

সাদ্দাম হোসেন ॥ সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুর শহরসহ চাঁদপুর সদর উপজেলা কঠোর লকডাউন চললেও দিনদিন কঠিন থাবা বসিয়ে চলছে করোনা সংক্রমণ। এসব এলাকার রাস্তাঘাটে ও বাজারেও অবাধে মানুষজন চলাচল করছে। অনেকের মুখে মাস্ক পরিধান করেনি। সরকারের নির্দেশনায় লকডাউন বাস্তবায়নকারী জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিশেষ অভিযান চালিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। এক জায়গায় থেকে অন্য জায়গায় চলাচলের জন্য নানা কৌশলে মানুষের চলাচল অব্যাহত রেখেছে। হেঁটে, রিক্সা, মোটরসাইকেল, সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার মাধ্যমে ভেঙে ভেঙে চলাচল করছে মানুষজন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দূরপাল্লার গণপরিবহন বন্ধ করার পরেও ঠেকানো যাচ্ছে না মানুষজনের চলাচল।

পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনদের কাছে আসতে শুরু করেছে। এখন শহর ছড়িয়ে গ্রামে-গঞ্জে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনা সংক্রমণ। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যুদ্ধ ও বাইরে ঘুরাফেরা ভাইরাসের সংক্রমণের আক্রান্ত ছড়াচ্ছে। এতে করে গত ক’দিন ধরে মৃত্যুর সংখ্যাও আশংকাহারে বেড়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে করোনার ৪টি ভেরিয়েন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘ল্যাম্বডা’ নামে আরো এক ভেরিয়েন্ট। এমন পরিস্থিতির শঙ্কায় করোনা বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও ১৪ দিনের শাটডাউনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে শাটডাউনের পরিবর্তে কঠোর লকডাউনের নির্দেশনা দেয় সরকার। তবে গ্রামেগঞ্জে প্রথম দিন থেকেই কঠোর নিষেধাজ্ঞা ভাঙতে দেখা যায়।
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী চৌরাস্তা, ঢালীরঘাট বাজার, বালিয়া বাজার, বাঘড়া বাজারে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি সেবা কৃষিপণ্য ও উপকরণ, ফার্মেসী ও ফার্মেসিটিকেল সবসময় খোলা থাকলেও কাঁচা বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মুদি দ্রবাদি দোকান (সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫টা) পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা, হোটেল-রেস্তোঁরা (সকাল ৮ টা থেকে রাত ৮টা ) শুধুমাত্র পার্সেল খাবার সরবরাহ করা। কিন্তু সরকারের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে সকালের চেয়ে বিকেল হলেই সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বুক উঁচিয়ে ব্যবসায়ীরা দিব্যি দোকানদারি করছে। মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান, কসমেটিকসের দোকান, বেকারি ও স্টেশনারি সবাই সমানতালে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে পণ্য বেচা-কেনা নিয়ে ব্যস্ত। মনে হয় দেশে কোনো করোনা নেই। আর চা-পুরি দোকানে সববয়সী আড্ডাবাজদের এক রসনা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে পরোটা-ভাজি, পুরি খাচ্ছে কিংবা রং চা, দুধের চা পান করে খোশগল্প মেতে থাকে। আর যখনি, বাজারে গিয়ে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনীর সদস্যরা বিশেষ অভিযানের জন্য গাড়ি নিয়ে দাঁড়ায়, তখন দোকান-পাটের সার্টার তোলা বা ঝাপ উঠানো সার্টার নামিয়ে দিয়ে ভেতরে বা বাইরে অবস্থান নেয়।
এছাড়াও চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ দুর্গাদী বাজার ফুটপাত ও রাস্তার দু’ পাশে কাঁচামাল, মৌসুমে আসা ফলফলাদি ও মাছের বাজার ছাড়াও ফরক্কাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ও আশেপাশে সব সময় গড়ে উঠা দোকান, বাঘড়া বাজারেও একই হাল। বাজারে ঢুকতেই রাস্তার দু’পাশে কাঁচামাল, ফলফলাদি পসরা সাজিয়ে বসানো ফল-পাকুড়, দোকানের সামনে আলগা দোকান বসিয়ে বেচা- বিক্রি করছে। কেউ কারোই কথা শুনছে না। ভেতরে মাছ বাজার রেখে রাস্তার উপর মাছ বিক্রি করছে। বাজারে আসা ক্রেতাদের কোনো বালাই নেই। গ্রাম-গঞ্জের বাজারগুলোতে যেনো ওরাই রাজা।
এএমএসএইচ










