

মিজানুর রহমান রানা:
চট্টগ্রামের এক ছোট্ট গ্রামে জন্ম নেয়া রফিক ছিল স্বভাবতই শান্ত, ভদ্র, আর অন্তর্মুখী। তার চোখে ছিল এক ধরনের গভীরতা—যেন সে পৃথিবীর প্রতিটি ব্যথা অনুভব করতে পারে। কলেজে পড়ার সময় সে পরিচিত হয় রুমানার সঙ্গে। রুমানা ছিল প্রাণবন্ত, হাসিখুশি, আর সমাজসচেতন। তাদের দুজনের মধ্যে গড়ে ওঠে এক নিঃশব্দ ভালোবাসা, যা শব্দের চেয়ে গভীর ছিল।

রফিকের ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ। সে কখনো রুমানাকে জোর করেনি, শুধু পাশে থেকেছে। একদিন রুমানা নিজেই বলেছিল, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।”
তাদের বিয়ে হয় এক সাদামাটা অনুষ্ঠানে, কিন্তু ভালোবাসা ছিল রাজকীয়। সংসার গড়ে ওঠে ছোট্ট এক বাড়িতে, যেখানে প্রতিটি দেয়ালে ছিল ভালোবাসার ছোঁয়া।
বিয়ের দুই বছরের মাথায় তাদের ঘরে আসে প্রথম সন্তান—নাম রাখা হয় নাবিল। আর এক বছর পর আসে ছোট্ট মেয়ে—নাম নায়লা। রফিক আর রুমানা যেন নতুন করে জীবন খুঁজে পায়। তারা সন্তানদের শুধু ভালোবাসা নয়, মানবিকতা, সততা, আর দায়িত্ববোধ শেখাতে শুরু করে।
একদিন শহরে যাওয়ার পথে রুমানার গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। রফিকের পৃথিবী যেন থেমে যায়।
কিন্তু সে ভেঙে পড়ে না। সে জানে, রুমানা তার হৃদয়ে আছে—প্রতিটি নিঃশ্বাসে, প্রতিটি স্মৃতিতে।
রফিক আর কখনো বিয়ে করেনি। সমাজের চাপ, আত্মীয়দের অনুরোধ—সবকিছু উপেক্ষা করে সে রুমানার ভালোবাসাকে বুকে ধারণ করে সন্তানদের মানুষ করে তোলে।
নাবিল হয় একজন মানবাধিকার কর্মী, আর নায়লা একজন চিকিৎসক। তারা দুজনেই জানে, তাদের বাবা শুধু একজন পিতা নন—তিনি একজন সুপুরুষ, যিনি ভালোবাসাকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সম্মান দিয়েছেন।
রফিক বৃদ্ধ বয়সে একদিন নাবিলের কাঁধে মাথা রেখে বলেন, “তোমার মা ছিল আমার জীবন। আমি শুধু তার ভালোবাসার ছায়ায় বেঁচে ছিলাম।”
তার মৃত্যুর দিন, তার বুকপকেটে পাওয়া যায় রুমানার একটি ছবি—যার পেছনে লেখা ছিল, “রুমানা, ভালোবাসা কখনো মরে না।”
রোববার, ০৩ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ১৮ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন











