

মালিকুজ্জামান কাকা :
যশোরের মণিরামপুরে পানিতে বেড়িবাঁধ ধসে ১২০০ বিঘা জমির বোরো ধান প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া ভেসে গেছে অসংখ্য মাছের ঘের। এসময় কয়েক কোটি টাকার মাছ চলে গেছে। এমন ক্ষতিতে ধান ও মৎস্য চাষিদের মাথায় হাত উঠেছে। ভুক্তভুগি কৃষকের ধারণা ঘের লিজ না পাওয়া ব্যাক্তি এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ী। পানি কমতে শুরু করলেও এবছর চাদিদের ক্ষতি কাঁটানোর আর কোন সুযোগ নেই।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে মণিরামপুর উপজেলার বিল হরিনায় হঠাৎ করে বেড়িবাঁধ ধসের ঘটেছে। বাঁধ ধ্বসের নেপথ্যে ঘের নিয়ে দ্বন্দ্বকে দুষছেন ঘের মালিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।গ্রামবাসী তিন দিন স্বেচ্ছাশ্রমে চেষ্টার পর পানি ঠেকানো সম্ভব হলেও তার আগেই শেষ হয়ে গেছে কৃষকের বোরো ক্ষেত। এখন ধান ক্ষেতে বুক সমান পানি। ইতোমধ্যে রোপণকৃত ধানের চারা গাছ খেয়ে সাবাড় করছে মাছ। আর এমনিতেই পানি কিছুদিন থাকলে ধানের চারা পঁচে যাবার শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ।

জানা গেছে, মণিরামপুরের বাটবিলা ও হরিণা গ্রামের মধ্যে দিয়ে দূর্বাডাঙ্গা খাল পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার কাটাখালি স্লুইচ গেট হয়ে বিল খুকশিয়ার স্লুইচ গেট সংলগ্ন শ্রী-হরি নদীতে গিয়ে মিশেছে। মণিরামপুর উপজেলার বিল শালিখা, জিলদার বিল, দূর্বাডাঙ্গাসহ কয়েকটি বিলের পানি এই দূর্বাডাঙ্গা খাল দিয়ে নিষ্কাশন হয়। বিল হরিণা হতে এই খাল প্রায় ৮-১০ ফুট উঁচু। এই খালের দুই পাশে বিল হরিণা ও দূর্বাডাঙ্গার বিল। দুই বিলেই প্রায় সারা বছর পানি থাকে। যে কারনে বাধ্য হয়ে কেবল বোরো মৌসুমে ধান আবাদের শর্তে কৃষকরা মাছের ঘেরে জমি লীজ দেয়। চলতি বোরো মৌসুমে ঘের মালিকরা এসব বিল হতে পানি সেচ দিয়ে কৃষকদের ধান আবাদের সুযোগ করে দেয়। সেচকৃত পানি গিয়ে পড়ে এই খালে।
বিল হরিণায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিক বিমল সরকার জানান, গেলো বছর এলাকার কৃষকরা তাকে ঘের করার জন্য জমি লীজ দেয়। তিনি ৮শ’৭০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কৃষকদের ধান আবাদের সুযোগ করে দিতে তাড়াহুড়া করে কিছু মাছ বিক্রি করলেও প্রায় তিন কোটি টাকার মাছ থেকে যায়। এছাড়া ছোট ছোট মাছের ঘেরও প্লাবিত হয়ে আরও কোটি টাকার মাছ বেরিয়ে গেছে।
তিনি এসময় অভিযোগ করে বলেন, ঘের নেবার সময় জনৈক আমিনুর রহমান নামের একজনের সাথে বিরোধ হয়। তার দৃঢ় বিশ্বাস রাতের কোনো এক সময় হিংসা করে এই বেড়িবাঁধ কেটে দেয়া হয়েছে।
রক্তিম বিশ্বাস, বিরেণ বিশ্বাস, তুষার রায়সহ ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই বলেন, মধ্যে আগস্টে আকস্মিক বন্যায় পানির প্রবল চাপে বেড়িবাঁধ ভাঙেনি। অথচ বাঁধের ভাল জায়গা হতে ধসে যাওয়াটা সন্দেহজনক। তবে, তারা দাবি করছেন খালটি গভীর করে খনন করা হলে ভষ্যিতে এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব।
এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, বিল হরিণায় ৮৬৫ জন কৃষকের ১৪৪ হেক্টর বোরো ধানের ক্ষেত পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে করে ১০৮০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে। টাকার পরিমানে প্রায় ৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ক্ষতি।
প্রকাশ : শনিবার, ০৮ মার্চ ২০২৫ খ্রি.
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন











