

মো. গোলাম কিবরিয়া, রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভায় অবস্থিত একটি বেসরকারি ক্লিনিকে অতিরিক্ত বিল দাবি করে একজন রোগীকে চার দিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে রোগীকে মুক্ত করা হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে ‘ডা. সাব্বির ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক’ নামক প্রতিষ্ঠানে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারের কাছে ৬৭,৭২০ টাকা বিল দাবি করে, যা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। পরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে রোগীকে বাড়ি নিয়ে যান তাঁর স্বজনেরা।
কী ঘটেছিল?
– ২৬ জুলাই, দুর্গাপুর উপজেলার কয়ামাজমপুর গ্রামের বাসিন্দা সুশান্ত (৫০) পারিবারিক বিরোধের জেরে বিষপান করেন।
– তাঁকে তাহেরপুরের হরিতালা এলাকার ওই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়, যেখানে বিষ ওয়াশ করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
– ২৮ জুলাই রোগীকে বাড়ি নিতে গেলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
– ৩০ জুলাই রোগীর অভিভাবকেরা গেলে তাঁদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় ৬৭,৭২০ টাকার বিল। বলা হয়, টাকা না দিলে রোগীকে ছাড়া হবে না।
রোগীর পরিবারের বক্তব্য
রোগীর ছোট ভাই সঞ্জয় কুমার বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ভাইকে আটকে রেখে এত টাকা দাবি করছে। অনেক অনুরোধের পর পাঁচ হাজার টাকা কমিয়েছে। এত টাকা কোথা থেকে দেব?”
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ
রোগীর প্রতিবেশী আশরাফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, রোগীকে ছাড়াতে গিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হুমকির মুখে পড়েন। পোস্টে অনেকেই ক্লিনিকের অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবি জানান।
বিলের বিবরণ
রোগীর হাতে দেওয়া বিলের কপিতে দেখা যায়:
– বিষ ওয়াশ: ১৯,০০০ টাকা
– চার দিনের ওষুধ: ১৯,৮২০ টাকা
– অস্ত্রোপচার কক্ষ ব্যবহার: ৯,০০০ টাকা
– অন্যান্য খাতে অস্বাভাবিক বিল
তিনজন চিকিৎসক ও চারজন ক্লিনিক পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এমন রোগীর চিকিৎসায় ৮-১০ হাজার টাকার বেশি বিল হওয়ার কথা নয়।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
রাজশাহীর সিভিল সার্জন এস আই এম রাজিউল করিম বলেন, “এই বিল অস্বাভাবিক। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।”
ক্লিনিকের পরিচালক সাব্বির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং খুদে বার্তারও উত্তর দেননি। তবে ক্লিনিকের চিকিৎসক আবদুস সাত্তার রোগী আটকে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিলটি অস্বাভাবিক ছিল না। আমরা অতিরিক্ত বিল করি না।”
পুলিশের হস্তক্ষেপ
স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। তাহেরপুর তদন্তকেন্দ্রের এসআই সোহেল রানা বলেন, “উভয় পক্ষকে নিয়ে বসে সমাধান করেছি।”
রোগীর প্রতিবেশী আজাদ হোসেন জানান, “রোগী আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাই এলাকাবাসী মিলে টাকা তুলে তাঁকে মুক্ত করেছি।”
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রোববার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ১৮ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন











