

নিজস্ব প্রতিবেদক :
গত ৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মিরপুর পল্লবীর একটি বাসা এবং নোয়াখালীর বাড়িতে হঠাৎ আক্রমণ চালায় একদল উগ্রপন্থী। তারা প্রথমে বাড়ির লোকজনকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু তিনি বাড়িতে না থাকায় প্রায় ২০-২৫ জন হামলাকারী বাড়িতে ভাঙচুর ও তল্লাশি চালায়।

এ সময় ঢাকা এবং নোয়াখালীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে এবং গুদামে হামলা ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। আসবাবপত্র, ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, নথিপত্রসহ গৃহস্থালির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়।

পরে তারা জানতে পারে আতিকুর রহমান তার স্ত্রী রুমা আক্তার তার পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে অবস্থান করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হামলাকারীরা প্রথমে বেগমগঞ্জ, নোয়াখালীর দুটি গুদামে আক্রমণ চালায়। এতে কয়েক কোটি টাকার পণ্য নষ্ট হয়। এরপর তারা নোয়াখালীতে তাদের বসতবাড়িতে গিয়ে পুনরায় হামলা চালায়।
হামলাকারীদের অভিযোগ, আতিকুর রহমান ও তার স্ত্রী রুমা আক্তার আওয়ামী লীগের সহযোগী। তবে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, “আমরা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করতাম, কিন্তু আমরা কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে দলের কোনো পদে কখনো ছিলাম না।”
এই ধারাবাহিক হামলায় পরিবারটি চরম আতঙ্কে রয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এলাকার স্থানীয় লোকজন জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে ধারাবাহিক হামলাভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কোম্পানীগঞ্জে ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি এবং শহরের আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টুর বাড়িতে হামলা লুটপাট ও আগুন দেওয়ার ঘটনা উল্লেখযোগ্য । এসব ঘটনায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও আসবাবপত্র লুট করা হয়।
নোয়াখালীতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার মূল তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো: ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি: ৬ আগস্ট ২০২৪ দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার বড় রাজাপুর গ্রামের মিয়া বাড়িতে হামলাভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
৫ আগস্ট ২০২৪-এ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টুর বাড়িতে হামলালুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম ইব্রাহিমসহ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বাড়ি ও কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে এলাকার লোকজন জানায়।
হামলাকারীরা সাধারণত মুখোশধারী তরুণ, যারা মোটরসাইকেলে এসে এসব ঘটনা ঘটায়। ৫ আগস্টের পর থেকে বেশিরভাগ নেতাকর্মী আত্মগোপনে থাকায় এসব বাড়ি খালি ছিল। এ সুযোগে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাগুলো ঘটে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসবাবপত্রঘরবাড়ির পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও ভাঙচুর বা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট, ২০২৪ খ্রি.










