

মহানবি (স)—
আপনি এসেছেন, শিশিরের আলাপে

শুনেছি আপনার আগমনীবার্তা
তারকা-নক্ষত্রের কানাকানিতে
জেনেছি আপনার আসার খবর
আপনি এসেছেন পৃথিবী হয়েছে শোভাময়
প্রকৃতি ভরে গিয়েছে সজীবতায়
আলোকিত হয়েছে কোকাফনগরী—
মৌমাছির গুঞ্জনে শুনেছি আপনার স্তুতি
সাপের আচরণে দেখেছি আপনার হকিকত
এ কায়েনাৎ ঝুঁকে পড়েছে আপনার কদমে
আপনি এসেছেন বর্বরতা ঘুচেছে দুনিয়ার
দিশা খুঁজে পেয়েছে বেদিশার জাহান
আপনি এসেছেন মানুষ হয়েছে সুসভ্য
পথের সন্ধান ফিরে পেয়েছে পথহারা
আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করতে হলে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের ভালোবাসা চাই আর নবিরাসুলেরা আল্লাহর সবচে প্রিয় বান্দা এবং হাবিব। তাঁদেরকে ভালোবাসা মানে আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা আর আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিল করা মানে আল্লাহর প্রিয়জনদের মধ্যে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করা।
নবিরাসুল ও আউলিয়াবুজুর্গুদেরকে হিংসা করতে নেই আর করা মানেই নিজেকে ধ্বংস করা। তাঁরা আল্লাহর মনোনীত পাত্র। কেউ তাঁদেরকে ভালোবাসতে না পারলেও ক্ষতি নেই কিন্তু বিদ্বেষ করা ক্ষতি। পূর্বে বহু জাতি ধ্বংস হয়েছে নবিরাসুলদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব করার কারণে। বলা যায়, এখন তো আর নবিরাসুলদের সিলসিলা জারি নেই, তাঁরা কারও ক্ষতি বা মঙ্গল করারও কোনো যুক্তি নেই। তবে, স্রষ্টা তো আছে। আগেও তো নবিরাসুলেরা কারও ক্ষতি বা মঙ্গল করেননি, যা করেছে বা ঘটেছে সব তো আল্লাহর ইশারায় বা হুকুমে। কাজেই যে-কোনো গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা নিজের জন্যে মঙ্গল। আজ মানুষ তো মানুষ এমনকি আল্লাহ ও তাঁর নবিরাসুলদেরকেও ছোট করতে অনেকে কুণ্ঠাবোধ করছে না দেখছি! তন্মধ্যে মহানবি মুহাম্মদ (স) প্রথম উল্লেখযোগ্য! কী আর বলা যায়, আফসোস এমন মানুষের জন্যে—যারা পরের সুনাম তো চায়-ই না বরং নিজের সুনামও অক্ষুণ্ন রাখতে জানে না! মনে রাখা ভালো, কারও মুখাপেক্ষী নবিরা নন এবং কারও কাছে কিছু চাওয়া-পাওয়ারও দরকার নেই তাঁদের—নবিরা সম্পূর্ণতার অধিকারী আর এমন সত্তার বিরোধিতা করা একজন মানুষের জন্যে শোভনীয় নয়।
কেউ মানুক অথবা না মানুক—নবিরাসুলেরাই একমাত্র আদর্শবান মানুষ আর মুহাম্মদ (স) এমন এক আদর্শের নাম। যাঁর আদর্শে আদর্শিত হতে পারলে মানবজীবন ধন্য বা সার্থক। তিনি আল্লাহর খাস বান্দা যাঁর বন্দেগি বন্দনার যোগ্য। মুহাম্মদ (স) নির্দিষ্ট কোনো কওমের হিদায়েত বা পথপ্রদর্শক হয়ে পৃথিবীতে আসেননি, তিনি এসেছেন বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারি হয়ে এবং বিশ্বসৃষ্টির কল্যাণকারক হয়ে। যারা ওঁকে দেখেছে—জেনেছে—বুঝেছে অথচ হিংসাবিদ্বেষে মেনে নিতে পারেনি তারাই স্রষ্টার কাছে পথভ্রষ্ট মানুষ। দয়াময় যাকে গোমরাহ করে তার পথ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি মুসলমান বলে একথা বলছি না, ভালো কর্ম যাঁর সে যেই ধর্মেরই হোক-না কেন, ভালোর প্রশংসা করা নেকির কাজ। মুহাম্মদের যে মোজেজা তা ভাবুকদের জন্যে ভাববার বিষয়। চিন্তাশীলেরা গভীর চিন্তা বা গবেষণা করলে বুঝতে পারবে, তিনি সাধারণ কোনো মানুষ নন ‘মুহাম্মদ’ বিরাট এক অস্তিবাচক নাম। নিরক্ষর হয়ে তিনি যে বিশ্বজাহানের শিক্ষক হতে পেরেছেন, এরচেয়ে বড় মুজিজা আর কী? এটাই স্রষ্টার অস্তিত্বের বিরাট প্রমাণ।
মুহাম্মদ (স) নিঃসন্দেহে মহাজ্ঞানী এবং মহাগুণী। তিনি ইসলামধর্মের প্রবর্তক এবং প্রচারক হতে পারে তবে ওনার জীবনাদর্শ ও কার্যবিধি সার্বজাতিক প্রযোজ্য। যারা ওঁর সম্মানে আঘাত হানে তারা আল্লাহর কাছে চির অভিশপ্ত। যাঁদের কাছে অহি বা প্রত্যাদেশ নাজিল হয় তাঁরা কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন। সাধারণ জ্ঞানীগুণী হলে যেখানে সম্মানিত, সেখানে নবিরাসুলদের অসম্মান মানে জ্ঞানীগুণীদের অসম্মান। যারা জ্ঞানীগুণীদের সম্মান করে না তারা মানুষ তো বটে তবে গুণসম্পন্ন নয়। গুণিন মানুষের কাছে গুণের সমাদর থাকে। মানুষ হলে মানুষকে ভালোবাসতে হয়—হবে। ঘৃণায় কোনো কিছু হাসিল হয় না, ভালোবাসায় সবকিছু জয় করা সম্ভব। কারো কারো ধারণা, এবাদতে স্রষ্টার ভালোবাসা অর্জন আর স্রষ্টাকে ভালোবাসলে কোনো কিছু পাওয়া অসম্ভব নয়। না, জ্ঞানীগুণীদের ধারণা—সৃষ্টিকে ভালোবাসলে স্রষ্টার এবাদত আর সৃষ্টির ভালোবাসায় স্রষ্টাকে পাওয়া সম্ভব। ধরা যাক, কারো মহৎ কোনো কর্মের কথা, কেউ অসাধারণ কিছু সৃষ্টি করল; মানুষ তার সৃষ্টিকে নিয়ে এতটাই বিহ্বল হয়ে পড়ে যে, একসময় সৃষ্টিকারককে ভুলে যায়। কিন্তু, তার সৃষ্টিকর্মকে ভালোবাসার কারণে স্রষ্টার মনে কোনোধরণের দুঃখ বা আক্ষেপ থাকে না। তাই সৃষ্টিকে ভালোবাসা মানেই স্রষ্টাকে ভালোবাসা আর স্রষ্টাকে পেতে হলে মনসুরের মতো পাগল বা ফানাফিল্লা হতে হয়—হওয়া চাই।
সৃষ্টির কোনো উপমা মহানবির জন্যে শোভনীয় নয়। ‘চরম প্রশংসিত’ স্বয়ং আল্লাহ যাঁর প্রশংসা করেছেন, মানুষ তাঁর বিরোধিতা করতে পারে না এবং করাও গর্হিত একটা কাজ। সুতরাং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে দ্বেষবিদ্বেষে একে-অপরের দোষ না-খুঁজে এক ইসলামের সঠিকপথ বেছে নেওয়া মুসলিমদের দরকার বা জরুরি। তাতে শান্তিশৃঙ্খলা যেমন বজায় থাকে—থাকবে তেমন ইসলামের সৌন্দর্যও বর্ধিত হয়—হবে। দলাদলিতে ভাগ হয়ে ফেতনার সৃষ্টি করা ইসলামি কাজ নয়। আল্লাহর কথা ‘হত্যার চেয়ে ফেতনা মারাত্মক’ কাজেই এ নিন্দনীয় কাজ থেকে বিরত থাকা সকল মুসলমানের কর্তব্য। ইসলাম মহানধর্ম। সুতরাং গাঁট্টিগাঁঠুরি কাঁধে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে হিদায়েত দান করা নবির আদর্শ নয়। এতে ইসলামের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। ইসলাম যাযাবরের জিন্দেগি গড়তে পৃথিবীতে আসেনি, না এসেছে দলাদলি কায়েম করতে। ইসলাম এসেছে শান্তি ও সৌন্দর্য প্রতিষ্ঠা করতে। ইসলাম আল্লাহর সঠিক পথ আর আল্লাহ সব সময় সুন্দরকে ভালোবাসেন—অসুন্দরকে নয়। অতএব আল্লাহর বিধিবিধানে কোনো কিছু অসুন্দর নেই, অসুন্দর হলে হলো—মানুষের বাড়াবাড়ি—যে-কোনো আধিক্য বা অতিরিক্ত কিছু করা এবং সীমা লঙ্ঘন করা আমরা মানুষের কাজ। ধার্মিকতা ভালো তবে ভালো নয় অতিরিক্ত ধর্মান্ধতা। ধর্মকর্ম করা অবশ্য ভালো কিন্তু মন্দ হলো—ধর্মের নামে রক্তপাত ও ফেতনা। যে সৃষ্টি করতে পারে না তার ধ্বংস করারও কোনো অধিকার নেই।
আল্লাহ কত মহান। আল্লাহর সৃষ্টি কত মহান। মহাবিশ্বের দিকে তাকালে বিস্মিত হতে হয়, হাজার কোটি কোটি গ্রহ-তারা-নক্ষত্র কত সুসৃঙ্খলভাবে একটি নিয়মচক্রে চলছে বা ঘুরছে! স্রষ্টা এগুলো কেন সৃষ্টি করল? ফেরেশতা জিন মানুষ কেন সৃষ্টি করল? আলো-আঁধার, রাতদিন, হাওয়াবাতাস, তৃণলতা-গাছগাছালি—উদ্ভিদ, সাগরনদী-জলজলজ, কীটপোকা-পশুপাখি এতসব প্রাণপ্রাণী কেন সৃষ্টি করল? এই মহাবিশ্ব, এই জীবনচক্র সৃষ্টির কী দরকার ছিল স্রষ্টার? এই মহারহস্যের আবিষ্কার কোনো দিন কোনো মানুষ বা বিজ্ঞান করতে পারবে? বিজ্ঞান বিশ্বাস করে বাস্তবে, চাক্ষুষে বা জ্ঞানেন্দ্রিয়ে। তা হলে? হাসিকান্না, দুঃখদরদ, আবেগোনুভূতি, বুদ্ধিবিবেচনা ও চিন্তাচেতনা এগুলোর প্রমাণ কী? স্রষ্টার মহারহস্য তো এখানেই লুকিয়ে আছে! স্রষ্টার হাজার হাজার সৃষ্টির মধ্যে অন্যকোনো সৃষ্টিকে তো চৌদ্দ ইন্দ্রিয় দান করেননি—বাস্তবে একমাত্র মানুষ ছাড়া। সংশয়বাদীগণ নিজেকে বিবেচনা বা গবেষণা করলে তো আর সংশয় থাকে না। থাকে কি? আমি কোথায় ছিলাম, কোত্থেকে এলাম, কেন এলাম, আমার আসার উদ্দেশ্য কী এবং আবার কোথায় যাব, কীভাবে থাকব—আমার এতগুলো ইন্দ্রিয় থাকার কারণ কী? একটু ভাবলে সমাধান তো সহজে মিলে। বিজ্ঞান স্রষ্টাকে আবিষ্কার করতে পারল না বা পারে না বলে—কেবল স্রষ্টা নেই, স্রষ্টা নেই বলে চিৎকারিয়ে গলাফাটালে মিথ্যা কি সত্য হয়ে যায় বা যাবে? স্রষ্টা আমার সামনে এসে বসে থাকবে? স্রষ্টাকে আমি মানলেইবা কী আর না মানলেইবা কী! স্রষ্টার ক্ষতি তো এতটু হবার নয়। দিনশেষে আমার কী মিলল? স্থান কোথায়? স্রষ্টা যদি সত্যিই থাকে? আমার গতি কী? চিন্তার বিষয়।
বিজ্ঞান স্রষ্টাকে কোনো দিন আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। তা হলে? তাই বলে কি কোরান মিথ্যা? এটা নবির রচনা? কোনো মানুষ এমন ব্যাকরণসমৃদ্ধ, সামঞ্জস্যপূর্ণ, সৌন্দর্যমণ্ডিত, কাব্যিক, ছন্দময়, মাধুর্যময়, বাক্যবিন্যস্ত ও বর্ণনাপ্রাঞ্জল কথা, বিশুদ্ধ ও নির্ভুলভাবে রচনা করতে বা বলতে পারে? “পুণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান” (সুরা মুলক—আয়াত ১)
“যিনি সৃষ্টি করেছেন জীবন ও মরণ, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন—কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ। তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল” (সুরা মুলক—আয়াত ২)
“তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো তফাৎ দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টি ফেরাও, কোনো ফাটল দেখতে পাও কি?” (সুরা মুলক—আয়াত ৩)
“অতঃপর তুমি বারবার তাকিয়ে দেখ, তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে” (সুরা মুলক—আয়াত ৪) এত সুন্দর বর্ণনা কোনো নিরক্ষর মানুষের পক্ষে করা কি বা বলা কি সম্ভব?
হাঁ, আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো খুঁত বা ফাটল নেই। আল্লাহ যেমন নিখুঁত তাঁর সমস্ত সৃষ্টিও তেমন নিখুঁত। তাই স্রষ্টা কোনো খুঁতকে পছন্দ করেন না। সব সময় মনে রাখতে হবে একটা কথা, দুনিয়ার বস্তুসৃষ্টির স্রষ্টা যদি ভালো অভিজ্ঞ হয়, তা হলে তার সৃষ্টিও তেমন টেকসই ও ভালো হয়। তা হলে? দুনিয়ার চিন্তাশীলদের চিন্তা করা দরকার—দুনিয়া সৃষ্টির স্রষ্টা কেমন ভালো ও কেমন অভিজ্ঞ হতে পারে।
“আমি আল্লাহকে যতটুকু ভালোবাসি—তারচেয়ে অনেকবেশি ডরায়
আর অই মানুষকে ঘৃণা করি—যে আল্লাহকে জেনেও মানে না হায়”
আল্লাহ তর্কাতর্কি পছন্দ করেন না। আজকাল বেশি বিতর্ক দেখা যাচ্ছে, নবি মুহাম্মদ (স) কীসের তৈরি নিয়ে! নবি মানুষরূপে এসেছেন বলে নবিকে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ ভাবা যেমন বোকামি, তেমন ‘নূর’ ‘নূর’ করে জান দেওয়াও বোকামি। থাক-না সেটা খোদায়ী ব্যাপার! ‘মাটি’ ‘মাটি’ করে হয়রান হয়েওবা লাভ কী? যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি তো কোথাও বলেননি যে, নবির তৈরি নিয়ে তোমরা তর্কাতর্কিতে নামো বা গবেষণা করো। তা হলে? এমন অশোভন আচরণ কেন? এটাতে আমরা কোন পুণ্যের অধিকারী হচ্ছি বা হব! কোরানে নবিকে মানুষ বলা হয়েছে ঠিক কিন্তু পরক্ষণে আবার বলা হচ্ছে বা হয়েছে ওনার কাছে অহি আসে—নাজিল হয়। সুতরাং যাঁর কাছে অহি আসে তিনি সারাধণ কেউ তো হতেই পারেন না। ওনাকে হয়তো আল্লাহ এজন্যেই মানুষ বলে ঘোষণা করেছেন, যাতে ওনার মোজেজা দেখে কেউ খোদা বলে গণ্য করে না-ফেলেন! এটা আমরা আল্লাহু সুবাহানুতালার সর্তকসঙ্কেতও মনে করতে