গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী অপহরণ মামলায় আইও’র তেলেসমাতি: ঘটাচ্ছেন তুঘলকি কাণ্ড

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধিঃ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে পরিকল্পিত অপহরণ মামলায় তদন্তকারি কর্মকর্তা’র (আইও) তলেছমাতিকাণ্ডের কবলে বাদী।

বছর পেরিয়ে আরো ৩ মাস অতিক্রান্ত হলেও বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলে রহস্যজনক কারণে আইও তুঘলকি কাণ্ড ঘটাচ্ছেন।

জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অধিকতর তদন্ত পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আবেদন করেন বাদী আবু বক্কর সিদ্দিক।

বাদী আবেদনে উল্লেখ করেন গত ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় মেয়েকে (তৎকালীণ ৯ম শ্রেণির ছাত্রী) উপজেলার শোভাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজমোড়ে ডেকে এনে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটায় একাধিক চক্রমহল। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি অপহৃতার পিতা সংশ্লিষ্ট আইনে থানায় মামলা করেন (জিআর মামলা নং- ৫১/২০২৫। মামলার ৫ নম্বর আসামী ২১ বছর বয়সী প্রতিবেশী এক মেয়েরদ্বারা স্কুলছাত্রীকে ডেকে এনে পরিকল্পিত অপহরণের ঘটনার পরদিনই অপহৃতার চাচা আল-আমীন তার বোন জয়গুন, ভাই গোলজার, ভাতিজা আঙ্গুর ওরফে খোরশেদ, ভাগ্নে মোকছেদুল, মোমিনুলসহ অন্যান্যরা মিলে বৃদ্ধা মা গোলেজা খাতুনকে সুন্দরগঞ্জ সাব-রেজিঃ অফিসে নিয়ে গিয়ে প্রকৃত তথ্য গোপন করে কারসাজিমূলক (চলমান নামজারি, খারিজ জালিয়াতি করে) ৩টি দলিল সম্পাদন করে।

যার নং- ১৩৮৯, ১৩৯০ ও ১৩৯১/২০২৫। দলিলে বর্ণিত তফশীলভুক্ত জায়গা জমির স্বত্ব-দখলকার হিসেবে বাদীর নামজারি, বসতবাড়ি ও দোকান বিদ্যমান। বিষয়টি জানতে পেয়ে আল-আমীন তার স্ত্রী, বড় ছেলে মিলে স্কুলছাত্রীকে নানান ভয়ভীতি, হুমকি প্রদর্শন করে ছোট ছেলের সঙ্গে বিয়ে রেজিস্ট্রির জন্য সৃজনকৃত এফিডেভিটে সহি-স্বাক্ষর গ্রহণের চেষ্টা করে। এসময় প্রতিবেশী এক নারীর সহযোগিতায় স্কুলছাত্রী আল-আমীনের ঘর থেকে কোনমতে বেরিয়ে আসে। পরে অন্যান্যদের সঙ্গে নিয়ে মামলার ৫ নম্বর আসামী প্রতিবেশী ঐ মেয়েদ্বারা উক্ত কলেজ মোড়ে ডেকে নিয়ে অটোবাইক/মিশুকযোগে আগত আল-আমীনের পূর্ব-পরিচিত ৮ অপহরণকারী চক্রকে এ অপহরণে সহায়তা করে।

এরপর কারসাজিমূলক সম্পাদিত দলিলে বর্ণিত জমিতে অবস্থিত বাদীর বাস্তুবাড়ি, দোকানগৃহসহ জায়গা-জমিতে বার বার হামলা করে ও মেয়ের জন্য মুক্তিপণ (চাঁদাবাজী) করে আল-আমীনসহ অন্যরা। এরআগে একই সালের ৮ জানুয়ারী পিতার মৃত্যুর পর বাদী তাঁর ২ মেয়েকে বাস্তুবাড়ি, দোকানের জায়গাসহ ১৮ শতক জমি দলিল করে দেন। কারসাজিমূলক ঐ দলিল ৩টি সম্পাদন, মুক্তিপণ, চাঁদাবাজী, জায়গা-জমি হস্তগত ও নিজের ছোট ছেলের সঙ্গে স্কুলছাত্রীকে বিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় আল-আমীন, তার স্ত্রী, ছেলে, ভাই- ভাতিজা, বোন-ভাগ্নেদের নিয়ে ভূমিদস্যু আল-আমীন কয়েক দিনের জন্য চুক্তি ভিত্তিক তার পরিচিত চক্রকে স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনার সূত্রপাত ঘটায়।

ঐ দলিল ৩টি সম্পাদনের পরচারিত্রিক কুৎসা রটিয়ে স্কুলছাত্রীকে ফিরে এনে নিজের ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর ইউনিয়নের বড়ুয়াবাজারে সালিশের নামে অপচেষ্টা চালায় আল-আমীন। কিন্তু, ততক্ষণে স্কুলছাত্রীর বিষয়-আশয় জানতে পেয়ে অপহরণকারী চক্র তা পাশ কাটিয়ে যায়। এরপর স্কুলছাত্রীকে ফিরে আনতে না পেয়ে নানান অপ-কৌশলে অপহরণকারী চক্রের কাছ থেকে দফায় দফায় হাতাতে থাকে টাকা। এদিকে, মেয়েকে উদ্ধারের কথায় বাদীর কাছেও চাঁদাবাজী, জমি-জমার দাবী করতে থাকে আল-আমীন নিজে ও তার পক্ষে অন্যরা। আল-আমীনের বিরুদ্ধে গরুচুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় অপরাধ জগতে তার রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক।

