

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগন্জ :
আধুনিক দোহারের রুপকার সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা গত রবিবার রাত ১০ টায় ইন্তেকাল করেছেন( ইন্না নিল্লাহ হি ওয়া ইন্না- ইলাহির রজিউন) মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮০ বছর। তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে কেমোথেরাপি নিচ্ছিলেন। সর্বশেষ রবিবার রাত ১০টায় স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা মৃত্যুকালে তার স্ত্রী আইনজীবী ব্যারিস্টার সিগমা হুদা এবং দুই কণ্যা অন্তরা হুদা সামিলা ও শ্রাবন্তী আমিনাকে রেখে গিয়েছেন।

সোমবার সংসদ ভবনে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের জন্য নেয়ার পরে দোহারে সর্বসাধারণের সম্মান প্রদর্শন ও জানাযার জন্য জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে আনা হয়।
জানাযায় অংশ গ্রহণ করেন দোহার নবাবগঞ্জ সংসদ সালমান এফ রহমান, ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক, মনিরুজ্জামান তরুণ। দোহার উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন , সাধারণ সম্পাদক নূরুল হক বেপারী, নবাবগন্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন আহমেদ ঝিলু, নবাবগন্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান কিসমত ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক ও ইন্জিনিয়ার আরিফুর রহমান শিকদার, দোহার পৌরসভা মেয়র মো. আলমাছ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম করম আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা মো. বেলাল হোসেন, একলাল উদ্দীন আহাম্মেদ, , লায়ন আব্দুস সালাম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধ আইয়ুব আলী, আওলাদ হোসেন, আজাদ হোসেন খান, আমজাদ হোসেন আজাদ, নবী হোসেন সহ আরো অনেকে। উল্লেখ্য ১৯৪৩ সালের ৬ জানুয়ারি এই বর্ষিয়ান নেতা জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ সালে পরপর ৩ বার তিনি ঢাকা -১ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান জাগো দল গঠন করলে নাজমুল হুদা জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দলের সর্বকনিষ্ঠ স্থায়ী কমিটির সদস্য। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ছিলেন। ১/১১ পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। ২০১০ সালে ২১ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেন তখন তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। বহিষ্কৃত হলেও তিনি বিএনপির দলীয় কাজ করতে থাকেন এবং ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল তার সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অবশেষে ২০১২ সালে ৬ জুন নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেন।
১০ই আগস্ট ২০১২ সালে নাজমুল হুদা ও আবুল কালাম মিলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ) নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। কিন্তু কয়েক মাস পরের আবুল কালাম কর্তৃক বিএনএফ থেকে বহিষ্কার হন। ২০১৪ সালের ৭ মে মাসে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জোট নামে একটি জোট গঠন করেন এবং ২১ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি নামে দল গঠন করেন। ২০ নভেম্বর ২০১৫ সালে হুদা তৃণমূল বিএনপি নামে আরও একটি নতুন দল গঠন করেন। দলটিকে এই মাসে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দিয়েছে।
সন্ধ্যায় উপজেলার পদ্মা সরকারি কলেজ মাঠে সর্বশেষ জানাযার নামাজের পর তার জন্মস্থান সাইনপুকুর গ্রামে সমাহিত করা হয়।










