

মিজানুর রহমান রানা :
চট্টগ্রামের পাহাড়ঘেরা এক পুরনো জমিদারবাড়ি, “সোনার পাহাড়”। বাড়িটি এখন প্রায় পরিত্যক্ত, কিন্তু লোককথায় শোনা যায়, সেখানে একসময় বাস করত এক রহস্যময় নারী, নাম ছিলো মধুমিতা। তার হাসি ছিল মধুর, কিন্তু চোখে ছিল এক অদ্ভুত শূন্যতা।

একদিন, তরুণ সাংবাদিক তুষার আহমেদ একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন করতে গিয়ে পৌঁছায় সেই জমিদারবাড়িতে। তার উদ্দেশ্য “মধুমিতা” নামের এক নারী সম্পর্কে জানা, যার মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা।
অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই বাড়ির পুরনো কেয়ারটেকার জামশেদ জানায়, “মধুমিতা মারা যায়নি, সে হারিয়ে গিয়েছে। প্রতি পূর্ণিমায় তার ছায়া দেখা যায় বারান্দায়।”
তুষার আহমেদ প্রথমে বিশ্বাস করে না কথাগুলো। কিন্তু তার মন বলছে, এখানে কিছু একটা সত্য লুকায়িত আছে, যা প্রকাশ হয়নি। তাকে সে সত্যটা জানতেই হবে। একটা মানুষ এভাবে হারিয়ে যায় কীভাবে? নিশ্চয়ই কোনো না কোনো কারণ থাকবেই।
গভীর রাতে সে দেখতে পায় এক সাদা শাড়ি পরা নারী ধীরে ধীরে বারান্দা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। সে ছুটে যায়, কিন্তু বারান্দায় পৌঁছে দেখে—কেউ নেই। শুধু পড়ে আছে একটি পুরনো চিঠি।
চিঠিটা হাতে নেয় তুষার আহমেদ। তারপর মোবাইলের আলো জ্বেলে পড়তে থাকে।
“আমি মধুমিতা। আমি কাউকে হত্যা করিনি। কিন্তু আমার প্রেমই ছিল আমার অভিশাপ। যদি কেউ সত্য জানতে চায়, সে যেন সোনার পাহাড়ের নিচের গুহায় যায়।”
তুষার আহমেদ অনেক ভেবেচিন্তে সেই পাহাড়ের গুহায় প্রবেশ করে। সেখানে সে আবিষ্কার করে একটি গোপন ঘর, যেখানে রাখা আছে পুরনো ডায়েরি, ছবি এবং একটি রক্তমাখা অলংকার। ধীরে ধীরে সে বুঝতে পারে, মধুমিতা ছিলেন জমিদারপুত্রের প্রেমিকা, যাকে সমাজ মেনে নেয়নি। হয়তো এক রাতে, জমিদারপুত্রের মৃত্যু হয়, আর দোষ চাপানো হয় মধুমিতার ওপর।
তুষার আহমেদ তার প্রতিবেদন প্রকাশ করে, “মধুমিতা: এক প্রেম, এক অভিশাপ”।
কিন্তু প্রকাশের পরদিন, তার ঘরের দরজায় একটি চিঠি পাওয়া যায়। সেখানে লেখা : “তুমি সত্য জানলে, কিন্তু আমি এখনও অপেক্ষায়।”
এরপর চিঠিতে লেখা রয়েছে “…তারা প্রথমে হত্যা করে ইরফানকে, এরপর আমাকেও হত্যা করে। কিন্তু আমার আত্মা এখনও অপেক্ষায়, অপেক্ষায় সেই সত্য প্রকাশের, যে সত্য আজও কেউ জানে না।”
তুষার আহমেদ চিঠিটি পড়ে স্তব্ধ। তার চোখে জল, কিন্তু মন জ্বলছে প্রশ্নে : কে ছিল অরিন্দম? কেন এই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা পড়ে গেল?
সে সিদ্ধান্ত নেয়, সে ফিরে যাবে শহরে, খুঁজবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো রেকর্ড, খুঁজবে ইরফান ও মধুমিতার পরিচয়, তাদের বন্ধুবান্ধব, এবং সেই ভয়ংকর রাতের সাক্ষী।
তুষার আহমেদ খুঁজে পায় একটি পুরনো ছবি- মধুমিতা, ইরফান, এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবক, যার চোখে ছিল অদ্ভুত রাগ। ছবির নিচে লেখা: “স্মৃতি ২০০৩ – শেষ বসন্ত”।
ছবির যুবকটি ছিল অরিন্দম। তুষার আহমেদ খুঁজে পায় তার বর্তমান ঠিকানা—সে এখন একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, সমাজে সম্মানিত। কিন্তু তার অতীত লুকানো।
তুষার আহমেদ গোপনে অরিন্দমের বাড়িতে যায়, এবং এক বৃদ্ধা কাজের মহিলার মুখে শোনে, “বাবু, সেই রাতে আমি দেখেছিলাম, ইরফানকে ছাদের ধারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তারপর একটা চিৎকার, তারপর সব চুপ।”
“আচ্ছা, আপনি কি আমাকে সব ঘটনা খুলে বলতে পারেন?”
বৃদ্ধা মহিলা ভয়ে চারদিকে তাকায়। তারপর বলে, “এগুলো বললে আমাকেও ওরা মেরে ফেলবে?”
“তারা কারা?”
“এখানে চুপ থাকাই ভালো।” বৃদ্ধ মহিলা যেনো বাঘের ভয়ে দ্রুত চলে গেলো।
কিন্তু তুষার আহমেদ দমে যাবার ব্যক্তি নয়। তাকে যে আসল সত্যটা বের করতেই হবে।
সে আবারও একদিন অরিন্দমের বাড়িতে যায়। ভাগ্য ভালো সেদিন সে অরিন্দমকে পেয়ে যায়। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয়ে খুশি হয় না অরিন্দম। তবুও সমাজের ব্যক্তিবিশেষ বলে তাকে আপ্যায়ন করতে ভুলে না। এ সময় তুষার মধুমিতা ও ইরফানের বিষয়টি জানতে চায় কিন্তু অরিন্দম চুপ থাকে।
তার চুপ থাকা দেখে একটি কৌশলের আশ্রয় নেয় তুষার আহমেদ। সে অরিন্দমকে বলে, “আসলে আপনার বোন, যার মৃত্যু হয়েছিলো বলে আপনারা প্রচার করছেন সে আসলে মৃত নয়।”
লাফিয়ে উঠলো যেনো অরিন্দম। “কি বলেন?”
“হ্যাঁ।” এই বলে মধুমিতার চিঠিটা অরিন্দমের হাতে দেয়। অরিন্দম চিঠিটি খুলে পড়তে থাকে। তারপর হা’ করে তুষার আহমেদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে কাঁদতে শুরু করে অরিন্দম। তার সব খুলে বলে।
তুষার আহমেদ তার রিপোর্টে সব তুলে ধরে—চিঠি, সাক্ষ্য, ছবি, এবং সেই ভয়ংকর রাতের বিবরণ। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়: “মধুমিতা: প্রেমের মৃত্যু, সত্যের পুনর্জন্ম”
রাতের শেষ প্রহরে, তুষার আহমেদ আবার যায় সোনার পাহাড়ে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে সে বলে, “তোমার সত্য আমি প্রকাশ করেছি, মধুমিতা।”
এক হালকা বাতাস বয়ে যায়। বারান্দার এক কোণে পড়ে থাকা চিঠিটি উড়ে গিয়ে পড়ে তুষার আহমেদের পায়ে। সে তুলে নেয়।
চিঠিতে লেখা: “তুমি আমার মুক্তি। এখন আমি যেতে পারি কিন্তু মনে রেখো, প্রেম কখনও অপরাধ নয়। আর ইরফানরা কখনোই মরে না, ওরা মরেও বেঁচে থাকে।”
তুষার বারান্দা থেকে তাকিয়ে দেখে—দূরে পাহাড়ের ধারে, সাদা শাড়ি পরা এক নারী ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে ভোরের আলোয়।
তারপর তার অরিন্দমের কথাগুলো মনে ভেসে উঠে। অরিন্দম বলছিলো, “ হ্যাঁ। আমরা হিন্দু পরিবার। আমাদের একটা মানসম্মান আছে, মধুমিতা ভুল করেছিলো, সে একটা অন্য ধর্মের ছেলেকে ভালোবেসে ভুল করেছে, তাই মান সম্মান রক্ষায় আমাদের যা করণীয় আমরা করেছি। এতে পাপ হবে জানি, তবুও পরিবারের মান সম্মান তো বেঁচে গেছে।
তুষার উত্তর দিয়েছিলো, “হতে পারে, কিন্তু সময় সবকিছু প্রকাশ করে দিবে। খুনের কথা কখনও চাপা থাকে না।”
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ২৩ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ খ্রি. ২৩ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ












