মূর্তিভাঙার গল্প : আযাহা সুলতান

মূর্তিভাঙা নিয়ে দুয়েকদিন আগে ফেইসবুকে এক লেখক ভদ্রলোকের একটি পোস্ট দেখলাম। ভদ্রলোক যা লিখেছেন সেটা অযৌক্তিক না। মূর্তি যারা ভেঙেছে তাদেরকে পাতাল থেকে ধরে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে ইত্যাদি। কথা যৌক্তিক আর যৌক্তিক কথা শুনতে ভালো লাগে। ভালো লাগে না কেবল কারও ‘হামবড়া’ অহংবুদ্ধি দেখে। মূর্তিভাঙার বিষয়ে লেখকের ভূমিকা প্রশংসনীয়। লেখক অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে ভালো কথা কিন্তু অমানবিক লাগল বেশ কিছু ব্যতিক্রম মন্তব্যের মধ্যে একটি মন্তব্য দেখে। মন্তব্যকারী ভদ্রলোকও আবার লেখক। লেবাসে মনে হলো জামাত কিংবা শিবিরের অনুসারী হতে পারে। সে যাইহোক, তার পছন্দে আমি অপছন্দের প্রহসন রচনা করব না।

তিনি মন্তব্য করেছেন, মূর্তি ভাঙা ইসলামে জায়েজ। নবিরাসুলেরা ও সাহাবারা মূর্তি ভেঙেছে। ওনি যথেষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারবে এধরণের ইত্যাদি কথাবার্তা। কথা ঠিক, ওনি বেশ প্রমাণ দেখাতে না পারলেও আমরা প্রায়ই মুসলমানেরা তা জানি—নবি ইব্রাহিম (আ) খোদ মূর্তি ভেঙেছেন। কাবাঘরের মূর্তিভাঙার ইতিহাসও আমরা মুসলিমেরা কমবেশি জানি। কোরান আল্লাহর একত্ববাদ ঘোষণা করেছে ঠিক তবে অন্যের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ বা হুকুম জারি করে রেখেছে। দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে অন্যধর্মের মূর্তিভাঙার নির্দেশ বা ফরমান কোরান জারি করেনি। যেহেতু কাবা প্রথম থেকেই এক আল্লাহর ঘর হিসাবে ছিল (কেয়ামত পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই) পরে মূর্তি রাখা হয়েছিল বলে, সেহেতু মহানবি মহম্মদ (স) কাবার আসল মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে বা পুনরুদ্ধার করতে মূর্তিগুলো ভেঙে দিয়েছিলেন।

আশ্চর্য বা গুরুত্বের কথা হলো, পোস্টদাতা গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করেছে ঠিক তবে চুপচাপ আড়ালে-আবডালে বসে থেকে মন্তব্যের বাকযুদ্ধ দেখা বা মজা নেওয়া মোটেও ঠিক না। মন্তব্যকারীর প্রশ্নের ও মন্তব্যের উত্তর দেওয়া পোস্টদাতারই কর্তব্য। এরকম হাজারও পোস্ট দেখি ফেইসবুকে বা অন্যান্য প্লাটফর্মে মন্তব্যকারী শত শত মন্তব্য করে যাচ্ছে তো করেই যাচ্ছে, পোস্টকারীর কোনো ভ্রুক্ষেপ বা নড়াচড়া নেই সেদিকে! এখন কথা হলো, মন্তব্যকারীগণ এসব পোস্টে কেন মন্তব্য করে? আমি জানি না। আমি এতটুকু জানি, যে আমাকে গনে না তার থেকে শত গজ দূরে থাকা। আমার আরও একটি বিশেষ কথা হলো, তুমি বড় হয়ে গেলে আমি ছোট হব না। তোমার বড়গিরি নিয়ে তুমি থাকো আমার ক্ষুদ্রতে আমি ভালো। আত্মমর্যাদা যে বুঝে না তাকে সম্মানের গুরুত্ব বোঝানো যায় না। নিচু মনমানসিকতার লোকের সঙ্গে পথচললে সম্মানহানির আশঙ্কা আছেই। আমি যে-ই হই-না কেন, আমার একটা কথা বা মন্তব্যের দাম থাকা উচিত।

কোথাও কারও পোস্টে মন্তব্য দিলে সেটার গুরুত্ব থাকা উচিত। মানুষ কোথাও মন্তব্য কেন করে? হয়তো কিছু একটা প্রশ্ন করে, না হয় তো কিছু একটা জানতে চায় অথবা জানাতে চায়। এখন আপনি বই চারিখানা লিখে ফেলে যদি নিজেকে মনে করেন চন্দ্র জয় করে ফেলেছেন, তা হলে আপনার জন্যে চিন্তা আছে। আমি কী ‘হনু রে’ হয়ে যেয়েওয়ালা আসলে কিছুই হয় না শুধু নিজে নিজেই ‘হামবড়া’ হয়ে থাকে। এসব মানুষের কাছ থেকে ও পোস্টদাতার কাছ থেকে শত গজ না, হাজার ক্রোশ দূরে থাকা মঙ্গল। একবার মন্তব্য করে যেখানে উত্তর মিলে না সেখানে পুনরায় মন্তব্য করা ছাগলামি। সাধারণ জ্ঞান যার নেই তাকে কিছু বলাও বোকামি। বুঝতে হবে, কেউ আমার কথার উত্তর না দেওয়া মানে সে আমাকে গুনেনি। এখন তাকে মালিশ করব—সে বড়লোক, কবিলেখক, বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, অভিনেতা ইত্যাদি বলে—তা হলে নোংরামি। এটা নিজের নিচুতার পরিচয়। বড় কারও—কোনো সেলিব্রেটির পাশে দাঁড়িয়ে ফটো তুলে ফেললে বা ঠেলাঠেলি করে অটোগ্রাফ নিয়ে ফেললে সে বড় হয়ে যায় না। গর্বের বিষয় এখানে কিছুই নেই। তবে হাঁ, গর্বিত বিষয় ওখানে আছে, যেখান থেকে নিজেকে দেখা যাবে এবং সেখানে নিজেকে দাঁড় করাতে পারবে। ছোট হলেও কারও মর্যাদা কম থাকে না তবে সেটা ধরে রাখা চাই। সম্মান অর্জন করা কঠিন কিন্তু খোয়ানো সহজ।

ভদ্রলোকের ওই মন্তব্যের জবাব পোস্টদাতা দেয়নি কিন্তু অন্য দুয়েকজন দিয়েছে। ইসলামের অবমাননা দেখে আমারও নীরব থাকা গেল না যেখানে, সেখানে পোস্টদাতাই নীরব! এই আচরণে আশ্চর্যন্বিত একারণে হলাম, তিনি নাকি একজন লেখক আর বেশ বইটই লিখেছে! জানলাম কীভাবে? অনেকের উত্তর না পাওয়া মন্তব্য ও মালিশ করা থেকে। তাই মনে হচ্ছে ওনার গৌরবের শেষ নেই। তাই মনে হচ্ছে কারও মন্তব্যের কেয়ারটেয়ারও করছে না। এখন তিনি নিজেকে মনে করছে বোধহয় বাংলাদেশের লেখক না—আন্তর্জাতিক মানের লেখক। হোমার, গ্যটে, মিল্টন, শেক্সপিয়র, তলস্তয়, শেলি, সাদি, রুমি, হাফিজ, ইকবাল, গালিব প্রমুখ সেকালের বিখ্যাত কবিলেখকগণও তার লেখার কাছে বোধহয় কিছুই না! দেখি বেশ রসিক রসিক পোস্টটোস্ট করে নিয়মিত ফেইসবুকে। উত্তর না পেলেও মালিশ মারার মতো লেহন করার গরুর দলও দেখি বেশ মন্তব্যকারীর দলে! নিজের কাছে যার দাম নেই অর্থাৎ যে আত্মসম্মান বুঝে না সে অন্যের কাছে ফেলনা। এটা বোঝার সাধারণ জ্ঞান যার নেই সে মানুষ হলেও ওই গরুদলের মানুষ।

