খাঁচার বাইরে মন : ক্ষুদীরাম দাস

১.
ইচ্ছে তো করে ডানামেলে ঐ আকাশে উড়ে বেড়াতে,
ইচ্ছে তো করে সীমান্ত পেরিয়ে সীমানা ছাড়াতে।
২.
কিন্তু মানুষ চাইলেই কি আর সবকিছু হতে পারে?
কঠিন বাস্তবতা পথ আটকে দাঁড়ায় দ্বারে দ্বারে।
৩.
কখনো বা মানুষ অদেখা এক দায়িত্বের কাছে বন্দি,
জীবনসংগ্রামের সাথে প্রতিদিন করতে হয় যে সন্ধি।
৪.
কখনো পরিবারের হাসিমুখ ধরে রাখার আকুল দায়,
নিজের ইচ্ছাগুলোকে অলক্ষ্যে বিসর্জন দিয়ে যায়।
৫.
কখনো কঠিন বাস্তবতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয় প্রাণ,
নীরবে ঝরে পড়ে গোপন চোখের জল ও দীর্ঘশ্বাস আন।
৬.
কত শত আপ্রাণ স্বপ্ন এভাবেই প্রতিদিন যায় মিলিয়ে,
ধুলোবালি আর ক্লান্তির মাঝে তিল তিল করে তলিয়ে।
৭.
আমাদের এই গতিময় আর যান্ত্রিক জটিল ধরায়,
কে কার খবর রাখে বলুন, কার সময় কোথায় ঝরায়?
৮.
সবাই ব্যস্ত কেবল নিজের জীবন সাজানোর খেলায়,
আবেগের ঠাঁই নেই এই কঠিন বাস্তবতার ভেলায়।
৯.
আজকাল মানুষ আটকে গেছে ছোট এই কাচের পর্দায়,
মোবাইল স্ক্রিনে বন্দি জীবন, অনুভূতিগুলো যেন মুর্ছায়।
১০.
পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন আজ বড্ড দূরে সরে যায়,
স্ক্রিনের আলোর আড়ালে স্নেহের বন্ধন ফিকে হয়ে যায়।
১১.
পাশের মানুষটার দিকে ফিরে তাকানোর সময় কোথায়?
অকৃত্রিম ভালোবাসাও এখন যান্ত্রিকতায় ঠাঁই পায়।
১২.
আসুন না আমরা ক্ষণেকের জন্য একটুখানি থেমে দাঁড়ায়,
যান্ত্রিক কোলাহল ভুলে নিজেকে কিছুটা সময় শুধুই সঁপি।
১৩.
একটু ভেবে দেখি, এই মনটা আসলে কী চায় অনুক্ষণে,
কোন্ অপূরণীয় তৃষ্ণা লুকিয়ে আছে গোপন কোণে?
১৪.
কী করা উচিত ছিল আমাদের, আর কী করে চলেছি প্রতিদিন,
দায়িত্বের বোঝা বইতে গিয়ে আত্মাকে করছি কত ঋণ?
১৫.
কতটুকু দায়িত্ব সত্যি পালিত হলো এই দীর্ঘ পথে?
নাকি কেবলি ছুটছি যান্ত্রিক এক অন্তহীন রথে?
১৬.
মনকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে আর কতকাল রাখা যায়?
মিথ্যা হাসির আড়ালে ক্ষয় হতে থাকে ভেতরের কায়।
১৭.
মনে রাখা ভালো, লোহার শিকল দিয়ে দেহ বাঁধা যায়,
কিন্তু অধরা ওই মনকে কি কখনো খাঁচায় রাখা যায়?
১৮.
দেহের চেয়েও বেশি স্বাধীনতা প্রয়োজন এই ক্ষুব্ধ মনের,
একটু উন্মুক্ত বাতাস দরকার তার নীরব ক্রন্দনের।
১৯.
মন চায় একটুখানি স্বস্তি, একটুখানি খোলা বাতাস,
যেখানে মিলিয়ে যাবে মনের সব পুঞ্জীভূত বিষাদ-উচ্ছ্বাস।
২০.
প্রিয় মানুষটির সাথে একটু গল্প করার বড্ড প্রয়োজন,
যেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকবে না, থাকবে শুধুই মন।
২১.
আসুন আমরা কৃত্রিম পর্দা ছেড়ে একটু মুখোমুখি কথা বলি,
একটু আন্তরিকতা নিয়ে স্নেহের নরম আলোয় চলি।
২২.
ভদ্রতা ও নম্রতা বজায় রাখি আমাদের প্রতিটা কথায়,
সান্ত্বনা হয়ে পাশে দাঁড়াই অপরের নীরব ব্যথায়।
২৩.
একে অপরের বুকের দুঃখগুলো ভাগ করে নিই এসো,
পরের যাতনায় একটু ভালোবেসে কাছে ঘেঁসো।
২৪.
একটুখানি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি এই ব্যস্ততার ভিড়ে,
শান্তি খুঁজে নিই মনের গহীন কোনো শান্ত নীড়ে।
২৫.
ইচ্ছের ঘুড়িগুলোকে না হয় একটু উড়তে দিই আজ,
রেখে দিই পাশে যান্ত্রিক জীবনের হাজার কঠিন কাজ।
২৬.
স্বপ্ন ভাঙার শব্দে যেন আর না কেঁপে ওঠে বুক,
একটু হলেও খুঁজে নিই সত্যিকারের সেই অকৃত্রিম সুখ।
২৭.
পরিবারকে দিই একটু সময়, একটু বাড়তি ভালোবাসা,
বাবা-মার মুখে ফোটাই আবার সেই পুরোনো প্রত্যাশা।
২৮.
মোবাইলের আলোয় নয়, চোখের আলোয় চোখ রাখি,
হৃদয় উজাড় করে বলি, “কেমন আছো ওহে পাখি?”
২৯.
একলা পথচলায় নিঃসঙ্গতা এসে যখন পথ আটকায়,
একটু সহানুভূতির ছোঁয়ায় দুঃখগুলো যেন মিলিয়ে যায়।
৩০.
মনের জানোলাগুলো আজ একটুখানি খুলে দিই খোলা হাওয়ায়,
ভালোবাসা ছড়িয়ে দিই প্রতিটা সাধারণ চাওয়ায়-পাওয়ায়।
৩১.
জীবনের যাতাকলে পিষ্ট হওয়া সহজ, কিন্তু টেকাই কঠিন,
ভালোবাসাই পারে মুছে দিতে সব জমানো অন্ধকার দিন।
৩২.
চলুন তবে ভাঙি এই যান্ত্রিক অভ্যাসের কঠিন কারাপ্রাচীর,
নতুন করে চিনি নিজেদের, হই সহজ ও স্বাবলম্বী গভীর।
৩৩.
কথা বলায় ঘটুক সূচনা এক নতুন ও ভালোবাসার সকাল,
অহেতুক দূরত্ব ঘুচে যাক, পার হয়ে মহাকাল।
৩৪.
দায়িত্ব পালনের মাঝেও একটু মনের স্বাধীনতা বাঁচাই,
নিজের ভেতরের সত্যিকারের মানুষটাকে একটু খুঁজে পাই।
৩৫.
একটু সহমর্মিতা, একটু মানবতা ফুটুক আমাদের আচরণে,
মধুময় হয়ে উঠুক জীবন প্রতিটি মুহূর্তের স্মরণে।
৩৬.
শান্তি আসুক প্রতিটি গৃহকোণে, প্রতিটি ব্যথিত হৃদয়ে,
জীবনের জয়গান গাই এসো সত্য ও সুন্দরের অভয়ে।
৩৭.
শিকল ভাঙার গান গাই এসো এই যান্ত্রিকতার বুকে,
মানুষ আবার ফিরুক মানুষের কাছে এক অসীম সুখে।
৩৮.
এক ফোঁটা সহানুভূতি দিতে পারে অসীম জীবনের আশা,
যেখানে সব সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে কেবলই ভালোবাসা।
৩৯.
আসুন, আর নয় একা থাকা, আর নয় যান্ত্রিক নিঃসঙ্গতা,
কথা বলি, হাত ধরি, ঘুচিয়ে দিই মনের সব গোপন ব্যর্থতা।
৪০.
একটুখানি শান্তি চাই এই অতিষ্ঠ, ক্লান্ত ধরণীতে,
আসুন ভালোবাসার বীজ বুনি প্রতিদিনের এই জীবনে।

প্রকাশিত : শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

ডায়াবেট্সি হলে কি করবেন?

শেয়ার করুন
প্রিয় সময়-চাঁদপুর রিপোর্ট মিডিয়া লিমিটেড.

You might like

About the Author: priyoshomoy