নবাবগন্জে ডাকাতি মামলায় ১২ ডাকাত গ্রেপ্তার

মাকসুমুল মুকিম, দোহার-নবাবগন্জ :

পুলিশ পরিচয়ে চাঞ্চল্যকর স্বর্ণ ডাকাতি মামলার ৭ দিনের মধ্যে আন্ত:জেলা ডাকাত দলের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার, ১৭৭ ভরি স্বর্ণ, ৩৮৬ ভরি রুপা, নগদ ৪৯,০০০/- টাকা, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১ টি হাইয়েস মাইক্রোবাস, অটোরিকশা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ঢাকা নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত আগলা পোষ্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় ৩০ এপ্রিল সকালে আগলা বাজারের “দিয়া জুয়েলার্সের” মালিক কৃষ্ণ সাহাকে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওয়ারেন্ট আছে বলে কৃষ্ণ সাহাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পাশ্ববর্তী সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল বাজার সংলগ্ন সড়কে কৃষ্ণ সাহাকে ফেলে দিয়ে, সাথে থাকা স্বর্ণ, রুপা ও নগত টাকা লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাত দল।

মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ বলেন, নবাবগঞ্জের আগলা বাজারের “দিয়া জুয়েলার্সের” মালিক কৃষ্ণ সাহার স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা লুন্ঠনকারি আন্ত:জেলা ডাকাত চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামনের নির্দেশে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম এন্ড অপ্স ও ট্রাফিক মো. আমীনুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহাবুৃদ্দিন, দোহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম, নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ ও নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের অনান্য অফিসারগণ বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে, গত ৭ দিন ঢাকা, গাজীপুর, টাঙ্গাইল,মানিকগঞ্জ ও লক্ষীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহারকৃত মাইক্রোবাস, ডাকাতি হওয়া স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা উদ্ধার করে। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার নুরজ্জামান (মুক্তার) কুমিল্লা লাকসাম উপজেলার সালেহ আহমেদ সাইফুল, মানিকগঞ্জ হরিরামপুর উপজেলার হুমায়ন কবির, মুন্সিগঞ্জ শ্রীনগর উপজেলার মো. শাহাদাত, কুমিল্লা লাকসাম উপজেলার নজির হোসেন, টাঙ্গাইল দেলদুয়ার উপজেলার মো. মান্নান মিয়া , মো. হুময়ান মিয়া ও মো. শাকিল খান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকার জাহাঙ্গীর মল্লিক, আব্দুস সামাদ শিকদার ও ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা এলাকার শ্যামল সরকারসহ শেরপুর নকলা উপজেলার রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রাথমিক জিঙ্গাসাবাদে ডাকাত দলের সদস্যরা নিজেদেরকে পেশাদার ডাকাত হিসেবে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে ও তারা পুলিশকে জানিয়েছে দীর্ঘদিন যাবত ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ মূল কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামী উপজেলার আগলা এলাকার মৃত মঙ্গল সরকারের ছেলে শ্যামল সরকারকে গ্রেফতারের পরই ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের বিষয়ে পুলিশ জানতে পারে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, গত ৩০ এপ্রিল উপজেলার আগলা বাজারের “দিয়া জুয়েলার্সের মালিক কৃষ্ণ সাহাকে আন্তজেলা ডাকাত চক্র পুলিশ পরিচয় দিয়ে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। আনুমানিক ২৪০ ভরি স্বর্ণ, ৪০০ ভরি রুপা ও নগদ ২,৬৫,০০০/- টাকা লুটকরে তাকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সাহরাইল এলাকায় ফেলে রেখে যায়।

গত ৭ দিন নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ডাকাতদের গ্রেফতার করে। আটকৃত আসামীদের নামে দেশের বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতিসহ অস্ত্র আইনে একাধীক মামলা রয়েছে। আসামীদের রিমান্ডের আবেদনসহ মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

You might like