রহস্য গল্প-জোঁক : সোহানুর রহমান অনন্ত

রুমা একটা মজার জিনিস দেখবি?
কি ভাইয়া।
আমার ঘরে আয়।
রুমা সাকিবের পেছনে পেছনে ওর ঘরে যায়। ব্যাগ থেকে বের করে সাকিব রুমার হাতে একটা কাচের বোতল দেয়।
কি আছে এতে?
ভাল করে তাকিয়ে দেখ।
কালো এটা কি ভাইয়া?
এটার নাম হচ্ছে জোঁক, জলের মধ্যে থাকে। রক্ত খায়, সাপের মতো এঁকে বেঁকে চলে।
ভাইয়া এরা কি মানুষের রক্ত খায়?
খায়না মানে, মানুষের রক্ত পেলে তো আরম করে খায়।
তুমি এটা কোথায় পেলে?
শোন তাহলে পাহাড়তলীতে আমরা কয়েক বন্ধু মিলে ঘুরতে যাওয়ার পর।

পাহাড়ে ঢাকা জঙ্গলের ভেতর ঘুরতে গিয়ে। একটা পুরনো বাড়ির সন্ধান পেলাম। বাড়িটির ভেতর মনে হলো হাজার বছর ধরে কেউ বাস করে না। তার ভেতরেই এটাকে বোতলে বন্দি অবস্থায় পেলাম। ব্যস নিয়ে এলাম সাথে করে। অবশ্য বন্ধুরা আনতে না করেছিল।
তা’ তুমি এটা দিয়ে কি করবে?
্আমি এটাকে এনেছি, গবেষনা করার জন্য।
কি গবেষনা?
আমি দেখতে চাই একটা জোঁক রক্ত না খেয়ে কতদিন বাঁচতে পারে।
তো ভাইয়া গবেষনা করে কি হবে?

কি হবে সেটা যদি আগেই শুনে ফেলিশ তা’হলে এটার প্রতি কোন আগ্রহ থাকবে না অতএব অপেক্ষা কর।
ভাইয়া আমার শোনার অত আগ্রহ নেই, আমি গেলাম কলেজের সময় হয়ে গেছে।
আরে শোন না………………..রুমা সাকিবের ঘর থেকে বের হয়ে যায়।
সাকিব মনে মনে ভাবে (রুমার মাথায় অ্যাডভেঞ্চার বলতে কিছু নেই, আছে শুধু পিচ্চিদের মতো ছড়া লেখার হার্ডডিক্স)
কালো কাপড় দিয়ে থাকিব কাঁচের বোতলটা ঢেকে রাখে।

২.
গ্রামের মধ্যে একটা ভয়ংকর রোগ দেখা দিয়েছে। ডাক্তার পরীক্ষা করে জানিয়েছে রক্ত শূণ্যতায় ভুগছে। এর মধ্যে কয়েকজন মারাও গেছে। ব্যাপারটা সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে, এই বিজ্ঞানের যুগে ড্রাকুলার উপদ্বেব হয়নি তো । ড্রাকুলা হলে তো দাঁতের দু’টি দাগ াকবে অথবা কেউ না কেউ দেখবে। এ যেন অলৌকিক ব্যপার বাপের জন্মে কেউ শুনেনি দেখা তো দূরে থাক। এরি মধ্যে কয়েক জন লোক ঢাকা থেকে এসে বিষয়টা নিয়ে গবেষণা করতে গেলো। দু’একদিন পর দেখা গেল তাদের মধ্যেই পাঁচ জনের রক্ত শূণ্যতা দেখা দিয়েছে। ভয়ে সাধারণ লোক গ্রাম ত্যাগ করে দূরে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিল। ডাক্তাররাও ভয়ে সব পালিয়ে যাচ্ছে। রোগীর চিকিৎসা করার মত কেউ নেই বললেই চলে ফলে প্রতিদিনই কেউ না প্রাণ হারাচ্ছে।

সাকিব নিজের ক্ষুদে ল্যাবরেটরিতে বসে কাজ করছিলো। এমন সময় রুমা এসে ঘরে প্রবেশ করলো।
ভাইয়া কি করছিস?
এই বয়সেই চোখটাকে খেয়েছিস, বাবীদিনগুলোতে পড়েই আছে।
মানে?
তোদের মেয়েদের এই একটা সমস্যা। কোন কিছু না বুঝে শুধু রেড়ে যাস। মানে আমি বলতে চাচ্ছি, তুই কি দেখতে পাচ্ছিস না আমি কি করছি?
ভাই আমি দেখতে পারছি, কিন্তু বুঝতে পারছি না। তাই জিজ্ঞস করলাম।
আমি চিন্তা করছি, আরো কয়েকটা জোঁক এনে আমার ল্যাবরেটরিতে রাখবো। আমি সবাইকে চমকে দিয়ে জোঁকের খামার করবো। কি বলিস তুই।

ভাই তোমার জোঁকের কথা ছাড়ো, গ্রামে কি ঘটে চলেছে সে খবর রাখছো?
তুইতো সব খবরই রাখিস, তুই-ই বল গ্রামে কি হয়েছে।
গ্রামে বেশ কয়েক দিন মানুষ রক্ত শূণ্যতায় ভুগছে। এরি মধ্যে কয়েকজন মারাও গেছে।
যেভাবে তুই কথা গুলো বললি, মনে হয় যেন গ্রামের উপর আকাশ ভেঙে পড়েছে।
তুমি আমার কথা হেয়ালী করে উড়িয়ে দিলে?
না, তোর কথা জোঁকের মত মনের বোতলে বন্দি করে রাখলাম। খুশিতো।
দেখ ভাইয়া আমি তোমার সাথে জগড়া করতে আসিনি।
জগড়া করা শেষ এখন বলছিস জগড়া করতে আসিনি। বল কেন এসেছিস?
আমি তোমার জোঁকটা দেখতে চাই?
কে?
ইচ্ছে হল।

