

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল :
কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৭ সালে ৪৯ নম্বর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে নৌশেরার ট্রেনিং শেষে ১৯১৯ সালের দিকে করাচিতে অবস্থান করছিলেন। সম্ভবত তখনই দৌলতপুরের আলী আকবর খানের সাথে নজরুলের পরিচয় ঘটে।

দৌলতপুর খাঁ ও মুন্সি বাড়ি
তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের বরদাখাত পরগনার বিখ্যাত জমিদার আগাসাদেক’র মেয়ের জামাতা মীর আশ্রাফ আলীর জমিদারী স্টেটের প্রজাহিতৈষী জমিদার রায় বাহাদুর রূপেন্দ্র লোচন মজুমদারের জমিদারী এলাকার অন্তর্ভুক্ত এক গ্রাম ‘দৌলতপুর’। এই গ্রামের দুটি সম্ভ্রান্ত বাড়ি- মুন্সী বাড়ি ও খাঁন বাড়ি। আÍীয়তার সুবাদে মুন্সী বাড়ি ও খাঁন বাড়ির মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক তখন থেকেই। খাঁন পরিবার আফগানিস্তান বংশোদ্ভুত। বংশীয় ও সামাজিক মর্যাদার উচ্চতায় দু’টি বাড়ির অবস্থান কাঁধে কাঁধে মিললেও আর্থিক বিবেচনায় মুন্সীবাড়ির অবস্থান ছিলো ওপরে।
আলী আকবর খাঁন
দৌলতপুরের সম্ভ্রান্ত খাঁন পরিবারের ছেলে আলী আকবর খাঁন। খ্রিস্টিয় ১৮৮৯ সালে খাঁন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন একসময়ের বহুল আলোচিত এই আলী আকবর খাঁন। আলতাফ আলী খাঁন, ওয়ারেশ আলী খাঁন, নেজবত আলী খাঁন তাদেরই কনিষ্ঠ ভাই আলী আকবর খাঁন। দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া আলী আকবর খাঁন ছিলেন মেধাবী। দারিদ্র্যকে উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত তিনি কৃতিত্বের সাথে বি. এ. পাস করেন। শিক্ষা জীবন শেষে প্রথমে চাঁদা সাহেবের গৃহশিক্ষক, পরে সৈনিকের চাকুরিতে যোগ দেন। সৈনিক জীবনে এক পর্যায়ে তিনি ক্যাপ্টেন পদমর্যাদায় উন্নীত হন। একজন নাট্যকার (লেখক) হিসেবেও তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর লেখা হিন্দুস্থানের ইতিহাস, মোসলেম চরিত, আদর্শ মহিলা প্রভৃতি গ্রন্থ এবং ভিশতি বাদশাহ ও বাবর প্রভৃতি নাটক উলেখযোগ্য। সৈনিক জীবন শেষে রূপসা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থেকে এক পর্যায়ে পুস্তক ব্যবসার সাথে জড়িত হন। বাংলা বাজার ও কোলকাতায় ভারতীয়া লাইব্রেরী নামে বইয়ের দোকান প্রতিষ্ঠা করেন।
আলী আকবর-নজরুলের বন্ধুত্ব
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ কমরেড মোজাফ্ফর ও শিক্ষানুরাগী ক্যাপ্টেন ডা. নরেন্দ্রনাথ দত্ত এ দু’জন ব্যক্তি আলী আকবর খাঁনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। এক সময় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথেও তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
নজরুলের সৈনিক পদমর্যাদা তখন ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার, আলী আকবর ছিলেন ক্যাপ্টেন।
কবি কাজী নজরুলের দৌলতপুর আসা
১৯২০ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুল দেশে ফেরেন। এক পর্যায়ে মার্চ মাসে বাঙালি পল্টন ভেঙ্গে দেয়ার খবর পান। পরে ১৯২১ সালে (বাংলা ২৩ চৈত্র ১৩২৭) আলী আকবরের সাথে নজরুল কুমিলা হয়ে মুরাদনগরের দৌলতপুরে আসেন। তবে আলী আকবর খাঁনের সাথে নজরুলের দৌলতপুরে আসার বিষয়টি নিয়ে খাঁন পরিবার ও মুন্সী পরিবারের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। স¤প্রতিকালে এ দুই পরিবারের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও পাওয়া যায়। মুন্সী বাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান মুন্সী ওরফে রওশন মুন্সীর (নার্গিসের ভ্রাতুষ্পুত্র) দাবি, তার চাচা অর্থাৎ নার্গিসের বড় ভাই আব্দুস সোবহান প্রথম মহাযুদ্ধের সৈনিক ছিলেন। নজরুল তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সূত্র ধরেই দৌলতপুরে আসা।
