

মাজহারুল ইসলাম (রুবেল), মাদারীপুর প্রতিনিধি:
এক নারীর পূর্ব শত্রুতার জেরে মাদারীপুর জেলার শিবচরে এক সন্তানের জননী গৃহবধুকে গণধর্ষনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে শিবচর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী। রাতেই পুলিশ ধর্ষণে জড়িত ও সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্ত ওই নারীসহ ২ জনকে গ্রেফতার করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে উপজেলার পাঁচ্চর সোনার বাংলা প্লাজার সামনে থেকে জোরপূর্বক ওই গৃহবধুকে একটি ইজিবাইকে উঠিয়ে পাঁচ্চর বাখরেরকান্দি প্রজেক্টের মধ্যে একটি একতলা বাড়িতে নিয়ে যায় আখি আক্তার, সুমন মোল্লাসহ পাঁচ ব্যক্তি ব্যক্তি। সেখানে হাত-পা ও মুখ বেঁধে আটকে রেখে বিকেল পর্যন্ত দুই দফায় তাকে ধর্ষণ করে একাধিক ব্যক্তি।
পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মুখ বেঁধে ইজিবাইকে করে পূনরায় ধর্ষণের জন্য অন্যত্র নেয়ার সময় কৌশলে মুখ খুলে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ইজিবাইকটির পথরোধ করে। এসময় ইজিবাইকে থাকা আসামীরা দ্রুত পালিয়ে গেলে গৃহবধুকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। রাতে শিবচর থানায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ধর্ষণে সহযোগিতাকারী এক নারীসহ পাঁঁচজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন।

মামলার বিবরণ, পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসীর স্ত্রী আখি আক্তার (২৫) নামের উপজেলার রাজারচর মোল্লাকান্দি এলাকার ওই মহিলা ও ভুক্তভোগী নারী পূর্ব পরিচিত। আখির বিরুদ্ধে দেহ ব্যবসার অভিযোগ পুরানো। আখি শিবচর পৌর এলাকায় বসবাস করার সময় ৩ মাস আগে ভুক্তভোগী ওই নারীকে দেহ ব্যবসার প্রস্তাব দেয়। এ ঘটনা জানতে পেরে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের সদস্যরা আখিকে বেদম মারধর করে। এরপর আখি স্থান ত্যাগ করে বাখরেরকান্দি প্রজেক্টের মধ্যে বাসা ভাড়া নেয়। সেখানে সে সুবল মন্ডল ওরফে সুমন মোল্লার সাথে একসাথে থাকতো।
শনিবার বাচ্চার জন্য দুধ কেনার টাকা হাওলাদ আনতে ভুক্তভোগী ওই নারী পাঁচ্চর সোনারবাংলা প্লাজার কাছে তার ফুপাতভাইয়ের নিকট আসেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শনিবার দুপুরে সোনার বাংলা প্লাজার নিকট হতে ওই মহিলা ও তার সহযোগিরা জোর করে তাকে একটি ইজিবাইকে উঠিয়ে বাখরেরকান্দি প্রজেক্টের মধ্যে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে আটকে রাখে। সেখানে নিয়ে প্রথমে তাকে মারধর করে তারা। এরপর সোহেল, এসকান ও সুবল মন্ডল নামের তিন ব্যক্তি তাকে একাধিকবার ধর্ষন করে। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মুখ বেঁধে ইজিবাইকে করে পূনরায় ধর্ষণের জন্য অন্যত্র নেয়ার সময় কৌশলে মুখ খুলে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে ইজিবাইকটির পথরোধ করে। এসময় ইজিবাইকে থাকা আসামীরা দ্রুত পালিয়ে গেলে গৃহবধুকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা।
রাতে ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধু বাদী হয়ে শিবচর থানায় আখি আক্তার(২৫), সুবল মন্ডল ওরফে সুমন মোল্লা(৩২), সোহেল(৩৫), এসকান(৩৭) ও অটোরিক্সা চালক সোহাগ হাওলাদার(৩৫) এর নামে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
শিবচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন,’মেডিকেল রিপোর্টের জন্য ভুক্তভোগীকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মিরাজ হোসেন বলেন,‘মামলা দায়ের এর পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামীসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক ভাবে গনধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। বাকী আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ আখি মূলত দেহ ব্যবসায়ী। পূর্ব শত্রুতার জেরে আখিই এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।









