একটি থ্রিলার গল্প : ধোঁকা

মিজানুর রহমান রানা :

রাত তিনটা। ইমতিয়াজ ঘুম থেকে জেগে উঠল। ঘড়ির কাঁটা তিনটা ছুঁয়েছে। তার পাশে লাবনী নেই। এই সময়টায় সে সাধারণত তার বুকের পাশে মাথা রেখে ঘুমায়। আজ নেই।

ইমতিয়াজ প্রথমে ভাবল, হয়তো বাথরুমে গেছে। কিন্তু মিনিট পাঁচেক কেটে গেল। কোনো শব্দ নেই। সে উঠে দাঁড়াল।
বাড়ির প্রতিটি ঘর, বারান্দা, রান্নাঘর, স্টোররুম সব খুঁজে দেখল। লাবনী নেই।

ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় লিপস্টিক দিয়ে লেখা: “তুমি যাকে চিনো, সে আমি নই।”

তার বুকের ভেতর হিম হয়ে গেল।  এই হাতের লেখা লাবনীর নয়। এই বাক্যটা অসাধারণভাবে ঠাণ্ডা।

ইমতিয়াজের মনে পড়ে গেল জামশেদের কথা। আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন। যার চোখে ইমতিয়াজ ছিল অতিরিক্ত আলো।
একবার বলেছিল: “তোমার উজ্জ্বল ঘর আমি অন্ধকার করে দিবো।”

তখন ইমতিয়াজ হেসেছিল। আজ সেই হাসি কোথায়?

জামশেদ শুধু অপরাধী নয়, একজন মনস্তাত্ত্বিক খেলোয়াড়। সে জানে, ভয় কিভাবে মানুষের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দেয়। লাবনীকে সরিয়ে দিয়ে সে শুধু ইমতিয়াজের ঘর নয়, তার বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে।

ইমতিয়াজ ভাবতে শুরু করল লাবনী কি অপহৃত? নাকি সে নিজেই এই ধোঁকার অংশ? তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর, কিন্তু মাঝে মাঝে লাবনী এমন কিছু বলত, যা ইমতিয়াজের মনে প্রশ্ন জাগাত।

“সব মানুষ একরকম নয়, ইমতিয়াজ। কেউ কেউ মুখোশ পরে থাকে।

সে কি নিজেই কোনো মুখোশ পরে ছিল?

ইমতিয়াজ পুলিশে যায়নি। সে জানে, জামশেদকে পুলিশ স্পর্শ করতে পারবে না। সে নিজেই খুঁজতে শুরু করল। প্রথমে গেল লাবনীর পুরনো কলেজে। সেখানে এক অধ্যাপক বলল: “লাবনী খুব মেধাবী ছিল, কিন্তু তার অতীত একটু জটিল।”

জটিল?
কী রকম?

এক পুরনো ছবি পাওয়া গেল লাবনী আর জামশেদ একসাথে। কিন্তু ছবির পেছনে লেখা: “যা দেখা যায়, তা সব নয়।”

ইমতিয়াজের ভেতরে দ্বন্দ্ব শুরু হলো। সে কি লাবনীকে সত্যিই চিনত? নাকি সে শুধু এক ধোঁকার প্রতিচ্ছবি?

তার মনে পড়ে গেল, একবার লাবনী বলেছিল: “তুমি যদি আমাকে হারাও, তখনই আমাকে চিনবে।”

এটা কি সেই মুহূর্ত?

ইমতিয়াজ এক রাতে জামশেদের আস্তানায় পৌঁছাল। জামশেদ হাসল।

“তুমি এসেছো? ভালো।  কিন্তু লাবনীকে তুমি খুঁজে পাবে না। কারণ সে তোমার ছিলই না।”

ইমতিয়াজ চিৎকার করে উঠল, “তুমি তাকে কোথায় রেখেছো?”

জামশেদ বলল, “তুমি কি নিশ্চিত, সে অপহৃত হয়েছে?”

ইমতিয়াজ ভাবতে থাকে, সে তো আসলেই জানে না।

এবার জামশেদ হাসলো। বললো, “চা খাবে? নাকি ভুলের জন্য গুলি খাবে?”

পাশে জামশেদের বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড নিয়াজ ও হীরা দাঁড়িয়ে আছে। জামশেদের একটি মাত্র ইঙ্গিতে হাতের পকেটের আগ্নেয়াস্ত্র বেরিয়ে আসবে। তারপর ইমতিয়াজ কিছু বুঝবে না মাটিতে পড়ার আগ পর্যন্ত।

ইমতিয়াজ নিয়াজ ও হীরার দিতে তাকালো। হীরা মেয়েটি অসাধারণ সুন্দর। আর নিয়াজ কুঁচকুচে কালো। সে বুঝতে পারে না, জামশেদ কালো আর সুন্দর পাশাপাশি রেখে কী বুঝাতে চাইছে?