তবে নজরুল কার হাত ধরে দৌলতপুর এসেছিলেন এসব বিতর্কের উর্ধ্বে হচ্ছে, নজরুল এসেছিলেন এবং আসার কারণেই নজরুল জীবনে এক নতুন মাত্রা ও নতুন অধ্যায় সূচিত হয়।
নজরুল-নর্গিসের পরিচয়
দৌলতপুরে অবস্থানকালেই একজন বিদ্রোহী নজরুলের মাঝে আবির্ভুত হয় প্রেমিক নজরুলের। খাঁন বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার উত্তরে মুন্সী বাড়িতে বিয়ে দেন আলী আকবর খাঁনের বোন আসমতের নেসাকে। বাবার বাড়ি একই গ্রামে হওয়ায় আসমতের নেসা প্রায়শই বাবার বাড়ি থাকতেন, সেই সাথে তাঁর মেয়ে সৈয়দা খাতুনও।
এক পর্যায়ে সৈয়দা খাতুনের বড় ভাই জব্বার মুন্সীর সাথে মামা নেজাবত আলী খানের মেয়ে আম্বিয়া খানমের বিয়ের দিন স্থির হয় ১৯২১ সালের ৫ মে (বাংলা ২২ বৈশাখ)। সেই বিয়েতে যোগ দেন নজরুল। জনশ্র“তি আছে এবং ঐতিহাসিকদের মতেও ওই দিনই যুবক নজরুলের প্রথম দেখা হয় ভাইয়ের বিয়েতে আসা ষোড়শী সৈয়দা খাতুনের সাথে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে সখ্যতা। নজরুল ইরানী ফুলের নামে তাঁর নাম রাখেন নার্গিস আসার খানম। নার্গিসের রূপ-মাধুরী ও প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে দৌলতপুরে দীর্ঘ ৭১ দিন অবস্থান করেন নজরুল।
নজরুল-নার্গিসের প্রেম-বিয়ে
দৌলতপুরে একটানা থাকাকালে সৃষ্টি হয় নজরুল-নার্গিসের প্রেমের সম্পর্ক। নার্গিস নজরুলকে কতখানি আলোড়িত করেছিলেন এর স্বাক্ষর রয়েছে “হিংসাতুর” কবিতায় এবং ১৯৩৭ সালের ১ ফেব্র“য়ারি নার্গিসকে লিখা নজরুলের একটি চিঠিতে- “…আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্যে আমার হৃদয়ে কী গভীর ক্ষত, কী অসীম বেদনা !”
এক পর্যায়ে আলী আকবর ভাগ্নি নার্গিসকে নজরুলের সাথে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে বিয়ে দেন। বিয়েতে জমিদার রায় বাহাদুর উপেন্দ্র লোচন মজুমদারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন বলেও জানা যায় (আলী আকবর খানের ভাই ওয়ারেশ আলী খাঁনের নাতি আব্দুল করিম ও তার ছেলে জুয়েলের দেয়া তথ্যানুযায়ী)।
দৌলতপুরে নজরুলের ৭১ দিন
এ সময় এলাকার অনেক স্থানই নজরুলের পদচারণায় ধন্য হয়েছে। পার্শ্ববর্তী প্রাচীন বিদ্যালয় বাঙ্গরা ওমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়েও গিয়েছেন এবং সেখানে নজরুলকে সংবর্ধনা দেয়ার কথাও শোনা যায়। বাঙ্গরা স্কুলের শিক্ষক আব্দুর রহমান ভুইয়া জানান, স্কুলের সামনে একটি বকুল গাছের নিচে নজরুল বাঁশি বাজাতেন। সেই স্মৃতিবিজড়িত গাছটিও কেটে ফেলা হয়েছে বছর কয়েক আগে। এ যাবৎ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী নজরুল দৌলতপুরে বসেই ১৬০টি গান এবং ১২০টি কবিতা রচনা করেছিলেন। উলেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে- ‘বেদনা-অভিমান’, ‘অবেলা’, ‘অনাদৃতা’, ‘পথিক প্রিয়া’, ‘বিদায় বেলা’ প্রভৃতি। দৌলতপুর অবস্থানকালে সুর সম্রাট উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ দৌলতপুরে এলে নজরুল তাকে কদমবুচি (সালাম) করে সম্মান জানান।
নজরুলের দৌলতপুর ত্যাগ
যতদূর জানা যায়, বাংলা ১৩২৮ সালের ৪ আষাঢ় নজরুল অজ্ঞাত কারণে বিয়ের রাতেই দৌলতপুর ছেড়ে গোপনে চলে যান। এ আকস্মিক চলে যাবার পর নজরুল কুমিলায় এলেও আর দৌলতপুর আসেননি। চলে যাবার কারণটি এখনো রহস্যাবৃত। এই ব্যর্থ বিয়ের বছর দুয়েক পর কুমিলায় ইন্দ্রকুমার সেন গুপ্তের বিধবা বোন গিরিবালা দেবীর একমাত্র কন্যা আশালতা সেনকে (প্রমীলা) বিয়ে করেন নজরুল।