কোথায় জানি অমিতাভ বচ্চনের বিমানসফরের একটা অণুগল্প পড়েছিলাম। বোধহয় রতনটাটার সাথে সফর হবে? অনেকে হয়তো পড়েছে? অমিতাভ তখন খ্যাতির তুঙ্গে। কিন্তু লাইন ধরে অটোগ্রাফ নিচ্ছে তাদের ব্যাপারে অমিতাভের কোনো আগ্রহ নেই, বারবার আগ্রহ হচ্ছে পাশে বসা অন্যমনস্ক লোকটা নয় লোকটির সাথে কথা বলতে! লোকটা এবং লোকটির মধ্যে যেমন পার্থক্য, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেও তদ্রূপ পার্থক্য। উন্নতজাতি হিসাবে প্রথম ধরা হলে ধরা হয় ইংরেজদের, তারপর আরবদের, তারপর চিন, জাপান, কোরিয়া ও অন্যান্যদের পর্যায়ক্রমে। ইন্ডিয়া পাকিস্তান বাংলাদেশের স্থান সর্বনিম্নে বললে ভুল হবে না। কারণ, নিজের মানমর্যাদা না বোঝা মানুষদের মধ্যে আমরা অন্যতম। ইংরেজেরা ও আরবেরা এবং অন্যান্যেরা নাটক-সিনেমা কি দেখে না? অবশ্যই দেখে, কিন্তু তাদের পাশে বসে যদি পৃথিবীর বা হলিওডের কোনো বিখ্যাত সেলিব্রেটিও সফর করে-না, তারা লাফ দিয়ে ওঠে না; আপনখেয়ালে চলে।

এটাই হলো আত্মমর্যাদা। এটা যে চেনে এবং বুঝে সে কখনো অসম্মানী হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আত্মাহংকার থাকা ভালো তবে সবখানে ও সবক্ষেত্রে আত্মাহংকার ঘৃণা এবং ধ্বংসের কামাই। তবে ওই অহংকারী লেখকের দুয়েকটা পোস্টে আমি গঠনমূলক মন্তব্য করেছিলাম, কোনো উত্তর দেয়নি! এরকম শুধু আমাকে না শত শত মন্তব্যকারীকে দেয়নি! তার মানে ওর লেখা আর পড়ি না এমন নয়, সামনে পড়লে এই লেখাটার মতো পড়ি। এরকম অনেকের লেখায় পড়ি কিন্তু মন্তব্য করি না। ভালোমন্দ বলতে গিয়ে বা জানতে গিয়ে এবং জানাতে গিয়ে অনেক কটূকথাও শুনিনি বা তোপের মুখে পড়িনি এমনও হয়নি নয়! তাই এখন আর পড়লেও তেমন একটা মন্তব্য করি না এবং করলেও ভুলভাল লেখা পড়েও গঠনমূলক না বলে শোনাই প্রশংসার বাণী। কারও লেখা পড়ার মধ্যে নবীনপ্রবীণ ও নামিদামি পরিচিতমুখের পরিচয় খোঁজা মানেও জ্ঞানহীনের কাজ। শ্রেষ্ঠজন সব সময় শ্রেষ্ঠ কাজ যে করে এমন ভাবা বোকামি। উত্তর না পাওয়া মন্তব্য নিচে দেওয়া হলো—যা পোস্টদাতা লেখক মহোদয়ের দেওয়া উচিত ছিল—

“কীসের সাথে কী মিলাচ্ছেন ভাই? আফসোস হয়! ইসলাম বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে কাউকে অনুমতি দেয় না। ‘হত্যার চেয়ে ফেতনা মারাত্মক’ নবির আদর্শকে জামাত ও আইএসের সঙ্গে মিলাতে চাচ্ছেন? ধর্মকে কলঙ্কিত করে দিচ্ছেন আপনারা! আরও আফসোস লাগে, পোস্টদাতা জবাব দিতে পারে না আর পোস্ট দিয়ে মুড নিয়ে বসে থাকে! নিজেকে মনে করে নেয় বড় লেখক! এসব পোস্টে মন্তব্য করতেও ইচ্ছুক না তবে আপনাদের মতো কারও মন্তব্যে ধর্মকে যখন কলুষিত হতে দেখি তখন নীরবে থাকতে পারি না। ইসলাম তখন ছিল একটা গণ্ডির মধ্যে। ইসলামকে প্রসারিত করতে নবিকে প্রচারক হিসাবে পাঠানো হয়েছে তখনকার পরিস্থিতির জন্যে আর এভাবে যুগেযুগে নবিরাসুল এসেছে নির্দিষ্ট কওমের জন্যে—এটা সকলে জানে।

পরবর্তী দুনিয়ার মূর্তিভাঙার প্রয়োজনিয়তা আল্লাহ প্রয়োজন মনে করেননি তাই আর কোনো নবিরাসুলকে পাঠাননি। ইসলাম পরিপূর্ণতা লাভ করেছে নবির আমলেই। ‘তোমাদের দিন তোমাদের জন্যে আর আমার দিন আমার জন্যে’ আল্লাহর কথাও কি ভুলে গেছেন? বাংলাদেশের মূর্তিভাঙার জন্যে নবি আসেননি। নবি এসেছে বিশ্বজাহানের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। তা হলে? ইসলাম অশান্তির ধর্ম নয়। আপনিও তো দেখছি বইটই লিখেছেন? খালি বই চারিখানা লিখে নিজেকে কী ‘হনু রে’ ভেবে ফেললে কী আর বলব? যে অন্যকে দাম দেয় না বা সম্মান করে না সে যতই ভালো লিখুক প্রকৃত লেখক হতে পারে না। ইনসানিয়ত থেকে বড় কোনো ধর্ম নেই, না আছে জীবনের সেবা থেকে জীবের বড় কোনো কর্ম। একজন সৃষ্টিশীল মানুষের নিজস্ব ধর্ম থেকে প্রকৃত ধর্ম হওয়া উচিত—ইনসানিয়ত। বিচারের মালিক স্রষ্টা। কে পথপ্রাপ্ত আর কে পথভ্রষ্ট সেটার বিচার করবেন স্রষ্টা—কোনো সৃষ্টির অধিকার নেই বিচার করার।

কী আর বলব? বলার তো রাহাই নেই! যেখানে-সেখানে চলছে তেল দেওয়া। রাষ্ট্রপ্রধানের দপ্তর হতে চাপরাশির দপ্তর পর্যন্ত তেলে পথপিচ্ছিল! একটু অসতর্ক হলে আছাড় খেয়ে কোমর ভাঙার আশঙ্কা। সত্য যারা বলতে অক্ষম তারা আর যাইহোক ইমানে দুর্বল মানুষ। নবিদের মূর্তিভাঙার গল্প ছিল ভিন্নার্থে—সকলে জানে। আপনিও জানেন। সবকিছু বুঝিয়ে বলতে গেলে উপন্যাস হবে, এখানে গোছিয়ে বলা কি সম্ভব? লেখক মনে হয় আপনাকে ভয় পাইছে! তাই আপনার মন্তব্যের জবাব দেয়নি। হয়তো আপনার কথা হিসাবেও ধরেনি। কারণ, ওনি বোধহয় বড় লেখক মানুষ—যাকে-তাকে হিসাবে ধরলে মান কমে যাওয়ার আশঙ্কা। একটা কথা মনে রাখবেন, যেখানে দুয়েকবার মন্তব্য করে জবাব পাবেন না এসব পোস্টে মন্তব্য না করাই ভালো।

প্রয়োজনে মন্তব্য করলেও উত্তর না পেলে ডিলিট করে দিয়ে আসবেন। এটা খোদ নিজেকে বুঝতে হবে, অন্যজন যে মানুষ আমিও সে মানুষ। আমার মন্তব্যের একটা দাম আছে এবং থাকা চাই। মানুষ অন্যের লেখায় মন্তব্য কেন করে? হয়তো প্রশ্ন করে, না হয় তো কিছু জানতে চায় কিবা জানাতে চায়। এখন পোস্টকারী যদি উত্তর না দেয় বুঝতে হবে আপনাকে সে গননাই রাখেনি! তা হলে? এখানে মন্তব্য করার দরকার কী? থাকুক-না ওর বিশালত্ব নিয়ে ও। এসব পোস্টে মন্তব্য করে আপনি কেন ছোট হবেন? ওর বিশালত্ব দিয়ে তো আপনার দু-টাকার উপকার হওয়ার নয়। হওয়ার কি? তবে যে নিজেকে জানে, নিজেকে ভালোবাসে ও নিজের সম্মান বুঝে সে কখনো অন্যের কাছে নিজেকে ছোট করতে পারে না। এরা কারা? এবং কেমন লোক এরা? এতটুকু লজ্জাও কি এদের লাগে না? হাস্যকর বিষয়, বোকার মতো মন্তব্যের পর মন্তব্য করেই যাচ্ছে অথচ পোস্টদাতা ভ্রুক্ষেপও করে না! এই জাতি আবার বীরের জাতি বলে নিজেকে আখ্যায়িত করে!