সে কি অন্ধকার দিয়ে আলোকে ঢেকে দিতে চায়? হয়তো বিষয়টাতে সে খুবই মজা পায়।

পরদিন ইমতিয়াজের দরজায় একটি খাম। ভিতরে একটি ভিডিও ক্লিপ। লাবনী নিজেই বলছে: “ইমতিয়াজ, আমি চলে যাচ্ছি কারণ তুমি আমাকে ভালোবাসো, কিন্তু চিনো না। আমি জামশেদের ছায়া থেকে বের হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে আলোতে রাখতে চেয়েছিলে। আমি আলোতে থাকতে পারি না।”

ইমতিয়াজ স্তব্ধ। সে বুঝল, ধোঁকা শুধু জামশেদের নয়, লাবনীর নিজের ভেতরের দ্বন্দ্বও ছিল।

ইমতিয়াজ এক পাহাড়ের পাদদেশে সাগরের পাশে গিয়ে বসে। এখানে লাবনীকে নিয়ে হানিমুনে এসেছিলো প্রথম। একটা ল্যাম্পেস্ট আছে। সে ল্যাম্পেস্টের আলোতে গিয়ে দাঁড়ালো। দূরে সাগরের মাঝে আলো আর অন্ধকারের খেলা।

সে এখনো লাবনীকে খোঁজে না। সে খোঁজে নিজেকে। তার ঘরে এখনো আয়নায় সেই লিপস্টিকের বাক্য লেখা: “তুমি যাকে চিনো, সে আমি নই।”

কিন্তু সে এখন জানে সে নিজেও নিজেকে চিনত না। ইমতিয়াজ ভাবতে থাকে, “ধোঁকা কখনো শুধু অন্যের হয় না। কখনো কখনো, আমরা নিজের সাথেই প্রতারণা করি।”

এ সময় হঠাৎ করেই জামশেদের কল এলো। নিয়াজ রিসিভ করবে কিনা ভাবছে। হঠাৎ করেই রিসিভ করে বসলো। তারপর শুনলো, লাবনীর কণ্ঠ।

“ভালো থেকে ইমতিয়াজ। আমরা এখন বাংলাদেশে নেই। চলে এসেছি কানাডায়, যেখানে থাকবো জামশেদ আর আমি। ওহ পাশে নিয়াজ ও হীরাও রয়েছে আমাদের আপ্যায়নের জন্যে। তুমি আমার চেয়ে উত্তম কাউকে খুঁজে নিও।”

ইমতিয়াজ কিছু বললো না। লাইন কেটে দিলো। তারপর সাগরের ঢেউয়ের দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকলো।

পরদিন ঘুম ভাঙলো সাগর পাড়ের বালুকাময় এলাকায়। ঘুম থেকে উঠে চোখ খুলতেই দেখতে পেলো পাশে শুয়ে আছে লাবনী। কিন্তু মৃত! নাকে শ্বাস নেই, কোনো নড়াচড়া নেই। বিকিনি পরা, যেনো এই মাত্র সমুদ্রের জল থেকে ভিজে উঠে এসেছে।

ঠিক সেই সময়েই জামশেদের কল এলো। জামশেদ হাসছে। তারপর বলতে লাগলো, “আমি বলেছিলাম না? তোমাকে অন্ধকার করে দিবো, তোমার সব আলো নিভে যাবে। কেউ পাশে থাকবে না।”

ইমতিয়াজ দাঁতে দাঁত চেপে উত্তর দিলো, “জামশেদ, তুমি যেখানেই থাকো, প্রস্তুত হয়ে থাকো। আমি শীঘ্রই আসবো…।

সাগরের পাড়ে লাবনীর মৃতদেহের পাশে বসে ইমতিয়াজ যখন চোখ বন্ধ করে, তখন হঠাৎ তার মোবাইলে একটি বার্তা আসে:

ইমতিয়াজ চমকে উঠে। সে মৃতদেহের দিকে তাকায়, কিন্তু সেখানে কেউ নেই। শুধু একটি লাল গোলাপ রাখা, আর পাশে একটি ছোট্ট নোট: “ইমতিয়াজ আসলেই আমি তোমাকে ভালোবাসি, গত ক’দিন যা কিছুই হয়েছে সবই ছিলো জামশেদের একটা খেলা মাত্র। আসলে জামশেদ বাংলাদেশেই আছে, আর সেটা হোটেল প্রবালের ৩৪ নাম্বার রুমে।”

ধীরে ধীরে ইমতিয়াজ গোলাপটা তুলে নেয়। তাকে অস্বাভাবিক গন্ধ। সেই গন্ধে ধীরে ধীরে সে জ্ঞান হারাচ্ছে। সে বুঝতে পারছে এটাও জামশেদের একটা চাল। আস্তে আস্তে তার চোখ বন্ধ হয়ে এলো। এ সময় দূরে কোথায়ও জামশেদ জোরে হেসে উঠলো।

তুষার আহমেদ রুবিনার সাথে কথা বলছিলো, হঠাৎ রুবিনা প্রশ্ন করে, “আসলে দু’দিন ধরে ইমতিয়াজ ভাইকে দেখছি না, সে কোথায়?”

তুষার ইমতিয়াজের মোবাইলে কল করে, কিন্তু উত্তর আসে, “এই মুহূর্তে নাম্বারটি ব্যস্ত আছে।”

 

শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫ খ্রি., ৩১ শ্রাবণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে সংবাদ জনপ্রিয় করবেন যেভাবে

ইউটিউব থেকে আয় করার উপায়

সোরিয়াসিস হলে কী করবেন?

স্ক্যাবিস বা চুলকানি থেকে রক্ষা পেতে কী করবেন?

ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

চর্মরোগ দাউদ একজিমা বিখাউজের কারণ ও প্রতিকার জেনে নিন

শেয়ার করুন

শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
শেয়ার করুন
————

You might like

About the Author: priyoshomoy