

**সম্পাদকীয়:**
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ আজ আর কেবল দুটি রাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব নয়—এটি হয়ে উঠেছে এক বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতীক, যেখানে পারমাণবিক উদ্বেগ, ধর্মীয় বিভাজন, এবং আঞ্চলিক আধিপত্যের লড়াই এক ভয়াবহ বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। ১৩ জুন ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতোমধ্যেই শত শত প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, বাস্তুচ্যুত করেছে হাজারো মানুষকে, এবং মধ্যপ্রাচ্যকে ঠেলে দিয়েছে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।
ইসরায়েলের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। আর ইরান বলছে, এটি তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনই যুদ্ধের মূল কারণ। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান কেবল দুই রাষ্ট্রের নয়—এর ছায়া পড়ছে গোটা অঞ্চলে, এমনকি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, জ্বালানির দামে অস্থিরতা, এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মেরুকরণ—সব মিলিয়ে এই যুদ্ধের অভিঘাত বহুমাত্রিক।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই যুদ্ধ এক নীরব ঝড়। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন, এবং মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা আমাদের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত স্পষ্ট ও নীতিনিষ্ঠ। যুদ্ধ কখনোই সমাধান নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, অস্ত্রের ভাষা শেষ পর্যন্ত ধ্বংসই ডেকে আনে। প্রয়োজন ছিল এবং এখনো আছে—সংলাপ, কূটনীতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সমাধানের।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান—এই যুদ্ধ থামাতে সক্রিয় হোন। জাতিসংঘ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী শক্তিগুলোর উচিত নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা করে দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। আর আমাদের মতো দেশগুলোর উচিত—মানবিক অবস্থান বজায় রেখে শান্তির পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ যেন আরেকটি গাজা না হয়, যেন আরেকটি সিরিয়া না হয়। এই পৃথিবীকে আরেকটি যুদ্ধ নয়, দরকার একটি সাহসী শান্তিচুক্তি।
বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
শেয়ার করুন






