

মিজানুর রহমান রানা :
শহরটা যেন নিঃশব্দে কাঁপছিল। কেউ চিৎকার করছিল না, কেউ প্রতিবাদ করছিল না। তবুও বাতাসে ছিল এক অদৃশ্য চিৎকার ভয়ের। এক সময় এই শহরের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ছিল একটি ভাস্কর্য। দেশের স্থপতির মুখাবয়ব, চোখে ছিল দূরদৃষ্টি, ঠোঁটে দৃঢ়তা। মানুষ সেখানে ফুল দিত, ছবি তুলত, ইতিহাসের গল্প বলত। কিন্তু এখন সেখানে শুধু ধ্বংসাবশেষ।

একদল মানুষ, যারা ভয় পায় ইতিহাসকে, ভয় পায় স্মৃতিকে তারা এক রাতে ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলে। তারপর শুরু হয় এক নতুন রাজত্ব, ভয়ের রাজত্ব।
ইরফান তখন শহরের এক স্কুলে ইতিহাস পড়াত। তার ক্লাসে সে বলত, “ভবিষ্যৎ গড়তে হলে অতীত জানতে হয়।” কিন্তু এখন সে জানে, অতীত জানার চেষ্টাই বিপজ্জনক।
স্কুলের দেয়ালে নতুন নির্দেশনা, “স্থপতির নাম উচ্চারণ নিষিদ্ধ। “ভাস্কর্য বা স্মৃতিস্তম্ভ নিয়ে আলোচনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।” ইরফান বোঝে, ভয় শুধু মানুষের মনে নয়, পাঠ্যবইয়েও ঢুকে গেছে।
মধুমিতা একজন সাংবাদিক। তার কলমে ছিল আগুন, কিন্তু এখন তার ডেস্কে শুধু নীরবতা। সম্পাদক বলেছে, “তুমি যা জানো, তা লিখো না। যা লিখো, তা যেন কেউ না জানে।”
একদিন রাতে, মধুমিতা ইরফানকে ফোন করে।
— “তুমি কি জানো, তারা স্থপতির বাড়িটাও ভেঙে ফেলেছে?”
— “জানি। তারা শুধু ইট ভাঙছে না, স্মৃতি ভাঙছে।”
— “আমরা কি কিছু করতে পারি?”
— “ভয়কে ভয় দেখাতে হবে।”
তারা শুরু করে এক গোপন পরিকল্পনা। একটি দেয়ালচিত্র, স্থপতির মুখ, চোখে আগুন, পেছনে লেখা:
“ভয় নয়, প্রশ্ন করো।”
রাতের আঁধারে তারা দেয়ালচিত্র আঁকে শহরের এক গলিতে। পরদিন সকালে মানুষ থমকে দাঁড়ায়। কেউ ছবি তোলে, কেউ চোখের জল মুছে। কিন্তু বিকেলে মব এসে দেয়ালচিত্র মুছে ফেলে।
তারা বলে, “ভয়কে প্রশ্ন করা মানে শাস্তি চাওয়া।”
ইরফানকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়। অভিযোগ: “রাষ্ট্রবিরোধী চিন্তা ছড়ানো।”
মধুমিতার অফিসে হুমকি আসে। একটি চিঠি: “তোমার কলম ভেঙে ফেলব।”
তারা জানে, ভয় এখন শুধু চোখে নয়, গলায়ও। তবুও তারা থামে না।
তারা চালু করে একটি পডকাস্ট “ভয়ের মুখোমুখি”। সেখানে তারা বলে ইতিহাসের সত্য, তুলে ধরে স্থপতির ভাষণ, জানায় কীভাবে ভয়কে অস্ত্র বানিয়ে মানুষকে দাসে পরিণত করা হয়।
শহরের মানুষ শুনতে শুরু করে। একজন রিকশাওয়ালা বলে, “আমি জানতাম না, তিনি এমন কথা বলেছিলেন।”
একজন কলেজছাত্রী বলে, “আমার দাদু কাঁদতেন তার নাম শুনে।”
ভয় ধীরে ধীরে ফাটল ধরতে শুরু করে।
মব নেতারা ক্ষিপ্ত। তারা ইরফানকে খুঁজে বের করতে চায়। তারা মধুমিতার বাড়ির সামনে আগুন জ্বালায়। তবুও তারা পালায় না। তারা জানে, ভয়কে পালিয়ে জয় করা যায় না।
এক রাতে, তারা শহরের কেন্দ্রে যায়। সেখানে যেখানে ভাস্কর্য ছিল, সেখানে তারা রাখে একটি নতুন ভাস্কর্য, ভাঙা ইট, পোড়া কাঠ, ছেঁড়া বই দিয়ে তৈরি। তার নাম: “ভয়ের মুখোমুখি”।
পরদিন শহর জেগে ওঠে। মানুষ ভাস্কর্য দেখতে আসে। কেউ ফুল দেয়, কেউ ছবি তোলে। মব আসে, কিন্তু এবার মানুষ থামে না। একজন বলে, “তোমরা ভয় দেখাও, আমরা প্রশ্ন করি।”
আরেকজন বলে, “ভয়কে ভয় দেখানোর সময় এসেছে।”
ইরফান ও মধুমিতা জানে, তারা হয়তো হারবে। তাদের পডকাস্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাদের গ্রেপ্তার হতে পারে। তবুও তারা হাসে। কারণ তারা জানে, ভয় আর একা রাজত্ব করছে না।
ভয় কখনও চিরস্থায়ী নয়। যেখানে প্রশ্ন আছে, সেখানে ভয় দুর্বল। যেখানে স্মৃতি আছে, সেখানে সাহস জন্মায়। ইরফান ও মধুমিতা শুধু একটি দেয়ালচিত্র আঁকেনি, তারা আঁকেনি শুধু একটি ভাস্কর্য, তারা জাগিয়ে তুলেছে এক জাতির আত্মপরিচয়।
শুক্রবার, ১৫ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ৩০ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে
স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?
ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ
শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা
যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন
চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন












