কুড়িগ্রাম সীমান্ত ঘেঁষা চরে খুদে শিক্ষার্থীদের পাশে ঢাবি পরিসংখ্যান-৮৮

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
​নদীর কোলঘেঁষা দুর্গম চরাঞ্চলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে এবং পড়ালেখার মানোন্নয়নে উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হলো শিক্ষা উপকরণ। উপহারের স্কুলব্যাগ, খাতা-কলম, পেন্সিল, জ্যামিতি বোর্ড, স্কেল ও রাবার হাতে পেয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় শিশুদের মধ্যে।

রোববার দুপুরে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের সীমান্ত ঘেঁষা খেওয়ার আলগার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে এসব শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৮৮তম ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ, কুড়িগ্রামের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবুর সভাপতিত্বে এক সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “চরাঞ্চলের শিশুরা হাজারো প্রতিকূলতা জয় করে স্কুলে আসে। অর্থনৈতিক অনটন ও ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাবে পিছিয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিসংখ্যান বিভাগের ৮৮ ব্যাচের বন্ধুরা চর এলাকার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে যে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা চাই চরের প্রতিটি শিশু যেন সমান সুযোগ পেয়ে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে। এই ধরনের উদ্যোগ আগামীতে চরের শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করবে।”

​উপকরণ হাতে পেয়ে মহাখুশি চরের খুদে শিক্ষার্থীরা। উপহার পেয়ে পঞ্চমের শিক্ষার্থী সিয়াম ও মরিয়ম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে, “নতুন ব্যাগ আর লেখার সব খাতা-কলম একসাথে পেয়ে আমাদের খুব ভালো লাগছে। এখন থেকে নতুন ব্যাগে বই নিয়ে প্রতিদিন স্কুলে আসব।” চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সানজিদা এবং প্রথম শ্রেণীর খাইরুন আনন্দিত কণ্ঠে জানায়, “রঙিন পেন্সিল আর স্কেল পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে, এখন থেকে মন দিয়ে পড়াশোনা করব।”

অনুষ্ঠানে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আখের, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, যাত্রাপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন, ক্রীড়া সংগঠক শাহনুর আশরাফ জুয়েল, সংগঠনের সদস্য লুৎফুর রহমান, রেজাউল করিম রেজা, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুর রহমান, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আল আমিন, সমাজসেবক বাবলু আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান।

​বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে এভাবে এগিয়ে আসতে হবে। চরের শিশুরা সুযোগ পেলে যেকোনো প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে সক্ষম হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রকাশিত :  ‍ রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

You might like

About the Author: priyoshomoy