

মিজানুর রহমান রানা :
জুলাই মাসের মাঝামাঝি। ঢাকার রাজপথে উত্তেজনা। ছাত্ররা কোটা সংস্কার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, এবং সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে মিছিল করছে।

তুষার আহমেদ ও রূপা। দু’জনই তরুণ সাংবাদিক। তাদের লক্ষ্য লেজুড়বিহীন সত্য সাংবাদিকতা, যা মানুষকে জুলুম থেকে মুক্তি দেবে, কথা বলার স্বাধীনতা দেবে।
তারা কাজ করে একটি প্রিয় সময় অনলাইন নিউজ পোর্টালে। তাদের দায়িত্ব—সত্য তুলে ধরা। কিন্তু এই সত্যের মূল্য যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, তা তারা তখনো জানত না।
চারিদিকে তীব্র আন্দোলন। পুলিশ ঘিরে রেখেছে আন্দোলনকারীদের। হাতে অস্ত্র তাক করা।
তুষার ক্যামেরা হাতে, রূপা নোটপ্যাডে শব্দ ধরে রাখছে।
“তুমি ঠিক আছো?” তুষার জিজ্ঞেস করে।
রূপা হাসে, “সত্যের পেছনে ছুটছি, ভয় পেলে চলবে?”
এ সময় শাহবাগ মোড়ে হাজারো ছাত্র জড়ো হয়েছে। ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা বাড়ছে। এখানে ছাত্রদের সাথে বিভিন্ন বয়সী মানুষও আছে। তারা শ্লোগান দিচ্ছে :
“গণতন্ত্র চাই!”
“ভোটাধিকার চাই!”
“শেখ হাসিনা পদত্যাগ করো!”
এ সময় তুষার ও রূপা ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। তারা ছাত্রদের বক্তব্য নিচ্ছে, ছবি তুলছে, লাইভ করছে।
এ সময় হঠাৎই পুলিশের গাড়ি আসে। মাইক থেকে ঘোষণা করা হয়, “ছত্রভঙ্গ হয়ে যান, নয়তো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘোষণায় কাজ হয় না, কেউ সরে না। তখনই শুরু হয় গুলি।
প্রথমে টিয়ার গ্যাস। তারপর রাবার বুলেট। তারপর প্রকৃত গুলি।
ছাত্ররা ছুটছে, কেউ পড়ে যাচ্ছে, কেউ রক্তাক্ত। তুষার ক্যামেরা চালিয়ে যাচ্ছে, রূপা কাঁপা হাতে লিখছে, “পুলিশ গুলি চালিয়েছে… ছাত্র নিহত…।”
এ সময় একটি গুলি পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে তীব্র বেগে ছুটে যায়। তুষার চিৎকার করে, “রূপা! নিচু হও!”
কিন্তু রূপা তখন একটি ছাত্রকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। তাকে বাঁচানোর জন্য রিকশায় তোলে। আর ঠিক তখনই একটি গুলি রূপার বুক চিরে যায়।
তুষার ছুটে যায়। রূপা মাটিতে পড়ে আছে, চোখে জল, মুখে হাসি। সে বলে, “তুষার, আমার লেখা শেষ হয়নি…।”
তুষার কাঁপা গলায় বলে, “তুমি কথা বলো না, আমি তোমাকে নিয়ে যাচ্ছি হাসপাতালে।”
রূপা বলে, “সত্য তুলে ধরো, আমার জন্য, দেশের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য।”
তারপর রূপার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়। তুষারের বুকে যেনো একটি শেল এসে বিদ্ধ হয়। সে রূপাকে মনে মনে ভালোবাসতো। তার ইচ্ছা ছিলো আগামী বছরই বিয়ে করবে রূপাকে।
একদিন এ ব্যাপারে রূপার সাথে কথাও হয়েছিলো। রূপা বলেছিলো, ‘আমরা দু’জন ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে নেই, নিজেদেরকে গড়ে নেই অপূর্ব আলোয়, তারপর দু’পরিবারের সবাইকে জানিয়ে সবার আনন্দের মাঝেই বিয়ে হবে ইনশাল্লাহ।
কিন্তু আজ রূপা নেই, তার শরীর থেকে বুলেট বিদ্ধ স্থান থেকে গড়িয়ে রক্ত ঝরছে ক্রমাগত।
রূপার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সাংবাদিক সমাজ, ছাত্র সমাজ, সাধারণ মানুষ—সবাই ক্ষুব্ধ।
তুষার রূপার শেষ লেখা প্রকাশ করে, “আমি দেখেছি, ছাত্ররা শুধু অধিকার চাইছিল। আমি দেখেছি, গুলি তাদের স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করেছে। আমি দেখেছি, রাষ্ট্র ভয় পায় সত্যকে।”
এই লেখাটি ভাইরাল হয়। রূপা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের প্রতীক।
তুষার আর ক্যামেরা ধরে না। সে রূপার স্মৃতিকে নিয়ে একটি বই লেখে—”রক্তে লেখা প্রতিবাদ।” বইটি পড়ে হাজারো তরুণ আন্দোলনে যোগ দেয়।
তুষার বলে, “রূপা শুধু সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন বিবেক। তার মৃত্যু আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।”
রূপার মৃত্যু ছিল বেদনাবিধূর, কিন্তু তা একটি আন্দোলনের জন্ম দেয়। তুষার তার প্রেম, তার সহকর্মী, তার বন্ধু হারায়—কিন্তু পায় একটি উদ্দেশ্য।
জুলাই আন্দোলন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, এটি একটি মানবিক ট্র্যাজেডি, একটি সাংবাদিকতার আত্মত্যাগ, একটি সত্যের জয়।
একদিন রূপা ধরা দেয় তার স্বপ্নে। সে তুষারকে বলে, ‘তোমার কি কষ্ট হয় তুষার?’
তুষার নীরব থাকে, কিন্তু তার বুকে আজও রূপার পাঁজরের সেই বুলেট বিদ্ধ হয়ে আছে আঘাতে, নিঃশ্বাসে-বিশ্বাসে।
রূপা তুষারকে নীরব থাকতে দেখে বললো, ‘‘আমি আছি। তুমি কষ্ট পেয়ো না। একদিন সবাইকে পৃথিবী ছেড়ে যেতে হয়, তবে আমার মৃত্যুটা তোমার জন্য কষ্টকর হলেও আমি ভালো আছি, সত্যকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে সত্যকে প্রকাশ করতে গিয়ে আমার মৃত্যু হয়েছে। এর চেয়ে আর আনন্দের কী হতে পারে? আমি তোমার কষ্ট ভুলিয়ে দিতে এসেছি।’’
এই বলে রূপা তুষারের বুকে হাত রাখে। এ সময় তুষারের ঘুম ভেঙ্গে যায়। বাইরের জানালায় তাকিয়ে দেখে ভোর হয়ে গেছে। সূর্যটা মাত্র উদয় হয়েছে।
অবাক হয়ে সে লক্ষ্য করে তার বুকের জমিনে একটি হাতের চিহ্ন। কিন্তু তার হৃদয়ে কোনো কষ্ট নেই। যেনো রূপা আবারও ফিরে এসেছে তার জীবনে। সে উঠে বসলো, তারপর দেয়ালে তাকিয়ে দেখলো রূপার ছবিটা দেয়ালে হাসছে!
মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ২০ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ২০ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ












