

নগেন দেওয়ানীর সন্তান তিনি, এক রাজকপালী,
সুখ আর ধনে কেটেছে দিন যে, হেসে-খেলে খালি।

নাম তাঁর রজনী! দেওয়ানীর ছেলে বলে কথা,
প্রভাব-প্রতিপত্তি অটল, ছিল যে নামডাক ও প্রথা।
দিনগুলো সব সুখেতেই কাটল সোনার কালে,
হঠাৎ নতুন গল্প শুরু এক কালবৈশাখী ঝড়ে!
নদীর ভাঙন ধরল এসে সুখের সেই ঘরে,
সাত-সাতবার ভাঙল বাড়ি নদীর করাল তোড়ে।
ঝড়-ঝাপটা আর নিদারুণ কষ্ট এলো নেমে,
জীবনতরী থমকে গেল, সুখ গেল যে থেমে।
ব্যবসা ছেড়ে ধরলেন এসে ঠিকাদারির কাজ,
ভাগ্যদেবী বিমুখ হলেন, মাথায় ভাঙল বাজ।
২০১২ সালে লসের বোঝা কাঁধে লক্ষ টাকার ঋণে,
ছাড়তে হলো নিজের বাড়ি এক নিদারুণ দিনে।
একটি যুগের বেশি সময় চলল লড়াই ভারী,
কষ্ট নামের মেঘ জমল দুঃখ-সাগর পাড়ি।
বুকের ভেতর চেপে রেখে চরম কষ্টের বান,
চার-চারবার থমকে গেল তাঁর হার্টের স্পন্দন।
ভাঙা তরী সচল করে, লড়ে গেলেন একা,
ধৈর্যের সেই আগুনেতে পেলেন সুখের দেখা।
ঘুচল অবশেষে দুঃখ-মায়া, শান্ত হলো বুক,
হাসল আবার চেনা জগৎ, ফিরল চেনা সুখ।
সুখের তরী ভিড়ল যখন আবার চেনা কূলে,
পাড়ি তিনি জমালেন দূর স্বর্গের ঐ কূলে।
সবাইকে আজ কাঁদিয়ে, ভেঙে মোদের বুক,
স্বর্গপুরীর দেশে বাবা লুকালেন তাঁর মুখ।
রেখে গেলেন গল্প তাঁর, লড়াই করার গান,
বাবার শূন্যতা বুকে নিয়ে কাটছে মোদের দিন।
ওপারেতে ভালো থাকুন, এই আমাদের আশ,
সন্তানের এই হৃদয়ে বাবা, আপনার চিরবাস।
