আর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বজায় রাখতে বর্তমানে সরকার বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের কতিপয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকের ছত্র-ছায়ায় নির্বিঘ্নেই এসব প্রকাশ্য অস্ত্রধারী হিসেবে পাড়ার সহজ-সরল মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। ফলে আল-আমীনের সমস্ত কু-কর্মের বিরুদ্ধে কেউই মুখ খোলার সাহস পাননি। অপহরণে মুল পরিকল্পনাসহ জড়িত থাকা, চাঁদাবাজী, ভূমিদস্যুতা, হামলা ও নানান হুমকি প্রদানকারী ও অপহৃতাকে উদ্ধারে অপহরণ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা (আইও) থানার এসআই রুহুল আমিনকে (বিপি নং- ৮৫০৫০৮০৪৭৩) অসংখ্যবার বলেও কোন কাজ না হওয়ায় বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হয়।

এছাড়া, মামলার ৫ নম্বর আসামী ২১ বছর বয়সী ঐ মেয়েকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের থানায় নিয়ে কন্যাদরে রাখেন। পরদিন ২১ বছর বয়সী এ আসামীর নামীয় বাদীর দেয়া প্রকৃত জন্মসনদ, শিক্ষাসনদ না দেখিয়ে আসামীর স্বাজনদের জালিয়াতিমূলক বয়স কম দেখিয়ে সৃজনকৃত জন্মসনদের প্রেক্ষিতে ‘শিশু’ হিসেবে আদালতে সোপর্দ্দ করলে বিজ্ঞ বিচারক তাৎক্ষণিক জামিন মঞ্জুর করেন। এ আসামীর বক্তব্য, তার মোবাইলফোনে সংরক্ষিত তথ্যাদীর কিছুই উল্লেখ করেননি। এমনকি, মামলাটির পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সাঈদ কর্তৃক ৫ নম্বর আসামীর সঙ্গে অপহরণে জড়িতদের দীর্ঘ যোগসূত্রের তথ্যচিত্র, কললিস্ট, পরিকল্পনার এসএমএস, আর্থিক লেন-দেনের বিষয়ে কোন তথ্যই পেশ না করে সেগুলো আলামতকে হত্যা করার পায়তারা চালান। সঙ্গে, বিজ্ঞ আদালতে অপহৃতার জবানবন্দিও কোন কুল-কিনারা পায়নি বলে অনুসন্ধানে বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়।

স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর থেকে বিভিন্ন অবস্থান আইওকে জানানো হলেই জড়িতরা নীরবে স্থান ত্যাগ করে। তারপর, লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করার দ্বৈতভূমিকা বুঝতে পেয়ে এ আইওকে পরিবর্তনের জন্য বার বার বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন বাদী। এতে কোন কাজ হয়নি। এ অপহরণের ৬ মাস ২১ দিন পর শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সমস গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সজীবের ঘর থেকে দিন-দুপুরে গর্ভাবস্থায় অপহৃতাকে উদ্ধার ও মোমিন মিয়া নামে আসামীকে গ্রেপ্তার করেন থানা পুলিশ।

এনিয়ে পৃথক পৃথকভাবে অপহরণে জড়িতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মামলার আইও ও আল-আমীনের সঙ্গে সু-সম্পর্ক ছাড়াও কয়েক লাখ টাকা খরচের বিনিময়ে তারা বেঁচে গেছে। তাছাড়া, মামলার আইও’র ইন্ধনে ৫ নম্বর আসামীর পিতা রঞ্জু মিয়া, ও আল-আমীন বাদী ও তাঁর পরিবারসহ কতিপয় স্বাক্ষীর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও হয়রাণীমূলক মামলা দায়ের, প্রকাশ্য হুমকি-ধামকী, বসতবাড়ি, দোকান ও জমি-জমায় হামলা ওষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।

এদিকে, বছর পেরিয়ে আরো ৩ মাস অতিক্রম হলেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করে দীরকাল অতিবাহিত করায় পুলিশ সুপার বরাবরে বাদী আবেদন করেন।

অপহৃতার নামীয় মূল্যবান সম্পত্তি থাকায় উৎকোচ প্রদানে কোন দ্বীধাবোধ করেনি বলে খোদ আসামীদের বক্তব্য থেকে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। অপরদিকে, আল-আমীনের সঙ্গেও এ আইও’র রয়েছে গভীর সখ্যতা। মধ্যস্থতায় একটি রাজনৈতিক দলের অশুভ তদবীর ও অন্যত্রে কর্মরত (বর্তমানে রেলওয়ে পুলিশে নিয়োজিত) স্থানীয় এক পুলিশ কনস্টেবল।

মামলার আইও এসআই রুহুল আমিনের দ্বৈতভূমিকা, তেলেছমাতি কাণ্ড দেখে বাদী তার মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে বার বার দ্বারস্থ হওয়াসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেন। এমনকি, বিজ্ঞ আদালত ও জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে আইও পরিবর্তনের আবেদন করেও কাজ হয়নি।

বাদী জানান, দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও মামলার আইও বিজ্ঞ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় তথ্য-প্রমাণাদিসহ জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা (আইও) এসআই রুহুল আমিন (২২ মে সন্ধ্যায়) বলেন, মামলার চার্জশীট পাঠানো হয়েছে।

প্রকাশিত : শনি বার, ২৩ মে ২০২৬ খ্রি.

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy