

গাজী মোঃ মহসিন :
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোঃ নাসির উদ্দিন তপদার পূর্ব শত্রুতার ক্ষোভে তার স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোঃ সানজিদ ইসলাম বকাউলকে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক যখম করেছেন। সানজিদ ইসলামের পিতা মোঃ শাহআলম বকাউল ঔই বিদ্যালয়ের নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। এই ঘটনা নিয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ বিরাজমান করছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায় গত ৫ নভেম্বর রোববার বিকাল সাড়ে তিনটায় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র সানজিদ ইসলামের বোন সুমাইয়া আক্তার এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আহত শিক্ষার্থীর বড় বোন সুমাইয়া আক্তার জানান, তার ভাই সানজিত ইসলাম হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। বিকেল সাড়ে তিনটার সময় বিদ্যালয়ের ২য় তলার কক্ষে টেবিল নিয়ে নাড়াচাড়া করলে টেবিলটি নিচে পড়ে যায়। তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তপাদার ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থী সানজিদ ইসলামকে বেধড়ক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করেন। এতে তার পিঠে হাতে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ পড়ে রয়েছে।
ঘটনার সংবাদ শুনে সানজিদ ইসলামের মা দ্রুত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তপদারের কাছে জানতে চান কেন তার ছেলেকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেছেন। তখন প্রধান শিক্ষক জানান রাগের মাথায় তাকে পিটিয়েছেন, তিনি দুঃখ প্রকাশ করে তখন নিজে ভুল স্বীকার করেন। পরে সানজিদ ইসলামকে তার মা তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান।
এ বিষয়ে সানজিদ ইসলামের চাচা মোঃ মনির হোসেন ও উত্তর পিংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ সোহেল মাস্টার জানান, তার বড় ভাই মোঃ শাহ আলম বকাউল অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য। ইতি পূর্বে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিয়ান শিক্ষক নিয়োগে প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন তপদার অসৎ উপায়ে অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিলে তিনি এতে বাঁধা দেন ঐ শিক্ষার্থীর বাবা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য শাহ আলম বকাউল। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলেকে বেধম মারধর করেন। এর আগেও এই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেনু দাস জানান, তিনি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছেন। যেহেতু এটি ফৌজদারি অপরাধ সেজন্য বিষয়টি থানায় পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ থানার ওসি রিপন বালা বলেন, আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য বলেছি। পরে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।










