

মাইনুল ইসলাম রাজু, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :
বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে চলাচলের একটি রাস্তা কেটে গোয়ালঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সঙ্কর দাস ও তার ছেলে লাল মোহন দাসের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে দেখা যায়, অভিরাম দাস, কালাচাঁন দাস ও সুখলাল দাস—এই তিন পরিবারের যাতায়াতের জন্য প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে একটি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই রাস্তা কেটে সেখানে গোয়ালঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন সঙ্কর দাস ও তার ছেলে লাল মোহন দাস।
লাল মোহন দাস এর চাচা নগেন চন্দ্র দাস জানান, কালাচাঁন দাসের মেয়ের বিয়ের কথা চলছে। আগামী সোমবার ছেলে পক্ষ মেয়ে দেখতে আসার কথা রয়েছে। বিষয়টি জেনেই পরিকল্পিতভাবে একমাত্র চলাচলের পথটি কেটে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আমিন দিয়ে জমি মাপঝোঁক করে তিন অংশীদার—বিশ্বেশ্বর দাস, কালীচরণ দাস ও বলরাম দাসের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়। সে সময় সঙ্কর দাস ও লাল মোহন দাস সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও পরে তা অমান্য করে পুনরায় রাস্তা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সালিশ সদস্য মোহাম্মদ আজিজ ডাকুয়া বলেন, আমিন দিয়ে জমি মেপে ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন শুনছি চলাচলের রাস্তা কেটে সেখানে গোয়ালঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, যা দুঃখজনক।
ভুক্তভোগী অভিরাম দাসের স্ত্রী শিখা রানী বলেন, আমাদের চলাচলের একমাত্র পথটি কেটে ফেলা হয়েছে। বিকল্প কোনো রাস্তা নেই। এই পথ দিয়েই ধান-চালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়া করা হতো। এখন আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।
অভিযোগের বিষয়ে লাল মোহন দাস বলেন, আমাদের ৪০ ফুট জমি দেওয়ার কথা ছিল। তারা আমাকে ১৭ ফুট জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। ৪০ ফুট হিসাব অনুযায়ী রাস্তা আমার অংশে পড়েছে। তাই আমি সেখানে গোয়ালঘর নির্মাণ করছি।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাসনাইন পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ থানায় উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত : শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ খ্রি.
