যাক বাবা তোর সুমতি হয়েছে। আয়……..আয় দেখাচ্ছি।
সাকিব কালো কাপড়টা সড়িয়ে বোতলটা দেখালো।
একি ভাইয়া এটা এত মোটা তাজা হল কিভাবে। তুইতো এটাকে খেতে দিসনা।
আরে পাগলি এই জন্যইতো জোঁক নিয়ে গবেষণা করছি। তুই প্রথমে আমার গবেষণার কোন দামই দিসনি। এখন বুঝলি তো।
না ভাইয়া এর মাঝে কোন একটা রহস্য লূকিয়ে আছে।
কি রহস্য?
আমার মনে হয়, এটা জোঁক নয় অন্য কিছু।
মানে?
ভাইয়া ভাল চাইলে, এটাকে এখুনি মেরে ফেল।
পাগল হয়েছিস নাকি।

আমি পাগল নই তবে দ্বিবি দেখছি। এটা একটা ভয়ংকর কিছু। আমার সবার সর্বনাশ ডেকে আনছে। এই বলে রুমা চলে যায়।
সাকিব মনে মনে ভাবে পাগলিটার পাগলামি শুরু হয়েছে। জোঁকটাকে সাবধানে রাখতে হবে। নয়তো এটাকে ও মেরেই ফেলবে।

৩.
রুমা ওর এক শিক্ষক কে জিজ্ঞেস করে। একটা জোঁক না খেয়ে কি বাঁচতে পারে? শিক্ষক বলল না খেয়ে বাঁচতে পারে এমন জোঁকের নাম আমি শুনিনি। একটা মানুষ যেমন না খেয়ে বেশ কয়েকদিন বেঁচে থাকতে পারে। তেমনি একটা প্রাণীও বেশ কয়েকদিন না খেয়ে বাঁচতে পারে। তারপর তার মৃত্য ঘটে। যেমনটি মানুষের বেলা ঘটে থাকে।

শিক্ষকের কথা শুনে রুমার ভেতর সন্দেহটা আরো ডানা মেলে।  সেদিন মাঝ রাতে হঠাৎ চুপি চুপি, সাকিবের ল্যাবরেটরিতে প্রবেশ করে রুমা। চারিদিকে আলো আঁধারের খেলা। কালো কাপড়টা সরিয়ে যখন দেখলো বোতলের ভেতর জোঁকটা নেই এবং তার মুখও খোলা। রুমার ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল। এমন সময় হঠাৎ দরজা খোলা শব্দ। রুম া লুকিয়ে পড়ে টেবিলের আড়ালে।

আধো আলো ছায়ায় রুমা স্পষ্ট দেখলো মোটা অজগড় সাপের মতো জোঁকটা ঘরে প্রবেশ করলো। তারপর ধীরে ধীরে ছোট হয়ে বোতলের ভেতর প্রবেশ করলো। বোতলের মুখটা বন্ধ হয়ে গেল। রুমা ভয়ে চিৎকার দিতে ইচ্ছে করছিলো। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে নেয়। ঘটনাটা তাৎক্ষনিক সাকিবকে জানায়। পরদিন রাতে সাকিব আর রুমা মিলে মাঝ রাতে দরজার আড়ালে লূকিয়ে থাকে। সাকিবের হাতে লম্বা একটা রান দা।

হঠাৎ দরজা ধাক্কা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো। দানোবের মতো জোঁকটা, এদিকে আগে থাকতে ফাঁদ পেতে থাকা সাকিব। রান দা দিয়ে জোঁকটাকে  কোপ দিয়ে দু-ভাগ করে ফেলে। অমনি পুরো ঘর রক্তে ভেসে যায়। কিন্তু জোঁকটা মরে না। সেটা সাকিবের দিকে ছুঁটে আসে। সাকিব আবার কোপ দেয়, সেটা আবার ছুটে আসে। যেন প্রাণীটার মৃত্য নেই। রুমার মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি আসে।

মনে পড়ে যায় ছেলে বেলা লবণ দিয়ে খালের পাড়ে জোঁক মারতো।লবণ ছাড়া জোঁক মরে না। রুমা দৌড়ে গিয়ে লবণ নিয়ে এবং জোঁকটার গায়ের উপর ঢেলে। যন্ত্রনায় ছটফট করে জোঁকটা নিস্তেজ হয়ে যায়। রক্তে ভেসে যায় ভাই-বোনের জামা কাপড়। সাকিব রুমার দিকে তাকিয়ে বলল ধন্যবাদ বোণ। উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগানোর জন্য।

এর পর থেকে সাকিব আর জোঁক নিয়ে কোন গবেষণা করেনি। গ্রামের আর কারো রক্ত শূণ্যতা দেখা দেয়নি।

লেখক পরিচিতি : সোহানুর রহমান অনন্ত, সুবাসি ভিলা, শেখদী, শনি-আখড়া, ঢাকা।

 

প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy