

মোঃ মাসুদুল আলম অপু, নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার জসিম আহমদ আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উপজেলার ১৬৯টি বিদ্যালয়ের প্রায় ১৬ হাজার ৯৭১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে কর্মসূচির শুরুতেই সরবরাহকৃত ডিমের ওজন নিয়ে গরমিলের অভিযোগ উঠেছে।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে “গ্রামীন উন্নয়ন সংস্থা” নামে একটি বেসরকারি এনজিও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী শিক্ষার্থী প্রতি ৬০ গ্রাম ডিম ও ১২০ গ্রাম রুটি দেওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে অনেক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা ডিমের একটি বড় অংশের ওজন নির্ধারিত মানের চেয়ে কম বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
সূত্রে আরো জানা গেছে, এ কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে পাঁচদিন শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাদ্য তালিকা অনুসারে খাবার সরবরাহ করা হবে। খাদ্য তালিকায় রয়েছে-রবিবার ও বুধবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম), সোমবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও ইউএইচটি দুধ (২০০ গ্রাম), মঙ্গলবার ফটিফাইড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও স্থানীয় মৌসুমী ফল বা কলা (১০০ গ্রাম) এবং বৃহস্পতিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম)।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। এর আওতায় নেছারাবাদ উপজেলাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সপ্তাহে পাঁচদিন শিক্ষার্থীদের দুধ, ডিম, রুটি, বিস্কুট ও কলা সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরেজমিনে স্বরূপকাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিমের একটি অংশ তুলনামূলক ছোট, যেগুলোর ওজন ৬০ গ্রামের নিচে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সীমা রানি হালদার জানান, আমাদের ৬১৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য আগের দিন কাঁচা ডিম ও প্যাকেটজাত বনরুটি সরবরাহ করা হয়েছে। ডিম সিদ্ধ করার জন্য প্রতিটি ডিমের জন্য এক টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সহকারী শিক্ষক সুজন সমদ্দার বলেন, সরবরাহ করা ডিমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ছোট, যা নির্ধারিত ওজনের কম।
অভিযোগের বিষয়ে গ্রামীন উন্নয়ন সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট গোপাল চন্দ্র শীল বলেন, এটি একটি বড় প্রকল্প। একসঙ্গে এতগুলো বিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু ত্রুটি থাকতে পারে। তবে দ্রুতই খাবারের মান ও নির্ধারিত ওজন নিশ্চিত করা হবে। এখানে কোনো গাফিলতি নেই।
উল্লেখ্য, উদ্বোধনের দিন উপজেলায় মোট ১৬৯টি বিদ্যালয়ের ১৬ হাজার ৯৭১ জন শিক্ষার্থীর মাঝে এ খাদ্য বিতরণ করা হয়।
এদিকে, কর্মসূচির মান নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন কামনা করেছেন।
প্রকাশিত : রোববার, ২৯ মার্চ ২০২৬ খ্রি.
















