ভিঙ্গুলিয়ায় আপন ৫ ভাই বোনের সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট :
চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার ২নং আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভিঙ্গুলিয়া গ্রামে আপন ৫ ভাই বোনের সম্পত্তি দখলের পায়তারা করছে অপর ১ ভাই। এ বিষয়ে এ পর্যন্ত বহুবার স্থানীয় পর্যায়ে শালিশ বৈঠক এমনকি আদালতে মামলা মোকদ্দমা চলমান অবস্থায় রয়েছে।

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভিঙ্গুলিয়া গ্রামের শেখ বাড়ির মৃত আব্দুল গফুর শেখের ২য় ছেলে বিল্লাল হোসেন শেখ তার বড় ভাই চাঁন মিয়া শেখ, ছোট ভাই লতিফ শেখ, রশিদ শেখ, বোন খোরশেদা বেগম ও ছোট ভাই গনি শেখের তর্কিত ভূমি ১০২৬৬নং দলিলে ৩২ শতাংশ, ২৯৮নং সাফকবলা দলিলে ৯ শতাংশ, ৫০২ নং দলিলে ২৫ শতাংশ সহ মোট ৬৬ শতাংশ ভূমি ভোগ দখল করার কথা থাকলেও পুরো জমিটি বিল্লাল শেখ দখলের পায়তারা করছে।

আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় উভয় পক্ষকে কোন ধরনের স্থাপনা না করার জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করে বিল্লাল শেখ তার ভাই বোনকে সম্পত্তি থেকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করে মার্কেট নির্মাণ করে। তাছাড়া ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল তাদের মাতা চাঁন ভানু মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু বিল্লাল শেখ মায়ের মৃত্যুর ৪ বছর পর ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর ওসিয়তনামা দাখিল করে এই নালিশী সম্পত্তি দান করেছে বলে জাল জালিয়াত করে চাঁন মিয়া গংদের ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করে।

এ বিষয়ে ২নং আলগী দূর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির আহমেদ পাটওয়ারী দুলালের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা এ পর্যন্ত বহুবার এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে ও ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষকে ডেকে শালিশ বৈঠক করেছি। কিন্Íু বিবাদী বিল্লাল হোসেন শেখ শালিশ বৈঠকে উপস্থিত না হয়ে সৌদিআরব চলে যায়। পরক্ষণে দেশে ফিরে এসে পুনরায় সে ভাইদের সাথে সম্পত্তিগত বিরোধ সৃষ্টি করে মারামারি ঘটনার জন্ম দেয়। আমরা স্থানীয় প্রতিনিধি ও হাইমচর থানা পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে ৭টি দোকান নির্মাণ করে ৩টি দোকান বিল্লাল শেখকে দেওয়ার জন্য। আর বাকি ৪টি দোকান তাদের ৪ ভাই ভোগ দখল করবে। ৪ ভাই শালিশ মানলেও বিল্লাল শেখ তা মানতে রাজি নয়।

এছাড়াও ২নং আলগী দুর্গাপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডাঃ সোবহান জানান, এদের ভাইদেরকে মানানো গেলেও বিল্লাল ও তার পরিবারকে কোনভাবে মানানো যায় না। তারা একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছে। ৫ ভাইয়ের মালিকানা সম্পত্তি বিল্লাল একাই ভোগ দখলের পায়তারা করে। একই ধরনের কথা জানান স্থানীয় প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রহমান গাজী ও শাহজাহান হোসেন। তারা জানান, বিল্লাল শেখের স্ত্রী রৌশনারা বেগম চাঁন মিয়া সহ ৪ ভাই ১ বোন, ২ ভাতিজা যৌথ দখলীয় মালিকানাধীন মাঠপর্চা, পাকা পর্চা, জরিপ ম্যাপ, বিএস খতিয়ান সহ অন্য ব্যক্তির নামে সম্পত্তি লিপিবদ্ধ থাকা সত্ত্বে ভূমির ভিতর একটি দলিল সৃজিত করে সম্পত্তি আত্মসাতের লক্ষ্যে প্রথম পক্ষের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। প্রত্যেক মনোনীত ব্যক্তির সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষ প্রতিটি দলিলের প্রতি অংশ ভোগ করবে। ২য় পক্ষ বিল্লাল শেখ নিজ অংশে বসত ঘর ঠিক রেখে অংশ অনুপাতে অপর অংশীদারগণ ভোগ দখল করবে। কিন্তু এ শর্ত বিল্লাল শেখ ও তার স্ত্রী রৌশনারা বেগম কোন ভাবেই না মেনে পুরো সম্পত্তি আত্মসাতের পায়তারা করছে।

অভিযোক্ত বিল্লাল শেখের বক্তব্য আনতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের উপস্হিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তার স্ত্রী রৌশনারা বেগম তেমন কোনো সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি।

এ ব্যাপারে হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চাঁন মিয়া ও বিল্লাল গং পরস্পর আপন ভাই। এদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। আমরা উভয় পক্ষকে বেশ কয়েকবার থানায় ডেকেছি। এক পক্ষ আসলে অপর পক্ষ দূরে থাকায় আমরা বিষয়টি চেষ্টা করেও মীমাংসা করতে পারেনি।

You might like