পারি—পারি কি না? ‘মাটি’ ‘মাটি’ ‘নূর’ ‘নূর’ করে এতে ওনার সম্মান বাড়াচ্ছি না কমাচ্ছি? এটার সঙ্গে ওঁর সম্মানের কী জড়িত আছে? আমি ‘মাটি’ বললে ওনি তো আর মাটি হয়ে একেবারে ধুলায় মিশে যাবেন না বা ওনার সম্মান ধুলায় পতিত হবেন না। আল্লাহ যাঁকে মহাসম্মানের অধিকারী করেছেন, আমি তাঁকে বা তাঁর যতই সম্মানহানী করি না কেন, ক্ষতি আমার। ‘নূর’ বললেও আর তিনি বিরাট সম্মানের অধিকারী হয়ে আলোর মতো জ্বলে ওঠে একেবারে চন্দ্রসূর্য হয়ে আকাশে ওঠে বসবেন না! এগুলো কেমন বক্তব্য? ওনাকে বড় দেখাতে গিয়ে কেউ অতিরিক্ত করছে আর কেউ ছোট করাতে গিয়ে নিজের ক্ষতি করছে! এগুলো কোনো বক্তব্যের বিষয়? নবিকে অবশ্য প্রাণের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে হবে, না হলে সে মুমিন না—এটা আল্লাহর কথা। মানুষ আসলেই আজব জীব। আজগবি কথা বলতে অভ্যস্ত। যেটা পুণ্যের কথা সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না বরঞ্চ যেটাই ক্ষতি সেটাই নিয়ে লাফালাফি! এটাই মানুষের ধর্ম এবং এটাই মানুষের কীর্তি। তাই, এই কর্মের ফল মানুষ ইহজগতেই ভোগ করে থাকে, পরজগতের কথা পরে।
বুঝতে হবে, এক লক্ষ চব্বিশ হাজার অথবা তার বেশি পয়গম্বর পৃথিবীতে এসেছেন মানুষের মধ্যে থেকে—একমাত্র মানুষের হিদায়েতের জন্যে, মানুষ কতটুকু হিদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছেন? এত এত নবিরাসুল পৃথিবীতে এসেও যেখানে মানুষকে অলিদরবেশ বানাতে পারেননি, সেখানে ওয়াজিনদের ওয়াজ-নছিহতে আর কতটুকুইবা পথপ্রাপ্ত হবে! আল্লাহ যাকে পথ দেখাবে, সে বিনা আদেশ-উপদেশেও সঠিকপথ খুঁজে পাবে। এটা আল্লাহর হিকমত, আল্লাহর কথা ও ঘোষণা। আল্লাহ সে বান্দার প্রতি রহমত করেন, যে মনের দিক দিয়ে বড় হন। আল্লাহকে পাওয়ার জন্যে দল বেঁধে পৃথিবী সায়ের করতে হয় না। না, কোনো আদেশ-উপদেশের প্রয়োজন হয়। যে পাওয়ার যোগ্য রাখে সে ঘরের কোণে বসেও আল্লাহর দিদার লাভ করতে পারে। মনসুরের মতো হিদায়েতি হলে শয়নে-স্বপনে-জাগরণে আল্লাহ দেখে ও আল্লাহর দিদার মিলে। এমন সাধক আজকাল কে আছেন দুনিয়ায়? আমাদের নিজেদের মধ্যেই যতসব শয়তানি আর আমরা পরের শয়তান তাড়াতে দল বাঁধি! এভাবেই কি জান্নাতে যাওয়ার পথ? নাকি এটাতেই জান্নাত আছে? জান্নাত পাওয়া কি এতই সহজ? কোনোকালে কোনো ফেরেশতা যদি নবিরাসুল হয়ে পৃথিবীতে আগমন করত, তা হলে কিছু সংখ্যক হয়তো খোদা মেনে নিত আর কিছু সংখ্যক হয়তো জিনভূত বলে গদা নিয়ে দৌড়াত। ঠিক কি না? এটাই হলো আমাদের মনুষ্যনীতি আর এটাই হলো আমরা মানুষের প্রধান কার্যাবলি!
“মুসলিম তোমার নবির অসম্মানে তুমি নীরব
কে বলে তুমি মুসলমান?
নিজের চেয়ে বেশি না ভালোবাসলে নবিরে
নও তুমি ইমানদার ইনসান!”









