ব্রেক আপ

 মিজানুর রহমান রানা : 

ঢাকার এক ব্যস্ত বিকেলে, ধানমণ্ডির ক্যাফেটিরিয়া “কফি ক্লাউড”-এ ইরফান বসে আছে জানালার পাশে। তার সামনে রাখা কফির কাপ ঠান্ডা হয়ে গেছে, কিন্তু সে খেয়ালই করছে না। চোখে একধরনের শূন্যতা, যেন কোনো উত্তর খুঁজছে যা প্রশ্নই হারিয়ে ফেলেছে।

ইরফান আর অনন্যার পরিচয় হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে। ইরফান ছিল কম কথা বলা, গভীর চিন্তায় ডুবে থাকা একজন তরুণ। অনন্যা ছিল প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, আর সবকিছুতে আগ্রহী।

একদিন লাইব্রেরিতে বই খুঁজতে গিয়ে তাদের দেখা।

“আপনি কি ‘অস্তিত্ববাদ’ খুঁজছেন?” অনন্যার প্রশ্নে ইরফান চমকে উঠেছিল। তারপর বলেছিলো, ‘‘জ্বি। আমি আমার অস্তিত্ব খুঁজছি, আমি আমার সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব খুঁজি, যেখানে তিনি বলেছেন : আমি আছি তোমরা আমাকেই ডাকো। অন্য কাউকে শরীক করো না। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়।”

অনন্যা চমকে উঠে। আসলেই তো বিষয়টা সত্যি। আল্লাহ তো আমাদেরকে বিশ্বজমিনের সবকিছুতে তাঁকে খুঁজতে বলেছেন। আর আমরা সাধারণ বিষয় নিয়ে পড়ে থাকি, সময় নষ্ট করি। আর ইরফান তাঁকেই খুঁজছে, যাকে সবারই খোঁজার প্রয়োজন।

সেই দিন থেকেই শুরু। স্রষ্টার অস্তিত্ব, বই, দর্শন, সিনেমা, কবিতা—সবকিছুতে তাদের মিল ছিল।

এভাবে দিন দিন তাদের সম্পর্কটা কখন প্রেমে পরিণত হয়েছিল, কেউ জানে না। হয়তো কোনো এক সন্ধ্যায়, যখন অনন্যা বলেছিল, “তুমি ছাড়া আমার চিন্তাগুলো অসম্পূর্ণ লাগে।”

ইরফান তখনো নিজের অনুভূতি প্রকাশে দ্বিধাগ্রস্ত ছিল। কিন্তু অনন্যার সাহচর্যে সে বদলাতে শুরু করেছিল।

তারা একসঙ্গে ঘুরেছে বইমেলায়, গিয়েছে পুরান ঢাকার অলিগলিতে, আর রাতভর ফোনে কথা বলেছে জীবন নিয়ে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনন্যা বদলাতে শুরু করেছিল। সে চাকরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিল, নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মিশছিল, আর ইরফানের গভীর কথাগুলো তার কাছে “অতিরিক্ত সিরিয়াস” মনে হতে লাগল।

ইরফান বুঝতে পারছিল, কিন্তু কিছু বলতে পারছিল না। সে ভেবেছিল, “সময়ই সব ঠিক করে দেবে।”

একদিন অনন্যা বলল, “ইরফান, তুমি খুব ভালো, কিন্তু আমি এখন অন্যরকম কিছু চাই। আমার জীবনটা বদলে গেছে।”

ইরফান চুপ করে ছিল। তার চোখে জল ছিল না, কিন্তু ভেতরে যেন একটা ভূমিকম্প চলছিল।

তারা শেষবার দেখা করেছিল সেই “কফি ক্লাউড”-এ।

অনন্যা বলেছিল, “আমরা দুজন দুই জগতে বাস করি। তুমি এখনো সুফী দর্শনের গভীরে, আর আমি বাস্তবের চাপে হাঁপিয়ে উঠেছি।”

ইরফান শুধু বলেছিল, “তুমি যদি সুখী হও, তাহলে আমি কিছু বলব না।”

অনন্যা চলে গিয়েছিল। তবে যাবার সময় বার বার ইরফানের দিকে পেছন পেছন তাকাচ্ছিল। কিন্তু ইরফান জানে যে  চলে যেতে পণ করে তাকে আর কোনোদিন ফেরানো যায় না।

ইরফান এখনো সুফী দর্শনের বই পড়ে, কবিতা লেখে, আর মাঝে মাঝে অনন্যার পুরোনো মেসেজ পড়ে। সে জানে, ভালোবাসা সবসময় একসঙ্গে থাকার নাম নয়। কখনো কখনো ভালোবাসা মানে কাউকে মুক্ত করে দেওয়া।

আর সেটাই ইরফান করেছে, যা অনন্যা চেয়েছিলো।

অনন্যা এখন কর্পোরেট জগতে সফল, হয়তো নতুন সম্পর্কেও আছে। ইরফান তার নিজের জগতে, কিন্তু অনন্যার স্মৃতি তার চিন্তার প্রতিটি কোণে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়ায়।

ইরফান ও অনন্যা—দুজনেই সত্যিকারের মানুষ, যারা সময়ের পরীক্ষায় নিজেদের মতো করে পথ বেছে নিয়েছে।

ইরফান ভাবতে ভাবতে একদিন হঠাৎ করেই আবার অনন্যার দেখা পেয়ে যায়, সে দেখে অনন্যা একটি বিরাট রাজপ্রাসাদে। তার মায়াময়ী চোখগুলো জ্বলজ্বল করছিলো বনেদি অহঙ্কারে। আর ইরফান, সে এখন ভবঘুরে। তার জীবন একাকী, একেলা। কোনো ব্যস্ততা নেই। শুধু সুফী দার্শনিকতা নিয়ে ভাবে আর সারাটি দিন পার করে।

অনন্যা তাকে বসতে বলেছিলো, ইরফান বসেনি। কারণ ইরফান জানে যে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায়, তাকে জোড়া লাগালে একটা দাগ থেকে যায়।

রোববার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ১৮ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy