

জাকারিয়া জাহিদ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি :
ঈদের তৃতীয় দিনে নানা বয়সের হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। সকাল থেকে দর্শনার্থী ও পর্যটকের থেমে নেই আনন্দ। বেলা যত বাড়তে থাকে ততই পর্যটকের ভিড় বাড়তে থাকে সমুদ্র সৈকতে।আগত এসব দর্শনার্থী ও পর্যটকরা সমুদ্র নীল জলে সাঁতার কাটাসহ প্রিয়জনের সঙ্গে ছবি তুলে দিনটি উপভোগ করছেন। অনেকে আবার সৈকতের বেঞ্চে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্র ও প্রকৃতি।

সৈকতে হই হুল্লোড়, ছুটাছুটি, ফুটবল খেলা যেন আনন্দের কমতি ছিল না। সমুদ্রর উত্তাল ঢেউয়ের তালে তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উৎসব মেতে ওঠে আগত পর্যটক এবং দর্শনার্থীরা।কুয়াকাটার কুয়া, সৈকতের লেম্বুরবন, তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতির লেক, লাল কাকড়ার চর, মিশ্রিপাড়া বদ্ধ বিহার, শ্রী মঙ্গল বদ্ধ বিহার, টুরিস্ট বোটের মাধ্যমে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ, রাখাইন পল্লীসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটগুলা ঘুরে বেড়িয়েছেন এসব পর্যটকরা।
ঈদের তৃতীয় দিন আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গুলোর ৭০℅ কক্ষই বুকিং ছিল জানিয়েছেন হোটেল মোটেল কৃর্তপক্ষ। ১৫ দিন আগে থেকেই অনেকেই অগ্রিম বুকিং দিয়ে রাখে। খাবার হোটেল গুলোতেও খাবারের জন্য লাইন পরে যায়। রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মাকের্ট, মিশ্রিপাড়া তাঁত পল্লী সবখানই কেনাকাটায় ভিড় লেগে যায়। ফিস ফ্রাইয়ের দোকানও সিরিয়াল দিয়ে কাকড়া, চিংড়িসহ নানা ধরনের সমুদ্রের মাছ খেতে দেখা গেছে।আগত এ সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের সতর্কতা ছিলে চোখে পড়ার মত।
রমযানের একমাস পর্যটনমুখী ব্যবসায়িরা অলস সময় কাটিয়েছেন। গত ১ মাস লোকসান গুনতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। ঈদের ছুটিতে অসংখ্য পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আগমনে ব্যবসায়িদের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। পর্যটন ব্যবসায়িদের মাঝে কর্ম ব্যস্ততা ফিরে এসেছে।ঝিনুক ব্যবসায়ী শাহিন জানান দশেত উদ্বোধন হওয়ার কারণে এবছর অসংখ্য টুরেস্ট আসছে যার জন্য আমরা অনেক খুশি।
কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়শনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ প্রিয় সময়কে জানান, এবারের ঈদের লম্বা ছুটিতে কুয়াকাটায় অসংখ্য পর্যটকের আগমন ঘটবে। ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেণির হোটেল মোটেল রিসোর্টগুলোর প্রায় ৮০ ভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে।তবে ঈদের দিন স্থানীয় পর্যটকদের ভিড় ছিল বেশি। আজ থেকে ভিআইপি পর্যটকদের আগমন বেশি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের পুলিশ পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ প্রিয় সময়কে বলেন, আগত এসব পর্যটকদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। সাদা পোশাকেও নজরদারি থাকবে। পর্যটন পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশ, র্যাব মহাসড়কে আগত পর্যটকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত টহল থাকবে।









