

কারো দুঃসময় নিয়ে উপহাস করা উচিত নয়।
ছবির এই লেখিকা হলেন ৫৬০ কোটি ইউরোর মালকিন। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং জে.কে রাউলিং। একদিন সুসময় আসতে পারে ঠিক এইভাবেই। সেদিন উপহাস করা ব্যক্তিদের অবস্থা কি হতে পারে, কেউ বলতে পারে না। ‘৯০ -এর দশকের লন্ডন।
সময়টা একটা শরতের সন্ধ্যাবেলা। টেমসের ধারে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই বসে আছেন এক বছর তিরিশের মহিলা। বিগবেনে ঘড়ির কাঁটা সোয়া পাঁচটা ছুঁয়েছে। টেমসের জলে কেউ ঝাঁপ দিল। গার্ড সঙ্গে সঙ্গে হুইশেল বাজালেন। জলরক্ষী বাহিনীর বোট ততক্ষণে উদ্ধার কাজে লেগে পড়েছে। উৎসাহীরা ভিড় জমিয়েছেন।

কে ঝাঁপ দিল তখনও কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর উদ্ধারকারীরা যাকে তুলে আনলেন, সেই বছর তিরিশের মহিলা একটু আগেই বসে ছিলেন টেমসের তীরে। তার জ্ঞান ছিল না। বাধ্য হয়েই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো। যখন তার জ্ঞান ফিরল ডাক্তার বললেন, আপনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে জলে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে চেষ্টা করলেন কেন? কি এমন হয়েছে আপনার? নির্বিকার মহিলা বললেন, আমার নাম জোয়ানি। আমি বাড়ি যাব।
ডাক্তার বুঝলেন উনি অ্যাকিউট ডিপ্রেশনে ভূগছেন। তিনি তাই জোয়ানিকে একজন সাইকিয়াইট্রিস্টের পরামর্শ নিতে বললেন। এর মাঝে অনেকদিন কেটে গেছে। জোয়ানির স্বামী তাকে পরিত্যাগ করেছেন। তার একটি সন্তানও আছে। জোয়ানির বাবার অমতে বিয়ে হওয়ায় জোয়ানির পৈতৃক বাড়িতেও তার ঠাঁই হলো না তার। অর্থনৈতিক অবস্থা এমন শোচনীয় হলো যে খাবারটুকু জোটাবার সামর্থ্য ছিল না জোয়ানির কাছে। এক সময় বাধ্য হলেন সন্তানকে সরকারি হোমের আশ্রয়ে পাঠিয়ে দিতে। আরো একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন তিনি। কিন্তু বন্ধুরা ঠিক সময় এসে পড়ায় সে যাত্রায় বেঁচে যান। পেট চালাবার তাগিদে ক্যাফেতে কাজ নেন। কিন্তু তাতেও দেনার টাকা শোধ করা যাচ্ছিল না।
এমনি একদিন ম্যাঞ্চেস্টার থেকে লন্ডনে যাবার ট্রেনে চাপলেন। যাত্রাপথে এক বিস্ময় বালককে নিয়ে একটা গল্পের প্লট হঠাৎই মাথায় এলো জোয়ানির। হাতের কাছে কিছু না থাকায় টিস্যু পেপারের ওপরেই লিখে ফেললেন গল্পটি। লন্ডনে পৌঁছে আবার ক্যাফেতে কাজ শুরু করলেন তিনি। একদিন অপরাহ্নের বিরতিতে তার বন্ধু রবার্ট ঐ টিস্যু পেপারগুলি আবিষ্কার করলেন। এবং আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ লেখা কি তোমার জোয়ানি। নির্বিকার জোয়ানি শুধু ঘাড় নাড়লেন।
রবার্ট বললেন, এক্ষুনি তার উচিত কোনো প্রকাশকের সঙ্গে দেখা করা। কি মনে করলেন জানা নেই, তবে সেদিন কাজ সেরে এক প্রকাশকের কাছে তিনি ঐ পেপারগুলি দিয়ে এলেন। এক সপ্তাহ পর সেই ক্যাফের ম্যানেজারের কাছে জোয়ানির জন্যে একটা ফোন এলো। ফোনের ওপারে ছিলেন ব্লুমস্ বিউরি প্রকাশনা সংস্থার প্রধান সম্পাদক বেরি ক্যানিংহাম। উনি জোয়ানিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ঐ আশ্চর্য বালকের কাহিনীকে আরো বিস্তৃত আকারে লিখতে পারবেন কি ? জোয়ানি বললেন, হ্যাঁ পারব। কিন্তু আমার তো উপার্জন বন্ধ হয়ে যাবে তাহলে। বেরি বললেন, আপনাকে আমরা দৈনিক পারিশ্রমিক দেব। দয়া করে আপনি লিখুন। ক্যাফে ছাড়লেন জোয়ানি। মন দিলেন লেখায়। বাকিটা ইতিহাস। সৃষ্টি হলো জগত বিখ্যাত ‘হ্যারি পটার’ সিরিজ। বিশ্ব জুড়ে চল্লিশ কোটি বই বিক্রি হলো রাতারাতি। লেখিকা হলেন ৫৬০ কোটি ইউরোর মালকিন। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং জে.কে রাউলিং। এই পৃথিবীতে প্রতিদিন অলৌকিক কিছু হচ্ছে। কে বলতে পারে কালকের দিনটা আপনার নয়!
