রাজাপুরে মাদরাসা শিক্ষকের নির্যাতন-লুটপাট : বাস্তহারা বিধবা পরিবার

ঝালকাঠি প্রতিনিধি :
ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলা আংগারিয়া আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক ও রাজাপুর গাজী বাড়ী জামে মসজিদের ইমাম আমিনুল ইসলাম নেছারীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভাংচুর, লুট ও হামলা করে বৃদ্ধা তাছলিমা বেগম (৬০) এর বসত ঘর ভেংগে সেখানে নতুন ঘর ও দোকান ঘর তুলে বিধবা তাছলিমা বেগম ও তার পরিবারকে বাস্তহারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৮/০২/২০২০ তারিখে তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম আমিনুল ইসলামের নামে অবৈধভাবে জোর পূর্বক জমি দখলের অভিযোগ এনে ঝালকাঠি কোর্টে এমপি (৮৮/২০ -রাজা) মামলা করেন। কিন্তু এতে উক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক ও ইমাম আমিনুল ইসলাম নেছারী ও তার ক্ষিপ্ত হয়ে বারবার বৃদ্ধা ও তার একমাত্র ছেলে আঃ রহমানকে জীবন নাশের হুমকি দিতে থাকে, এতে শংকিত হয়ে প্রতিদিন রাতে পাশেই তার বোনের বাসায় অবস্থান করে এবং সকালে তার বসত ঘরে আসেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৩১/১০/২০২০ তারিখ রাত দেড়টায় ৪০/৫০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বর্বর হামলা করে বৃদ্ধার ঘরে থাকা প্রয়োজনীয় আসবাব পত্র লুট করে এবং বসত ঘরখানা ভেংগে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে উক্ত ভিটিতে আগে থেকে তৈরীকৃত একখানা নতুন ঘর ও একটি দোকান তুলে ফেলে এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় বিধবা তাছলিমা বেগম।

তৎক্ষণিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বৃদ্ধা ও তার মেয়েরা উক্ত স্থানে এসে ঘর ও দোকান তুলতে বাধা দিলে আমিনুল ইসলাম (৪০), তার ভাই নাছির(৩৫) ও তার পিতাঃ ফরিদ তাং এবং ভাড়াকৃত সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের পথ আটকে দেয় ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায় এসময় তারা পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এঘটনায় তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মামলা করেছেন।

এর আগেও আমিনুল ইসলাম নেছারী উক্ত বৃদ্ধার বসতঘর দখলের চেষ্টার অভিযোগ জাতীয় পর্যায়ের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হলে তদন্ত সাপেক্ষে রাজাপুর থানা মস্জিদের ইমামতি হারাতে হয়। উক্ত ঘটনায় বাস্তহারা হয়ে পড়েছে বিধবা বৃদ্ধা তাছলিমা ও তার পরিবার।

উক্ত ঘটনা সম্পর্কে বৃদ্ধার ছেলে আঃ রহমান এর কাছে জানতে চাইলে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে, একমাত্র বসতঘর থেকে বিতাড়িত হওয়ার আশংকা প্রকাশ করে বলেন যে, আমি, আমার মা, ও আমার বোনেরা এখন আমিনুল ইসলামের ভয়াবহ ষড়যন্ত্রে বে-সাহারা হয়ে পড়েছি। আমিনুল ইসলাম নেছারী ইতিপূর্বে অনেকবার আমাদের টাকার লোভ দেখিয়ে ও আমার বোনদের মানহানি ঘটিয়ে বসত ঘর দখল করে ব্যর্থ হয়ে সে ভাড়াটে মাস্তান দিয়ে আমাদের বসত ঘর খানা ভেংগে বাস্তুহারা করেছে। এ সম্পর্কে বৃদ্ধার মেয়ে বলেন- আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশমাতা শেখ হাসিনা ও তার প্রশাসনের কাছে আমার উপর হামলা ও বসত ঘর ফিরে পাওয়ার ব্যবস্থা করতে আবেদন করছি এবং মাদ্রাসা শিক্ষক আমিনুল ইসলাম, তার ভাই নাছির ও ফরিদ তালুকদারের সমুচিত বিচার কামনা করছি।

উক্ত বিষয়ে আমিনুল ইসলামের ব্যবহৃত (০১৭১৮২১৮৯১৩) মোবাইল নম্বরে বারবার ফোন দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

আমরা খবরের বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী, সঠিক সংবাদ পরিবেশনই আমাদের বৈশিষ্ট্য

৩১ অক্টোবর ২০২০ খ্রি. ১৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরি, শনিবার

 

You might like