এসব কাণ্ডের কোনো মানেই বুঝি না। আরও বুঝি না, বড় কোনো সেলিব্রেটির পাশে দাঁড়িয়ে ফটো তুলে বা অটোগ্রাফ নিয়ে কী ধন্য হয়—ধন্য মনে করে নিজেকে আমার মাথায়ই আসে না। পরের গল্প শোনার চেয়ে নিজে গল্প বনার চেষ্টা করাটার মধ্যে জিন্দেগি আছে—কথাটা কোথায় পড়েছিলাম—যথার্থ কথা। সম্মান অর্জন করা যত কঠিন খোয়ানো তত সহজ। কিছু জিনিস যত বাড়ে তত ভালো আর কিছু জিনিস যত বাড়ে তত তার মান কমে যায়। কচুর লতির মতো বাংলাদেশে এখন কবিলেখক আর এই মহাশয় আছে বিরাট একটা কিছু ভাব নিয়ে! নোবেলপ্রাপ্তিদেরও বোধহয় এমন ভাব নেই। আরে জনাব, এত ভাব ধরে লাভ কী? এখন আর মাইকেল, কায়কোবাদ, রবীন্দ্র, নজরুল, জসিম, জীবনানন্দ প্রমুখের যুগ নেই। সেই যুগ ফিরেও আর আসার নয়। দেবতাকেও এখন আর মানুষ তেমন একটা পূজে না। এখন আর ঘরের কোণে বসে মানুষ বই পড়ে না। এখন আর সেই যুগের বিশ্বখ্যাত কবিলেখকগণও এসে যদি লিখে বোধহয় ভাত জুটবে না।

কেউ কারও সামনে নিজেকে বড় দেখালে সামনেওয়ালা কেউ ছোট হয়ে যায় না। রবীন্দ্রনাথ থেকে বড় সৃষ্টিশীল মানুষ বোধহয় ভারতভূখণ্ডের মধ্যে দ্বিতীয়জন নেই। তিনিও যথাযথভাবে সবার চিঠির উত্তর দিতেন। প্রকৃত মানুষ বড় হলে সে নিজের থেকে ছোট হয়ে যায়। সেসব মানুষের কখনো সম্মান কমে না। বরঞ্চে আরও বাড়ে। তবে আমি কেন মন্তব্য করলাম? আপনার কমেন্টসে ধর্মে আঘাত হেনেছে। প্রতিবাদ জানানো এটা আমার ইমানিদায়িত্ব। এটা প্রত্যেক মুসলিমের ইমানিদায়িত্ব। আসলে বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, কবিসাহিত্যিক সৃজনশীলবড় পণ্ডিতব্যক্তিবর্গ যাই-ই বলেন-না কেন, তারা বিজ্ঞান-মস্তিষ্ক-ধারিক হয়ে মনে করে এগুলো এমনি এমনি হয়ে গেছে!

এসব মানুষের বিশ্বাসে দুর্বলতা অস্বাভাবিকই নয় শুধু বড় বিস্ময়। কিছুই না জানলে সে একপ্রকারের অন্ধ আর বেশি জানি ফেললে সে আরেকপ্রকারের ধুরুন্ধর। দুনোই ভয়ংকর। আরে ভাই, তোমার যেখানে সামান্য একটা সুচ বানানোর ক্ষমতা নেই, সেখানে ভাবছ এই কায়েনাতের মালিক নেই! ওসব মানুষের চিন্তাভাবনা কেমন লিখতে গেলে শেষ হবে না। আত্মসম্মানবোধ যার নেই সে ওজনদার মানুষ হতে পারে না। পোস্টদাতা কে আমি ওকে চিনি না এবং ওনিও আমাকে চেনেন না। তবু ধর্মের কাতিরে কিছু বলতে হলো বলে দুঃখিত। একটা কথা সকলের মনে রাখা দরকার, সামনে যে-ই হোক এবং যত বড় মানুষ বা সেলিব্রেটিই হোক-না কেন, মানুষ মানুষকে তোশামোদ করা একজন জ্ঞানবান মানুষের উচিত না। মানুষ বিখ্যাত হয় সাধনাবলে। সাধনা যে-কেউ করতে পারে আর যে-কেউ সাধনাবলে অমন সাধক বনতে পারে। দৌড়ে গিয়ে বড় কোনো সেলিব্রেটির সঙ্গে ছবি তুলে ফেলা গৌরবের না বরঞ্চ অগৌরবের। আত্মমর্যাদা যে বুঝে সে এটা করতে পারে না এবং যারা বুঝে না তাদের সাধারণ জ্ঞান নেই।”

বুধবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৪

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায় কি?

You might like