নজরুল জীবনে নার্গিসের প্রভাব
বলা যায় নার্গিসই একমাত্র নারী, যার কল্যাণে পৃথিবীতে নজরুলের মতো একজন বিখ্যাত কবির সৃষ্টি হয়েছিলো। একথা নজরুল স্বীকার করে গেছেন “হিংসাতুর” কবিতায় এবং একটি চিঠিতে “…তুমি এই আগুনের পরশ মানিক না দিলে আমি ‘অগ্নিবীণা’ বাজাতে পারতাম না- আমি ‘ধুমকেতুর’ বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না…।” “…আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্যে আমার হৃদয়ে কী গভীর ক্ষত, কী অসীম বেদনা !” ( নার্গিসকে লিখা নজরুলের চিঠির অংশবিশেষ)।
নার্গিসের অপেক্ষা ও বিয়ে
নজরুল চলে যাবার পরও নার্গিস তাঁর জন্যে ১৬ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলেন। এক পর্যায়ে মামাতো ভাই নোয়াজ্জস আলী টুক্কু খাঁন (তৎকালীন ইউপি ভাইস প্রেসিডেন্ট) কোলকাতায় গিয়ে নজরুলের কাছ থেকে এক প্রকার জোর পূর্বকই বিয়ের তালাকনামায় স্বাক্ষর আনেন (১৯৩৭ সালে)। অতঃপর জোর করেই নার্গিসকে বিয়ে দেন ঢাকার হাসানবাদের ছেলেন কবি আজিজুল হাকিমের সাথে। তাঁদের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় এক মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে ডা. আজাদ ফিরোজ ইউরোপের ম্যানচেস্টারে চিকিৎসক এবং মেয়ে শাহানারা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক।
আলী আকবর ও নার্গিসের মৃত্যু
আলী আকবর খাঁন ১৯৭৭ সালে পরলোকগমন করেন। নার্গিস ১৯৮৫ সালে পরলোক গমন করেন, তাঁকে সমাহিত করা হয় ম্যানচেস্টার শহরে। আজ নজরুল, নার্গিস, আলী আকবর এরা কেউ নেই। আছে শুধু একটি অমর প্রেম কাহিনী আর কিছু স্মৃতি চিহ্ন।
দৌলতপুর ১৯২১-১৯৭১
১৯২১ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দৌলতপুরের নজরুল অধ্যায়টি অনেকটাই আড়াল ছিলো। যতদূর জানা যায়, যে আলী আকবরের হাত ধরেই নজরুলের দৌলতপুর আসা, আবার এক সময় সেই আলী আকবরই নজরুলের নামটি পর্যন্ত শুনতে পারতেন না এবং তারই হাতে নজরুলের লেখা সংম্বলিত অনেক কাগজপত্রাদি ধ্বংস হয়েছে। খাঁন পরিবার আজীবন “নজরুল–নার্গিস” অধ্যায়টিকে একটি কলঙ্কিত ইতিহাস বলে মনে করতেন ( খাঁন বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম তেমনটি মনে করেন না)।
দৌলতপুরে নজরুল চর্চার গোড়াপত্তন
নার্গিসের সন্তানেরাও দৌলতপুর আসেন না। খাঁন বাড়ির অনীহায়-অবহেলায় নজরুলের দৌলতপুর অধ্যায়টি দীর্ঘদিনে অনেকটাই আড়াল হয়ে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে দৌলতপুরের আবুল কাশেম বুলবুল ইসলামসহ কিছু উৎসাহী ব্যক্তির কল্যাণে লুপ্তপ্রায় ইতিহাস উদ্ঘাটিত হয়। স্বাধীনতার পর শুরু হয় দৌলতপুরে নজরুলের চর্চা। ১৯৭২ সালের ২৩ জুলাই দৌলতপুর “নজরুলের স্মৃতি স্মরণী সংসদ” গঠিত হয়। যা ১৯৮৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ আমিনুর রহমান নজরুল নিকেতনে রূপ দেন।
কবিতীর্থ দৌলতপুরে নজরুলপ্রেমীদের দাবি
নজরুলের চুরুলিয়া গ্রামে ১৯৫৮ সালে নজরুল একাডেমী স্থাপিত হলেও সুদীর্ঘ প্রায় অর্ধশতাব্দী পর দৌলতপুরে স্থাপিত হয়েছে নজরুল মঞ্চ, যা শুধুমাত্র বছরের বিশেষ কোনো দিবস, বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার হয় না। ২০০৪ সালে নার্গিসের ভাইয়ের ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত¡ বিভাগের অধ্যাপক মনিরুল হক দৌলতপুর মুন্সী বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন “নার্গিস-নজরুল বিদ্যা নিকেতন” নামে একটি বালিকা বিদ্যালয়। স্কুলটিরও এখন চলছে দূরবস্থা। “নজরুল স্মৃতি স্মরণী সংসদ” গঠনের মধ্যদিয়ে দৌলতপুরে স্থানীয় পর্যায়ে নজরুল র্চচা ও স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হয়। সাবেক