চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসকের কক্ষে সাংবাদিকের ওপর হামলার তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আমি, মুসাদ্দেক আল আকিব, একজন পেশাদার সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরে সততা, দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সাথে চাঁদপুরে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছি। এছাড়াও চাঁদপুর সাংবাদিক সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ প্রদান ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নানা উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে অবদান রেখে আসছি। গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী চাঁদপুর পৌরসভায় তথ্য অধিকার আইনের বিধি মোতাবেক একটি আবেদন জমা দিতে যাই। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ এরশাদ উদ্দিনের মদদপুষ্ট একটি সংঘবদ্ধ চক্র আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমি গুরুতর আহত হই।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

ঘটনার দিন বেলা আনুমানিক ২টার পর কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তির জন্য বিধি মোতাবেক তথ্য অধিকার আইনে আবেদন দেওয়ার জন্য আমি পৌর প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করি। একজন সাংবাদিক হিসেবে এটি আমার আইনি অধিকার। আবেদনটি প্রশাসক এরশাদ উদ্দিনের হাতে দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন এবং আমাকে বসতে বলেন। পরে তিনি সময়ক্ষেপণ করে বিভিন্ন প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে জানতে চান, আমি কেন এসব তথ্য জানতে চাচ্ছি। আমি তাকে জানাই, এটি অফিসের অ্যাসাইনমেন্ট এবং প্রতিবেদনের জন্য উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর কিছু তথ্য প্রয়োজন।

হামলার বিবরণ

পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলাপচারিতার কয়েক মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাওন পাটোয়ারি কক্ষে প্রবেশ করেন। তিনি আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন “আপনার কী সমস্যা?, এখানে কী চান?, সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আপনার কী কাজ?, পৌরসভার কাজ সম্পর্কে জানার দায়িত্ব কে আপনাকে দিয়েছে?” ইত্যাদি।

একজন সংবাদকর্মী হওয়া সত্বেও তার এমন আচরণে আমি বিব্রত বোধ করছিলাম। হঠাৎ করেই তার সঙ্গে আসা ১০-১২ জন বহিরাগত লোক পৌর প্রশাসকের কক্ষেই আমাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও থাপ্পড় মেরে কানে, চোয়ালে ও মাথায় গুরুতর আহত করে। পরে তারা আমাকে টেনে-হেঁচড়ে কক্ষের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব।

প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা

হামলার শুরুতেই আমার ব্যক্তিগত ব্যবহৃত স্যামসাং ব্র্যান্ডের দুটি স্মার্টফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং সেগুলো ভেঙে ফেলা হয়, যাতে মোবাইলে থাকা ছবি, ভিডিও বা যোগাযোগের তথ্য প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে না পারি। ফলে আমি তাৎক্ষণিকভাবে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। তবে পৌরসভার সিসিটিভি ক্যামেরায় দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে পুরো ঘটনাটি ধারণ করা আছে বলে আমি মনে করি।

মারধরের এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে একজন আমাকে জোরপূর্বক নিচে নামিয়ে একটি রিকশায় তুলে দিয়ে তারা আমার পিছু নেয়। এমতাবস্থায় আমি দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাই।

চিকিৎসা গ্রহণ

পুনরায় হামলার আশঙ্কায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলাম। তাই চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে না গিয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করি। কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার শারীরিক অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দেন।

সে প্রেক্ষিতে আমি জরুরী ভিত্তিতে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য আসতে বাধ্য হই। ঢাকা মেডিকেলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, আমার বাম কানের পর্দা ফেটে ছিদ্র হয়ে গেছে। বর্তমানে আমি কোন প্রকার শব্দ শুনলে মস্তিষ্কে প্রবলেম হচ্ছে বিধায় মানসিকভাবে ট্রমাটাইজড অবস্থায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অধীনে চিকিৎসাধীন আছি।

মিথ্যা প্রচার ও অপপ্রচারে লিপ্ত হামলাকারীচক্র

আমার উপর হামলার ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং ধামাচাপা দিতে পৌর প্রশাসক এরশাদ উদ্দিন ও তার মদদপুষ্ট চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপতথ্য ছড়াচ্ছে। শাওন পাটোয়ারির নিজ ফেসবুক প্রোফাইলসহ বিভিন্ন ভুয়া আইডি ও পেজ থেকে অপপ্রচার চালানো হয়। পরে সত্য প্রকাশ পেয়ে গেলে শাওন পাটোয়ারী তার পোস্ট মুছে ফেলেন।

এছাড়া আমি জানতে পেরেছি ‘চাঁদপুর পৌরকর্মচারী সংসদ’-এর নামে একটি বানোয়াট বিবৃতি স্থানীয় সংবাদপত্রে পাঠানো হয়, যা কোনো পত্রিকা দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্তের কারনে তা প্রকাশ করেনি। কারণ এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

মিথ্যা অভিযোগের জবাব

আমার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অভিযোগকারী নিজেই পরে তার বক্তব্য মুছে ফেলেছেন, যা তার অসত্যতার প্রমাণ বহন করে।

ন্যায়বিচারের দাবি

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে একজন সাংবাদিকের ওপর এ ধরনের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চায় গুরুতর হস্তক্ষেপ। এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ। ইতোমধ্যে বিষয়টি চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতির মাধ্যমে সকল গণমাধ্যমকর্মী অবহিত হয়েছেন বলে আমি জেনেছি এবং আমি নিজেও লিখিতভাবে জানিয়েছি। এছাড়াও বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল, ঢাকার সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দও অবগত হয়েছেন।

অবিলম্বে আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের বর্বরচিত হামলার ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তপূর্বক হামলাকারী ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আমার শারীরিক, আর্থিক ক্ষতি ও সুনামহানির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি পেশ করছি।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসন/পুলিশ প্রশাসন/সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের নিকট আমি যথা উপযুক্ত ন্যায়বিচার পাবো বলে প্রত্যাশা করছি।

তারিখ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি.

মুসাদ্দেক আল আকিব

জেলা প্রতিনিধি, দৈনিক ভোরের আকাশ ও বাংলা এডিশন

সভাপতি, চাঁদপুর সাংবাদিক সমবায় সমিতি লিমিটেড

প্রকাশিত : সোমবার, ০৪ মে ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy