ভোলার বাঁধ সংস্কারে নির্ঘুম শ্রমিকরা, ৫ দিনেও পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি

তাপস কুমার মজুমদার, ভোলা প্রতিনিধি :

অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ভেঙ্গে যাওয়া ভোলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে হিমসিম খাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। রাত দিন ২৪ ঘন্টা কাজ করে গত ৫ দিনেও বাঁধটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।বার বার জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখানকার মানুষদের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। তবে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, আজকালের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ভোলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঠিকাদার, শ্রমিক, এলাকাবাসী ও প্রকৌশলীদের সাথে আলাপ করে দেখা যায়। মেঘনার দক্ষিণ ইলিশা পয়েন্টের বাঁধ ভেঙ্গে ১৫ গ্রামের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে বৃহস্পতিবার। এরপর চলে যায় ৫দিন অথচ ভাঙ্গা বাঁধে জোড়া লাগেনি এখনও। এরইমধ্যে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো আরো কয়েকবার অস্বাভাবিক জোয়ারের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েন এসব মানুষ। চারদিকে পানি থাকায় খাওয়া-দাওয়া গোসল ঘুমানো সবকিছুই যখন বন্ধ তখন অসহায় মানুষগুলোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় ছিলো না। ফের যাতে জোয়ারের পানি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে সেজন্য পাউবো কর্মীরা অবিরাম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রয়োগ করছে নানা পদ্ধতি। কখনো জিও ব্যাগ ডাম্পিং, কখনোবা জিওটিউব সংযোজন, কখনোবা গাছের গুড়ি গাথাসহ বিভিন্ন পদ্ধতিতে চালাতে থাকে তাদের কাজ।

গতকাল রাতে বাঁধভাঙ্গা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় পাউবোর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রকৌশলীসহ শ্রমিকরা ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ জোড়া লাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও মেঘনার উত্তাল ঢেউ, তীব্র স্রোত আর প্রতিকূল পরিবেশের কারণে কাজ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছিল তবুও শ্রমিকদের ক্লান্তিহীন প্রচেষ্টায় ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ একটা পর্যায়ে আসায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মাঝে।

পাউবো ভোলা সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, আজ সকাল পর্যন্ত কাজ প্রায়ই চুড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে। আবার জোয়ার এলে লোকালয়ে পানি ঢোকার কোন সম্ভাবনা থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি ।

ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামতের পাশা-পাশি জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ সড়কের সংস্কার, প্রয়োজনীয় ত্রাণ বিতরণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণসহ ভুক্তভোগীদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষরা।

প্রকাশিত : ২৫ আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১০ ভাদ্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ০৫ মুহররম ১৪৪২ হিজরি, মঙ্গলবার

You might like