

সজীব খান :
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বেপারীকে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতি, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে তিনি একজন পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি একজন জনসেবক হিসেবে মোহাম্মদ আলী বেপারী সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থেকেছেন। বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবার স্বার্থে তাঁকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন অনেকেই।
মোহাম্মদ আলী বেপারী বলেন, চাঁদপুর-হাইমচর (৩) আসনের সংসদ সদস্য এবং চাঁদপুরের মাটি ও মানুষের নেতা শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকেই তিনি রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে মনে করেন।
তিনি বলেন, “আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কল্যাণপুর ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করব। আমার স্বপ্ন হলো কল্যাণপুর ইউনিয়নকে জেলার অন্যতম আধুনিক, স্মার্ট ও ডিজিটাল ইউনিয়নে পরিণত করা। অবহেলিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গঠন এবং নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজনীতি করি না। মানুষের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছি। অতীতে রাজনৈতিক কারণে বহু হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। তবুও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে কখনো পিছিয়ে যাইনি।”
দলীয় মূল্যায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ত্যাগ ও দলের প্রতি নিষ্ঠার ভিত্তিতে আমি আশাবাদী যে দল আমাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় এবং জনগণ তাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইউনিয়নের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করব।”
নির্বাচিত হলে তাঁর অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মোহাম্মদ আলী বেপারী বলেন, “কল্যাণপুর ইউনিয়নকে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংমুক্ত একটি নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে কাজ করব। যুবসমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
শিক্ষাখাতের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিয়নের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করব। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
এছাড়া তিনি কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারী ও যুব উন্নয়ন এবং ইউনিয়নের অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা পেলে কল্যাণপুর ইউনিয়নকে একটি উন্নত, আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব ইউনিয়নে পরিণত করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং জনগণের সমর্থন পেলে মোহাম্মদ আলী বেপারী ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

















