

কাউকে না জেনে, না বুঝে সবার সামনে অপমান করা ইসলামে গুনাহের কাজ। কোরআন ও হাদিসে এটাকে মূলত গীবত, অপবাদ, ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও সম্মানহানি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোরআনে যা বলা হয়েছে
ঠাট্টা-বিদ্রূপ ও মন্দ নামে ডাকা নিষেধ
“হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষকে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারী যেন অপর নারীকে উপহাস না করে; হতে পারে তারা তাদের চেয়ে উত্তম। তোমরা একে অপরের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নামে ডাকা কত নিকৃষ্ট! যারা তওবা করে না, তারাই জালেম।”
সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১১

অনুমান ও অপবাদের পরিণতি
“হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক অনুমান করা থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা ঘৃণাই করো।”
সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১২
বিনা অপরাধে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি
“যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদের বিনা অপরাধে কষ্ট দেয়, তারা মিথ্যা অপবাদ ও প্রকাশ্য পাপের বোঝা বহন করে।”
সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৫৮
হাদিসে যা এসেছে
মুসলমানের সম্মান নষ্ট করা হারাম
রাসূল ﷺ বলেন: “প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপর মুসলমানের রক্ত, সম্পদ ও সম্মান হারাম।”
সহিহ মুসলিম: ২৫৬৪
গালি দেওয়া ফাসেকি কাজ
রাসূল ﷺ বলেন: “মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি, আর তাকে হত্যা করা কুফরি।”
সহিহ বুখারি: ৪৮, সহিহ মুসলিম: ৬৪
কিয়ামতের দিন দেউলিয়া কে?
রাসূল ﷺ সাহাবিদের জিজ্ঞেস করলেন, “তোমরা কি জানো দেউলিয়া কে?”
তারা বললেন, যার টাকা-পয়সা নেই। তিনি বললেন: “আমার উম্মতের মধ্যে দেউলিয়া সে ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা, যাকাত নিয়ে আসবে, কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ খেয়েছে, কারো রক্ত ঝরিয়েছে, কাউকে মেরেছে। তখন তার নেক আমল থেকে নিয়ে তাদের দেওয়া হবে। নেক আমল শেষ হয়ে গেলে তাদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে, তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”
সহিহ মুসলিম: ২৫৮১
না জেনে অপবাদ দেওয়ার ভয়াবহতা
রাসূল ﷺ বলেন: “যে ব্যক্তি কোনো মুমিন সম্পর্কে এমন কথা বলে যা তার মধ্যে নেই, আল্লাহ তাকে ‘রাদগাতুল খাবাল’ এ রাখবেন, যতক্ষণ না সে তার বলা কথার প্রায়শ্চিত্ত করে।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘রাদগাতুল খাবাল’ কী? তিনি বললেন: “জাহান্নামীদের পুঁজ-রক্ত।” সুনান আবু দাউদ: ৩৫৯৭
মূল কথা
না জেনে অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে অপমান করা কোরআনে “পাপ” বলা হয়েছে।
সবার সামনে সম্মানহানি করলে কিয়ামতের দিন নিজের নেক আমল দিয়ে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
তওবা ছাড়া উপায় নেই: যাকে অপমান করা হয়েছে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
তাই রাগ বা অনুমানের বশে কারো সম্মানে আঘাত করার আগে ইসলাম আমাদের থামতে বলে। কারণ জবান দিয়ে দেওয়া কষ্টের হিসাব আল্লাহ কিয়ামতের দিন নেবেন।
















