

অপ্টিমিস্টিক
শতাব্দীর শত কল্লোলিত ধারায়
হ্রদয়ের আবগাহন চিত্তে
উকি দেয় অস্তাচলের সুর্যের আভা ।।
নিজের সাথে নিজের প্রবঞ্চনা যেন
বেলাভূমির বালুচরে –
যাপিত জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ।।

যে নিকষের জঠরে জন্মের আগেই মৃত
সে ও পাষাণীর —
অভেদ্য বুক চিরে –
অস্ফুটস্বরে একবার বলে— আমি আসছি ।।
আমি তীর হারা তরীর ভাঙ্গা মাস্তুল
আমি ভাসতে পারি ,
আমি আশায় বুক বাধি–
আমি আশাবাদী ।।
তিলক চিহ্নের শেষ পেরেক
এই মহাবিশ্বের অসামাপ্ত উপাখ্যানের-
শেষ ঠাকুর – নমস্কার তোমাকে।
বোধের নির্লিপ্ত বহিঃপ্রকাশ- আত্নবিনাশী সুর
সে ও তোমার সৃজনী শোভা,
শুধু আমরা নির্বিকার।।
দিয়েছ উজাড় করে—
নিয়েছি প্রাণ ভরে ,
সাথে প্রতিহিংসার ঝান্ডাটি
কলবের কৃত্রিম কলপে ।।
দিগন্ত পেরিয়ে ,সীমানার ওপারে-
ধূসর গোধূলি মাড়িয়ে , এটাই সত্য
জীবনের অনু কাব্যের প্রান্ত রেখা নেই
কেঊ না কেঊ লেখে তার নাম ।।
স্বপ্ন
ধূসর গোধূলির ওপারে নীল জলরাশি মাড়িয়ে
বেওয়ারিশ স্রোতের নিঃশব্দ আর্তনাদের লার্ভায়-
আমায় কে যেন বলে আদিবাসী ফড়িঙের
কোন ঘর নেই।।
ব্যাথাতুর গাঙচিলের কোন স্বপ্ন নেই
মেহেদী রাঙা ষোড়শীর হাতে
তটিনীর কাঁদা আর্বজনার জঠরে যে ভাট ফুলের জন্ম
তার জন্য ভালোবাসা নেই , তাঁর হাতে ভাঁট ফুল নেই।।
ও পাখি-ও পাখি আর একবার , আর একবার
ডানা ঝাপিয়ে তোমার কিছু সঙ্গম তাড়না-
ফেলে দাও – দত্তক দাও এখনো নিঃসন্তান অবনীরে—
জানো তো , স্বপ্নরা দুঃস্বপ্নেও স্বপ্ন দেখে যার কোন সীমা নেই।।
কে তুমি ?
অন্ধকারের বুক চিরে যে বৃক্ষের জন্ম
আমি জানি তাঁর নিকষ বিবর্ণ সংগ্রাম
বেওয়ারিশ অগোছালো উদ্ভিদের ভীড়ে
তিলক চিহ্ন ললাটে একে-
মাথা তুলে দাড়াবার এক অমোঘ শক্তি ।।
ঝড় ,বজ্রপাত আর বজ্ররশ্নির প্রকম্পিত
শব্দের উপেক্ষা—
হাজার বছরের পৃথিবীর ইতিহাস –
সাক্ষ্য বহন করে ,
আবক্ষ মূর্তির জীবন্ত মূর্ছনায় ।।
কে যেন ডাক দিয়ে যায়
কে যেন ডাক দিয়ে যায় –
তোমার গাঁয়ের সীমানায়
বেওয়ারিশ কলমি ফুলের শোভায়।
কল্পনার তরী তটে এসে
দেখি ফিরে-
কে যেন হাসে , দিগন্তের পটে ।।
চিনিনি তারে – রেখে গেছে
মোনালিসার চেনা –আচেনা মিশেল মায়া
অম্বরের ভাজে।।
নেই ক্রোধ ,নেই অভিমান
শুধু ভালবাসার বাতায়ন ,
শুধু কে যেন ডাক দিয়ে যায় ।।
কে যেন ডাক দিয়ে যায়
চিত্তের কিনারায়
শিশিরের নিস্তব্দ ফোঁটায় ।।
মোঃ জুয়েল হাওলাদার, প্রধান শিক্ষক
১ নং আর ডি এন মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
দিঘলিয়া , খুলনা।









