হোসেনপুরে গবাদীপশুর লাম্পি রোগের প্রকোপ ঝুকির্পূণ খামারী

রফিকুল ইসলাম, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) :

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ‘লাম্পি রোগ বা এলএসডি স্কিন ডিজিজ নামে এক ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে গবাদিপশু। গবাদী পশুর জন্য এলএসডি একটি সংক্রমন রোগ। এ লাম্পি ভাইরাস স্থায়ী ভাবে বাসা বেঁধে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে হোসেনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা সমেুহে । এতে খারারী ও কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। আক্রান্ত গবাদী পশুর চিকিৎসা করে হাজার টাকা খরচ করেও বাঁচাতে পারছেন না অধিকাংশ গরু। অতিরিক্ত গরমে এ ছুয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা দিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাই আসন্ন কুরবানী ঈদকে ঘিরে গরুর বাজারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন সংশ্লিষ্ট পশু চিকিৎসকরা। এ রোগে আক্রান্ত গরুকে হাটে না আনার পরামাশ দিয়েছেন।

‎সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানাযায় এ ভাইরাসে অসংখ্য গরু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুকিতে রয়েছে। এলএসডি বা লাম্পি গরুর জন্য একটি ভয়ঙ্কর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ হওয়ায় একদিকে দীঘ মেয়াদী চিকিৎসা অপরদিকে নতুন আক্রান্ত হওয়ার ঝুকিতে খামারী ও কৃষক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। তবে এ রোগে হতাশ না হয়ে সাবধানতা ও নিয়মিত ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরামশ দিয়েছেন পশুচিকিৎসকবৃন্দ। জানা যায়, ১৯২৯ সালে সর্বপ্রথম আফ্রিকা মহাদেশের জাম্বিয়াতে এ রোগের উৎপত্তি হয়। পরে ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে গরুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রথম দেখা দেয় ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে। এরপরই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এ রোগের পরীক্ষা নিরীক্ষা ও ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যু ঝুকি অনেকটা নিয়েন্ত্রনে আসলেও পুরোপুরি নির্মৃল করা যায়নি।

হোসেনপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের পশু চিকিৎসক আবু বকর ছিদ্দিক বাক্কার জানান, এলএসডি আক্রান্ত গরু প্রথমে জ্বরে হয়, সাথে সাথে নাক-মুখ দিয়ে লালা বের হয়, পা ফুলে যায়, পায়ের গুরালিতে পানি জমে যায়। পশুর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়ায় গুটি গুটি ধারণ করে, পরে গুটি বড় হয়ে ফুটে গিয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয় ও লোম উঠে যায়। আর এ ক্ষতস্থানে পুজ হয়ে ঘায় পরিনত হয়ে সমস্থ শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ও খাদ্য গ্রহনে বিরত থাকে।

‎মশা মাছি ছাড়াও অন্যান্য কীট-পতঙ্গের মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। আক্রান্ত গরুর লালা গরুর খাবারের মাধ্যমে এবং খামার পরিচর্যাকারী ব্যক্তির কাপড়ের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়াতে পারে। গ্রাম-গঞ্জের প্রাণি চিকিৎসকগণ একই সিরিঞ্জ ব্যবহার করে বিভিন্ন গরু-ছাগলকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করায় সিরিঞ্জের মাধ্যমে এক গরু থেকে অন্য গরুতে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইরাসে আক্রান্ত ষাঁড়ের সিমেন প্রজননে ব্যবহার করলেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। শুধু গরু, মহিষ ও ছাগল এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে খামারের ভেতরের এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখে মশা-মাছির উপদ্রব কমিয়ে আক্রান্ত গরু আলাদা করে রেখে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

‎‎প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা.উজ্জ্বল হোসাইন জানান, সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। লাম্পি স্কিন ডিজিজ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলেই দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা রেজিস্ট্রার্ড পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা নিতে হবে।
অপরদিকে কিছু অসাধু খামারী কুরবানী ঈদ উপলক্ষ্যে গরু মোটা তাজা করন নিষিদ্ধ ইনজেকশান প্রয়োগ করে। এতে গরুর দেহে মাংসের মধ্যে পানি ডুকে মোটা তাজা দেখায়। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমকর্তা ডাঃ তানবীর হাসান জিকু বলেন ইনজেকশান প্রয়োগ যেমন পশুর জন্য ক্ষতিকর তেমনি এর মাংশ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর।

এ বিষয়ে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভা জানান, আসন্ন কুরবানী ঈদ উপলক্ষে প্রাণীসম্পদ অফিসার সমন্বয়ে বিশেষ মনিটরিং টিম প্রতিটি পশুর হাটে নিয়োজিত থেকে অসুস্থ্য গরু সনাক্তকরন ও অতিরিক্ত গরমে গরু স্ট্রোক করনে যথাযথ চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করেন এবং তিনি প্রতিটি হাটে নিজে উপস্থিত থেকে মনিটরিং করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫ খ্রি.

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like