পঞ্চগড়ে আদালত থেকে আসামি ছিনতাই, পরে গ্রেপ্তার

মোঃ এনামুল হক, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধিঃ

পঞ্চগড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের টাস্কফোর্স অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে চার আসামীকে হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে পরে আবারও তাদের গ্রেপ্তার করে চার জনের নামসহ ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। শুক্রবার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন জেলা শহরের রাজনগর এলাকার জয়নাল (৪২), একই এলাকার শাহেন শাহ (৩৬), পুরাতন ক্যাম্প এলাকার হাসিবুর রহমান (২৫), একই এলাকার দিপু ইসলাম (৩৭)। দিপু পঞ্চগড় পৌর যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চারজন আহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ হাসানেন নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ব্যাটালিয়ন আনসারসহ টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়। এ সময় জেলা শহরের হাজী মার্কেটের একটি পরিত্যক্ত দোকানে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই চারজনকে জনকে আটক করা হয়। তাদের কাছে এক পিস নেশা জাতীয় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, অর্ধেক পিস ইয়াবাসহ কিছু মাদকসেবস সামগ্রী পাওয়া যায়। পরে তাদের শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় আসামীদের ২০/২৫ জন এসে তাদের হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। অভিযানে ইট পাটকেল ছোড়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায় এবং সিপাহী ফাহিমুর রহমান, মোসাদ্দেক আলী, তরিকুল ইসলাম ও ব্যাটালিয়ন আনসারের নায়েব সুবেদার জালাল উদ্দিন আহত হয়েছেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়।

তবে অভিযুক্তদের খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পাশের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের কাছ থেকে তাদের আবারো গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হ্যান্ডকাপ দুটি কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। রাতেই তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও আসামী ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে সদর থানায় মামলা করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।

এদিকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা দিপু ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমাকে রাস্তা থেকে ধরে আনা হয়েছে। আমি ওদের সাথে ছিলাম না।

সদর থানা পুলিশের ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার চারজনকে শুক্রবার দুপুরের দিকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার আবু সাইম বলেন, এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যারাই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ খ্রি

You might like

About the Author: priyoshomoy