জেলা প্রশাসক সৈয়দ আমিনুর রহমানের প্রচেষ্টায় দৌলতপুর নজরুল অধ্যায়টি জাতীয় পর্যায় আলোচনায় উঠে আসে। সৈয়দ আমীনুর রহমান ‘নজরুল স্মৃতি স্মরণী সংসদ’কে নজরুল নিকেতনে রূপ দেন। যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো দৌলতপুরে নার্গিসের নামে একটি বালিকা বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ স্থাপন, অডিটরিয়াম, উন্মুক্ত মঞ্চ নির্মাণ, সমৃদ্ধ পাঠাগার ও যাদুঘর স্থাপন, পর্যটকদের সুবিধার্থে একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ এবং সংগীত, নৃত্য ও নাটক প্রশিক্ষণের জন্যে শিল্পকলা একাডেমী স্থাপন প্রভৃতি। দৌলতপুরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কবিতীর্থে রূপদান এবং প্রতিবছর রাষ্ট্রীয়ভাবে তিন দিনব্যাপী নজরুল মেলার প্রচলন শুরু হলেও বুলবুল ইসলামের মৃত্যুর পর (১৯৯৮ সালে) কবিতীর্থ দৌলতপুরে নজরুল র্চচা অনেকটাই থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু পরবর্তীতে সংসদ সদস্য দিলারা হারুন নজরুল স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলোতে স্মৃতিফলক লাগালেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে এখন সবই ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। নজরুল যে আম গাছের নিচে বসে বাঁশি বাজাতেন, সেটি মরে গেছে। বাসরঘরটিও আগের অবস্থায় নেই, স্মৃতিময় খাটটিও ধ্বংসের দিকে।
আলী আকবর খাঁন ছিলেন চিরকুমার। তাঁর ভাইয়ের উত্তরসুরীদের ইচ্ছে থাকলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতার দরুন তাদের দ্বারা এ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের যথাযথ সংরক্ষণ করা অসম্ভব। আলী আকবর খাঁনের বংশধর বাবলু আলী খাঁন বলেন, প্রতি বছরই নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বুলি আউড়িয়ে বক্তৃতা দিয়ে যান সরকারি কর্মকর্তা এবং নেতারা কিন্তু তা’ বাস্তবতাশূন্য। নজরুলের কুমিলা স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের সা¤প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানান নজরুলপ্রেমীরা। তবে, ২০০৭ সালে কুমিলা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ১ কোটি ২২ লাখ টাকার একটি উন্নয়ন প্রস্তাবনা প্রেরণের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম-সচিব ড. কামাল আবুল নাছের চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল দৌলতপুর পরিদর্শন করলেও উন্নয়ন প্রস্তাবনার কোনো হদিস না থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেন। নজরুল জাদুঘর স্থাপনের জন্যে প্রস্তাবিত “আলী আকবর খাঁন মেমোরিয়াল” ভবনটিও ধ্বংমের দ্বারপ্রান্তে। এটি সংস্কার ও সংরক্ষণ সময়ের দাবি। এটি ব্যবহারকারীরা জানান, যথাযথ পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে বাড়িটি তারা ছাড়বেন না। এ বাড়িটির বিষয়ে আশু সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলে সবাই মনে করেছেন। জাতীয় পর্যায়ে নজরুল পদকপ্রাপ্ত শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব গোলাম কিবরিয়া সরকারসহ নজরুলপ্রেমীদের দাবি, পূর্ণাঙ্গ নজরুল নিকেতন গঠন ও বাস্তবায়ন করে নজরুল বিজড়িত স্মৃতিগুলো যথাযথ সংরক্ষণ, একটি নজরুল যাদুঘর স্থাপনের পাশাপাশি নজরুল-নার্গিস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ এবং মুরাদনগর উপজেলাকে ভেঙ্গে যে নতুন উপজেলা গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, তা’ যেন নজরুল উপজেলা নামকরণ করা হয়।
প্রকাশিত : শনিবার, ২৫ মে ২০২৪
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন









