

সোহাগি, ঈশ্বরগঞ্জ, ময়মনসিংহ
মায়ের কাছে আজও যেন ছোট্ট খোকা আমি,
আদর করে ডাকে মায়ে— আয়রে সোনামণি।
মা যে আমার হীরার খনি, দেখলে তাহার মুখ,
দুঃখগুলো দেয় যে পাখি, পাই যে স্বর্গের সুখ।

কপালে দিয়ে চুমুখানি, দেয় যে কত আশা,
পৃথিবীটা ঘিরে আছে মায়ের ভালোবাসা।
আদর, সোহাগ, স্নেহ ভরা— মা যে মমতাময়ী,
ত্রিভুবনে মা যে তুমি হীরার চেয়েও দামী।
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ধৈর্যের দেয় প্রমাণ,
এ জীবনে মা যে আমার পৃথিবীর সমান।
খুনটা কে করলো?

মিজানুর রহমান রানা :
ইরফান যখন ঢাকার ট্রাফিকের ভেতর হারিয়ে যাচ্ছিল, তখন তার চট্টগ্রামের বাড়িতে সময় থেমে ছিল না। তুরজাহান বেগম। তার মা, এক সময়ের স্কুলশিক্ষিকা, এখন এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধা। আর মধুমিতা ইরফানের স্ত্রী, শহুরে, উচ্চশিক্ষিত, কিন্তু সংসারের গণ্ডিতে বন্দি।
দু’জনের মধ্যে প্রতিদিনই কথার লড়াই হতো। তুরজাহান বলেন, “এই মেয়েটা সংসার জানে না।”
মধুমিতা বলেন, “দম বন্ধ হয়ে যায় আমার, আসলে এই বাড়িটা শ্বাসরুদ্ধ। যেখানে আলো নেই শুধু অন্ধকার।”
ইরফান মাঝখানে। সে চুপ থাকে। সে ভাবে, সময়ই সব ঠিক করে দেবে।
একদিন সে ঢাকায় যায়, পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে। রাতটা কাটে উত্তরার এক হোটেলে। পরদিন সকালবেলা ফোন আসে।
প্রতিবেশী রফিক বলল, “ইরফান ভাই, আপনার মাকে খুন করেছে আপনার স্ত্রী। আমি নিজ চোখে দেখেছি।”
একথা শুনে ইরফান স্তব্ধ হয়ে যায়। তার কণ্ঠ শুকিয়ে যায়। তারপর সে শুধু বলে, “তুমি নিশ্চিত?”
রফিক বলে, “আমি জানি, আপনি বিশ্বাস করতে চাইবেন না। কিন্তু আমি দেখেছি, রাত ৯টার দিকে, আপনার স্ত্রী মধুমিতা ওনার ঘরে ঢুকল। কিছুক্ষণ পর বের হলো। তারপর আর আপনার মা তুরজাহান বেগমের কোনো সাড়া নেই।”
ইরফান ঢাকায় বসে কাঁপতে থাকে। যেনো তার শীত পড়েছে প্রচণ্ড। সে ভাবতে থাকে, এটা কি? মধুমিতা মাকে কীভাবে খুন করতে পারে? এটা কি সম্ভব? যে মেয়েকে অত্যন্ত ভালোবেসে সে বিয়ে করেছিলো সেই কিনা তার মাকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করলো?
সত্য যাছাই করতে সে ফোন করে মধুমিতাকে। মধুমিতা বলে, “না, না। আমি খুন করিনি। হ্যাঁ, ঝগড়া হয়েছিল। কিন্তু আমি রাত ৯টার পর নিজের ঘরে ছিলাম। কেউ হয়তো তোমার মাকে ঘরে ঢুকে মেরে ফেলেছে।”
এরপর খবর পেয়ে পুলিশ আসে। তারা রফিকের কথা শুনে মধুমিতাকে গ্রেফতার করে।
ইরফান বাড়ি ফিরে দেখে, ঘর নিস্তব্ধ। মায়ের রক্ত শুকিয়ে গেছে। স্ত্রী জেলে।
সে বসে থাকে বারান্দায়। তার মনে পড়ে, মা বলতেন, “তোর বউ একদিন আমাকে শেষ করে দেবে।”
আর মধুমিতা বলত, “তোমার মা আমাকে মানুষই ভাবে না। যেনো আমি এই ঘরের কোনো চাকরাণী।”
ইরফান ভাবে খুন কি শুধু ঘৃণার ফল? নাকি ঘৃণার ছায়ায় কেউ সুযোগ নেয়? ইরফান তদন্ত শুরু করে নিজে। সে খোঁজ নেয়, ওইদিন রাতে কে কে এসেছিল বাড়িতে।
সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে রফিকের মোবাইল লোকেশন ছিল না তার নিজের বাসায়। সে ছিল তার মা তুরজাহান বেগমের ঘরের আশেপাশে।
সে আরও খোঁজ নেয়, রফিকের সঙ্গে মায়ের কোনো দ্বন্দ্ব ছিল কি না। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে তুরজাহান বেগম একবার রফিককে চুরি করতে দেখে ফেলেছিলেন। তাকে হুমকি দিয়েছিলেন।
ইরফান বুঝতে পারে, রফিকের “আমি নিজ চোখে দেখেছি” কথাটাই সবচেয়ে সন্দেহজনক। যে খুনি, সে-ই তো প্রথম সাক্ষী হতে চায়।
সে বিষয়টা পুলিশকে জানায়। এ বিষয়ে তদন্ত হয়। রফিক গ্রেফতার হয়। রফিকের মোবাইল, তার জামার রক্তের দাগ, সব প্রমাণ দেয় খুনি রফিক।
দীর্ঘদিন পর মধুমিতা মুক্তি পায়। কিন্তু তার চোখে জল। সে বলে, “তুমি প্রথমে আমার কথা বিশ্বাস করোনি।”
ইরফান চুপ থাকে। সে জানে, বিশ্বাসের অভাবই সবচেয়ে বড় খুন। সে জানে, মা আর নেই। স্ত্রী দূরে চলে গেছে। সে জানে, খুনটা শুধু একজন করেনি।
খুন করেছে সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং সেই সমাজ যেখানে নারীর কণ্ঠকে প্রথমে সন্দেহ করা হয়।
জেল থেকে বের হয়ে মধুমিতা চলে যায় তার বাপের বাড়িতে। ইরফান একা নিঃসঙ্গ। তার মনে হয় রফিকের একটা ভুল ঢিলে দুটো পাখি উড়ে গেলো।
মনের দুঃখে সে রেলস্টেশনে যায়, তারপর বসে থাকে গাড়িটা কখন আসবে। তারপর তার জীবনের সব দুঃখ কষ্টের অনুভূতির অবসান হবে।
এক ঘণ্টা বসে থাকার পর গাড়িটি আসার শব্দ শুনতে পায় সে। সে এবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় মনে মনে। তারপর প্রস্তুতি নেয় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেবার।
এ সময় ট্রেনের জানালা দিয়ে সে মধুমিতাকে দেখতে পায়। ইরফান চমকে উঠে। মধুমিতা!
সে ওয়েটিং রুমের এক কোণে দ্রুত চলে যায়। তারপর রাস্তার দিকে খেয়াল রাখে।
ট্রেন থেকে মধুমিতা নামছে। তার সাথে এক সুদর্শন ছেলে। সে মধুমিতার হাত ধরে তাকে ট্রেন থেকে নামালো।
ইরফান অবাক হয়। মধুমিতার সাথে কোনো প্রকার দ্বন্দ্ব কলহ হয়নি তার। সে শুধু রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেছে। তালাকও হয়নি। তাহলে এই সুদর্শন যুবক কে?
তার ভাবনা শেষ না হতেই মধুমিতা ওই সুদর্শন যুবকের সাথে নিজস্ব গাড়িতে করে দ্রুত চলে যায়।
রফিকের সাথে জেলখানায় দেখা করে ইরফান। ইরফানকে দেখে রফিক প্রশ্ন করে, “কী হইছে ভাইজান? কোর্টে তো রায় হইছে আমার যাবজ্জীবন জেল, আপনার মারে মারার কারণে। এহন আমারে দেখার সাধ হইলে কেন?’’
ফিসফিস করে রফিকের কানে কানে এপাশ থেকে প্রশ্ন করলো ইরফান, “আমাকে সত্যি বল রফিক, আসলে খুন করলো কে?”
রফিক হাসে এক রহস্যময় হাসি। তারপর বলে, “ইরফান ভাই, প্রশ্নটা তো আমারও খুনটা করলো কে?”
সোমবার, ১১ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ২৬ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন












