায়। বিশেষ করে ময়লার স্তূপে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। আমাদের ছেলেমেয়েদের শ্বাসকষ্ট বাড়ছে। আমরা বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না।”
জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় বাবুরহাট মহাসড়কের পাশ থেকে দ্রুত এই বর্জ্য অপসারণ করে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
