আপনি কি মধ্যবয়স্ক, একা, অবিবাহিত, ডিভোর্সী? আমরা ইচ্ছে করে কেউ একা বাঁচতে চাই না। কিন্তু পরিস্থিতির কারনে আমরা অনেকে একা হয়ে যাই। মধ্য বয়স থেকে একাকীত্বের কষ্ট বাড়তে থাকে। আপনার বয়স কত হবে? ৪০, ৪৫ কিংবা ৫০? আপনি নিশ্চয়ই চান না একা বাঁচতে। কিন্তু আপনাকে যদি আমৃত্য একাই বাঁচতে হয় তাহলে কি নিরানন্দে কাটাবেন? আপনি একা নন। আপনি নিজেই নিজের বন্ধু। নিজের সাথে সময় কাটানোকে উপভোগ করুন। অনলাইন অফলাইনের মানুষগুলো আপনার জীবনে ক্ষণস্থায়ী। তবুও ইতিবাচক মানুষের সাথে মিশুন, গল্প করুন। নিজের সাথে আপনার সম্পর্ক স্থায়ী এবং তা আজীবনের। আপনার শরীর ও মনের বিষয় গুলোকে ভালোবাসুন। এই বয়সে নিজের সৌন্দর্য উপভোগ করুন। আপনি জানেন না যে, কতদিন বাঁচবেন। হয়ত আরও বিশ ত্রিশ বছর বাঁচবেন। শরীর ও মনের যত্ন নিন। শরীর ভালো থাকলে মনে আনন্দ পাবেন। খাওয়া, ঘুম, ব্যায়াম, বিনোদন, জ্ঞান চর্চা, অবসর, বই পড়া ইত্যাদি ঠিকমত করুন। নিজেকে সাজান। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন এবং ফিটফাট থাকুন। এতে আপনি প্রাণবন্ত থাকবেন। অর্থনৈতিক বিষয়ে নজর দিন। রোজগার করুন। জমানো টাকা বা সম্পদ থাকলে তা কাজে লাগান। অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বজায় রাখতে পরিকল্পনা করুন।
নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল রাখতে পারলে মানসিক স্থিতিশীলতা ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে পারবেন, এবং জীবনকে উপভোগ করা সম্ভব হবে। মনে রাখবেন আর্থিক স্বাধীনতা শুধু স্বাধীনতাই নয়, এটি আপনাকে অধিক সক্ষম করে গড়ে তুলবে। সামাজিক সম্পর্ক তৈরী করুন। সমমনা মানুষদের সাথে নেটওয়ার্ক তৈরী করুন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গির কাছাকাছি মানুষদের সাথে মিশুন, আড্ডা দেন, গল্প করুন। মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর এমন মানুষকে এড়িয়ে চলুন। নিজেকে সামাজিক ও ইতিবাচক কাজে যুক্ত করুন। মানুষের কল্যাণ হয় এমন কাজের সাথে থাকুন। এইরকম কাজে আগ্রহী মানুষদের সাথে সংযোগ করুন। এই কাজের মাধ্যমে আপনি বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য খুঁজে পাবেন।
আপনি একা আছেন, এটি মেনে নেন। একা থাকা কোন পাপ নয়। নিজের উপর ফোকাস করুন। আপনি যখন নিজেই নিজের জন্যে যথেষ্ট হয়ে উঠবেন, তখন সামাজিক পরিস্থিতিও আপনার অনুকূলে আসবে। আপনার আশেপাশে সমমনা মানুষদের বিচরণ আপনি লক্ষ্য করবেন। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী থাকুন। ধর্মীয় নিয়ম ও অনুশাসন মেনে চলুন। নিজেকে আশাবাদী রাখতে এটি খুব সহায়ক হবে। মধ্য বয়স পর্যন্ত আপনি জীবনে যা শিখেছেন, তা কাজে লাগান। আপনার বাকী জীবনটা সুন্দর করুন। বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য গুলোকে সামনে আনুন। নিজেকে আনন্দিত ও সন্তুষ্ট রাখতে আপনার সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগান।
(সংগৃহিত)
প্রকাশিত : বৃহস্পতি বার, ১৮ জুলাই ২০২৪
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
পাইলস ফিস্টুলা রোগের কারণ ও প্রতিকার
শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়









