নীলার রহস্যময় চোখ

মিজানুর রহমান রানা :

নীলা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে ছিলো এক ধরনের শূন্যতা, যেন কোনো অদৃশ্য টান তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে অজানার দিকে। নদীটা ছিলো শান্ত, অথচ তার গভীরে ছিলো এক অস্থিরতা, যেমনটা ছিলো নীলার হৃদয়ে। সে জানতো না যে, আজ রাতটা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

নীলা ছোটবেলা থেকেই নদীর এ পাড়ে বড় হয়েছে। তার বাবা ছিলেন একজন কবি, মা ছিলেন চিত্রশিল্পী। তাদের সংসারে ছিলো রঙ, শব্দ, আর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন একদিন ভেঙে যায়, যখন এক দুর্ঘটনায় তার বাবা-মা দুজনেই প্রাণ হারান। নীলা তখন মাত্র ষোল। আত্মীয়দের ঘরে আশ্রয় নেয়, কিন্তু সেখানে ভালোবাসা ছিলো না, ছিলো শুধু দায়িত্বের বোঝা।

তুষার নদীর ওপারে থাকে। সে একজন সাংবাদিক, কিন্তু তার জীবনও সহজ ছিলো না। ছোটবেলায় সে একবার নদী পার হতে গিয়ে তার ছোট ভাইকে হারায়। সেই ঘটনার পর থেকে নদী তার কাছে শুধু জল নয়, এক ধরনের প্রতিজ্ঞা, সে এই সমাজের অন্ধকারকে আলোকিত করতে চায়।

সেই রাতে, নীলা নদী পার হতে চায়। তার উদ্দেশ্য ছিলো এক আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়া, কিন্তু তার মনে ছিলো এক ধরনের বিদ্রোহ। সে আর সেই শূন্য জীবনে ফিরতে চায় না। সে চায় মুক্তি। কিন্তু সে জানতো না, নদীর মাঝখানে ওঁৎ পেতে আছে একদল ডাকাত. যারা শুধু সম্পদ নয়, মানুষের আত্মাও ছিনিয়ে নেয়।

তুষার সেই রাতে নদীর পাড়ে ছিলো। সে লক্ষ্য করে, এক তরুণী একা নদী পার হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা বলে দেয়, কিছু একটা ঠিক হচ্ছে না। সে নীলার পিছু নেয়, দূর থেকে নজর রাখে।

তিন রাস্তার মোড়ে, হঠাৎ করেই ডাকাতরা ঘিরে ফেলে নীলাকে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার গহনা, নাকফুল, কানের দুল, গলার হার সবকিছু খুলে নেয়। এরপর তারা তার দামি শাড়িটাও খুলে নিতে চায়।

নীলা কাঁপতে থাকে। তার চোখে জল, কিন্তু মুখে প্রতিবাদ। সে চিৎকার করে না, সে শুধু বলে, “আমার শরীর নয়, আমার আত্মা তোমরা নিতে পারবে না।”

এই মুহূর্তে তুষার এগিয়ে আসে। তার হাতে কিছু নেই, কিন্তু তার চোখে ছিলো আগুন। সে ডাকাতদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “এই মেয়েটিকে কিছু হলে, আমি তোমাদের কাউকে ছাড়ব না।”

ডাকাতরা প্রথমে হাসে। একজন বলে, “তুই একা, আমরা সাতজন। কী করবি?”

তুষার বলে, “আমি একা নই। আমার সঙ্গে আছে সত্য, সাহস, আর এই রাতের তারা।”

হঠাৎ দূর থেকে পুলিশের সাইরেন শোনা যায়। তুষার আগে থেকেই খবর দিয়েছিলো। ডাকাতরা দ্বিধায় পড়ে, আর পালিয়ে যায়।

নীলা তখন কাঁপতে কাঁপতে তুষারের হাত ধরে। সে বলে, “তুমি কে?”

তুষার হাসে, “আমি নদীর ওপারের মানুষ। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, আমরা একই পাড়ের।”

তুষার নীলাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে নীলা দেখে, তুষারের ঘরে আছে বই, ছবি, আর মানুষের গল্প। সে দেখে, তুষার শুধু একজন সাহসী মানুষ নয়, একজন স্বপ্নদ্রষ্টাও।

তারা একসঙ্গে সময় কাটাতে থাকে। নীলা তার জীবনের গল্প বলে, তুষার তার স্বপ্নের কথা বলে। একদিন তুষার বলে, “নীলা, তুমি শুধু নদী পার হওনি, তুমি আমার হৃদয়ও পার হয়েছো।”

নীলা চুপ করে থাকে। তারপর বলে, “তোমার হৃদয় কি আমার মতো ভাঙা?”

তুষার বলে, “ভাঙা হৃদয়েই সবচেয়ে বেশি আলো থাকে।”

একদিন তুষার নীলাকে নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রথম দেখা করেছিলো। সে বলে, “নীলা, আমি চাই তুমি আমার জীবনের গল্পের নায়িকা হও। আমি চাই, আমরা একসঙ্গে নদী পার হই, ভবিষ্যতের দিকে।”

নীলা চুপ করে থাকে। তারপর তার চোখে জল আসে। সে বলে, “আমি ভয় পাই, তুষার। আমি হারাতে চাই না।”

তুষার তার হাত ধরে বলে, “ভয় পেলে নদী পার হওয়া যায় না। তুমি আমার সঙ্গে থাকলে, আমি সব ভয় জয় করতে পারি।”

নীলা সম্মতি দেয়। তারা বিয়ে করে।

কিন্তু জীবন সবসময় আলোয় ভরা থাকে না। একদিন তুষার একটি অনুসন্ধানী সংবাদের কাজে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। নীলা পাগলের মতো খুঁজতে থাকে। সে নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকে, তারাভরা রাতের দিকে তাকিয়ে থাকে।

তিন দিন পর, তুষার ফিরে আসে। সে আহত, কিন্তু জীবিত। সে বলে, “আমি হারাইনি, আমি শুধু পথ হারিয়েছিলাম। তোমার স্মৃতি আমাকে ফিরিয়ে এনেছে।”

নীলা তাকে জড়িয়ে ধরে। সে বুঝতে পারে, ভালোবাসা শুধু রোমান্স নয়, এটা প্রতিজ্ঞা।

বছরখানেক পর, তারা আবার নদীর পাড়ে আসে। এবার তারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে। নীলা বলে, “এই নদী আমাদের সাক্ষী। এখানে ভয় ছিলো, অন্ধকার ছিলো, কিন্তু আমরা আলো খুঁজে পেয়েছি।”

তুষার বলে, “তুমি আমার নদী, আমার পাড়, আমার তারা। আর তোমার রহস্যময় দু’চোখ যেনো শান্তির ঝর্ণাধারা।”

নীলা হেসে ওঠে। তারা একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকায়। তারাগুলো যেন তাদের গল্প শুনছে। আর বলছে, “ভালোবাসার মানুষের চোখ দেখেও শান্তি পাওয়া যায়।”

শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ৩০ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
শেয়ার করুন

You might like

About the Author: priyoshomoy